বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিজয় মালিয়ার (Vijay Mallya) সম্পত্তি বিক্রি করে এখনও পর্যন্ত ১৪,১৩১.৬০ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে বম্বে হাই কোর্টে (Mumbai High Court) জানিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি (ED)। চমকপ্রদ বিষয় হল, ভারতের ব্যাঙ্কগুলির কাছে মালিয়ার বকেয়া হিসেবে যে ৬,২০৩ কোটি টাকার কথা বলা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া অর্থ তার দ্বিগুণেরও বেশি। তবে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হলেও পলাতক ঋণখেলাপি বিজয় মালিয়ার বিরুদ্ধে চলা মামলা বা তদন্ত বন্ধ করার কোনও প্রশ্নই নেই বলে আদালতে স্পষ্ট করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডির বক্তব্য, ঋণদাতাদের টাকা ফেরত পাওয়া এবং আর্থিক অপরাধের দায়—দু’টি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
বিজয় মালিয়ার (Vijay Mallya) সম্পত্তি বেচে উদ্ধার ঋণের দ্বিগুণেরও বেশি টাকা!
বম্বে হাই কোর্টে মালিয়ার (Vijay Mallya) আইনজীবীরা তাঁর বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলি প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। সেই আবেদনের বিরোধিতা করে ইডি জানিয়েছে, শুধু সম্পত্তি বিক্রি করে ঋণের টাকা উদ্ধার হয়ে গেলেই অভিযুক্ত ব্যক্তি ফৌজদারি দায় থেকে মুক্তি পেতে পারেন না। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, আর্থিক অপরাধ সংক্রান্ত আইনে মালিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। উদ্ধার হওয়া টাকা ব্যাঙ্ক বা অন্যান্য ঋণদাতাদের কাছে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই অর্থ ফেরত আসার সঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের অভিযোগের কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা না করা এবং ভারতে ফিরে না আসার বিষয়টিও আদালতের সামনে তুলে ধরেছে ইডি।
আরও পড়ুন: এবার দেবীর আগমন গমন কিসে? কী প্রভাব পড়বে সামাজিক পরিস্থিতিতে?
এর মধ্যেই সম্প্রতি ব্রিটেন থেকে বিজয় মালিয়া দাবি করেছিলেন, তাঁকে ‘ভাগোড়া’ বলা ঠিক নয়। তাঁর বক্তব্য ছিল, ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলির কাছে তাঁর যে পরিমাণ টাকা বকেয়া রয়েছে, তার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ ইতিমধ্যেই ভারতীয় এজেন্সিগুলি উদ্ধার করেছে। মালিয়ার হিসাব অনুযায়ী, তাঁর বকেয়া ছিল ৬,২০৩ কোটি টাকা, যেখানে বিভিন্ন সম্পত্তি ও অন্যান্য পদক্ষেপের মাধ্যমে ১৪,১৩১.৬০ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ইডিও আদালতে এই উদ্ধার হওয়া অর্থের অঙ্কের কথা জানিয়েছে। তবে তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই হিসাবকে সামনে রেখে মালিয়া মূল আর্থিক অপরাধের বিষয়টি থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছেন।
বিজয় মালিয়ার বিরুদ্ধে মামলার সূত্রপাত কিংফিশার এয়ারলাইন্সের বিপুল ঋণকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, সংস্থাটির জন্য ১৭টি ভারতীয় ব্যাঙ্কের কাছ থেকে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। সেই ঋণ পরিশোধে সমস্যা তৈরি হওয়ার পর ২০১৬ সালের মার্চে দেশ ছাড়েন কিংফিশারের কর্ণধার। পরে তাঁকে পলাতক ঋণখেলাপি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল লন্ডনে তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। ভারতীয় মামলার ভিত্তিতে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড তাঁকে গ্রেফতার করলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকে তাঁকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত।

আরও পড়ুন: মমতাকে নন্দীগ্রামে চাইছে ঋতব্রত শিবির, কেন? সামনে এল আসল কারণ
মালিয়ার (Vijay Mallya) প্রত্যর্পণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রক্রিয়া চললেও এখনও তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। মালিয়ার বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে বকেয়া ঋণের যে অঙ্ক তুলে ধরা হচ্ছে, তা নিয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে এবং তিনি বর্তমানে ব্রিটেনের নাগরিক। সেই কারণেই দেশে ফেরার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন। তবে ইডির অবস্থান স্পষ্ট—ঋণের টাকা উদ্ধার হওয়া নিঃসন্দেহে ঋণদাতাদের জন্য বড় বিষয়, কিন্তু তার সঙ্গে আর্থিক অপরাধের তদন্তের কোনও আপস হতে পারে না। ফলে সম্পত্তি বিক্রি করে ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি উদ্ধার হলেও বিজয় মালিয়ার বিরুদ্ধে চলা আইনি লড়াই এখনই থামছে না।













