বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারত-রাশিয়া (India-Russia) সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েই শেষ হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi-Vladimir Putin) এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। শুক্রবার নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলে দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনা। বৈঠকের আগে দুই নেতার সাক্ষাতের মুহূর্তও ছিল বেশ উষ্ণ। ভারত মণ্ডপমে পৌঁছে একে অপরকে অভিবাদন জানান মোদী ও পুতিন, এরপর আলিঙ্গনও করেন তাঁরা। বৈঠকে দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারিত্বের পাশাপাশি বাণিজ্য, শিল্প, জ্বালানি, পরমাণু শক্তি, সার, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং দক্ষ কর্মশক্তির মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পায়।
মোদী-পুতিনের (Narendra Modi-Vladimir Putin) বৈঠকে কোন কোন বিষয়ে হল আলোচনা?
দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে শিল্প ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খোঁজার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি ভারত মণ্ডপমেই অনুষ্ঠিত প্রথম INNOPROM India শিল্পমেলায় ভারত ও রাশিয়ার বিভিন্ন সংস্থা, প্রযুক্তি সংস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে রেল, টানেল নির্মাণ, ইস্পাত শিল্প এবং উৎপাদন ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় সংস্থাগুলি যাতে রুশ বাজারে আরও সহজে প্রবেশ করতে পারে এবং দুই দেশের মধ্যে B2B যোগাযোগ বাড়ে, সেই বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যও এই বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আরও পড়ুন: ভারতের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান! ব্রিকস সম্মেলনে আসছেন না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, কী জানাল ঢাকা?
আলোচনায় বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, জ্বালানি চক্র এবং প্রকল্পগুলির দীর্ঘমেয়াদি জীবনচক্র সহায়তার মতো বিষয়েও দুই দেশের সমন্বয় বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সার সরবরাহ ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে এই ক্ষেত্রে সহযোগিতা বজায় রাখার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। রাশিয়া ইতিমধ্যেই ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সার সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে এবং চলতি বছরে দুই দেশের মধ্যে এই বাণিজ্য আরও বেড়েছে। একইসঙ্গে অত্যাবশ্যকীয় ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও ভবিষ্যতের শিল্প ও প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু বড় শিল্প বা জ্বালানি ক্ষেত্র নয়, দুই দেশের মধ্যে দক্ষ কর্মশক্তির যাতায়াত এবং গতিশীলতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। রাশিয়ায় ভারতীয় দক্ষ কর্মীদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ইস্পাত শিল্পে কাঁচামাল, প্রযুক্তি, গবেষণা এবং উন্নত মানের উৎপাদন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। INNOPROM India-তেও ইস্পাত ও খনিজ ক্ষেত্রের পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে সহযোগিতার সম্ভাবনা সামনে এসেছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক এখন আর শুধুমাত্র ঐতিহ্যগত ক্ষেত্রগুলিতে সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিজয় মালিয়ার সম্পত্তি বেচে উদ্ধার ঋণের দ্বিগুণেরও বেশি টাকা! কী জানাল ED?
বৈঠকে কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। মোদী পুতিনকে তামিল কবি ও দার্শনিক তিরুভল্লুভারের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ অনুবাদ উপহার দেন। ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে রুশ পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এই উপহার দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের সাংস্কৃতিক দিকটিকেও তুলে ধরে। বৈঠকের আগে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে ‘বিশেষ ও সুবিধাপ্রাপ্ত কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এর ভিত্তিতে গড়ে ওঠা দীর্ঘস্থায়ী ও বহুমুখী সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। অর্থনীতি, জ্বালানি, শিল্প ও প্রযুক্তির নতুন ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ সেই সম্পর্ককেই আগামী দিনে আরও গভীর করার ইঙ্গিত দিচ্ছে (Narendra Modi-Vladimir Putin)।













