বাংলা হান্ট ডেস্ক: ইতিমধ্যেই FASTag ভারতে টোল আদায়ের পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এর মাধ্যমে টোল প্লাজাগুলিতে (Toll Plaza) অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং নগদ টাকা বা খুচরো টাকা বহনের ঝামেলাও দূর হয়েছে। এই আবহেই এবার একটি বর্ডার আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে, সারা দেশের টোল প্লাজাগুলিতে কোনও ব্যারিয়ার থাকবে না এবং যানবাহনগুলি না থেমেই চলাচল করতে পারবে। সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ হল যানবাহনগুলিকে যেন টোল প্লাজায় একেবারেই থামতে না হয়, তা নিশ্চিত করা। ইতিমধ্যেই এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপিত করেছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও জাতীয় মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি (Nitin Gadkari)। শুক্রবার গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্টে (Global Fintech Fest) তিনি বলেন, সরকার এমন একটি হাইওয়ে সিস্টেম তৈরি করতে চায় যেখানে ডিজিটাল পেমেন্ট সহজ হবে, এবং যানবাহনগুলিকে টোল পয়েন্টে থামতে হবে না। এই প্রযুক্তিটি অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত উভয় সুবিধাই দেবে।
টোল প্লাজায় (Toll Plaza) থাকবে না কোনও ব্যারিয়ার:
FASTag-এর সুবিধা: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছেন, ভারত একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং ব্যারিয়ার ফ্রি টোল কালেকশন সিস্টেমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হল যানবাহন থামানো বন্ধ করা, জ্বালানি খরচ কমানো এবং টোল পরিচালনার ব্যয় হ্রাস করা। এর জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে টোল প্লাজায় মাল্টি-লেন ফ্রি ফ্লো (MLFF) ব্যবস্থা চালু হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, FASTag চালু হওয়ার পর টোল প্লাজাগুলিতে অপেক্ষার সময় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কমে গেছে। আগে এতে ১২ মিনিট এবং কিছু ক্ষেত্রে ৩০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগত। সরকার এখন অবশিষ্ট বিলম্ব দূর করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। টোল প্লাজাগুলিতে অপেক্ষার সময় কমার ফলে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত উভয় প্রকার সুবিধাই সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুততর টোল আদায়ের ফলে বছরে আনুমানিক ৭১ কোটি শ্রমঘণ্টা সাশ্রয় হবে এবং অর্থনৈতিকভাবে বছরে প্রায় ৬৮,৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

জানিয়ে রাখি যে, নিতিন গড়করি বলেছেন, FASTag মোবিলিটির ক্ষেত্রে ভারতের ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের একটি অপরিহার্য অংশ। তবে, সরকার এই সিস্টেমকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। MLFF-এর অধীনে, যানবাহনগুলি কোনও রকম ফিজিক্যাল ব্যারিয়ার ছাড়াই টোল পয়েন্ট অতিক্রম করতে পারবে। সিস্টেমটি ফেব্রুয়ারির মধ্যে চালু হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে এবং এটি টোল প্লাজাগুলির অপারেশন ও মেইন্টেনেন্স খরচ কমাতেও সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন: অবসরের পরেই বড় চমক! ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় নতুন পদক্ষেপ মেসির, কিনতে চলেছেন এই ক্লাব
ফিনটেকের সুযোগ: উল্লেখ্য যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন ডিজিটাল টোলিংয়ের সম্প্রসারণ ফিনটেক কোম্পানিগুলির জন্যও একটি বড় সুযোগ তৈরি করছে। এর কারণ হল, FASTaG, যানবাহনের রেকর্ড, ইন্স্যুরেন্স এবং ব্যাঙ্কিং সিস্টেম ক্রমশ একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে। FASTag, VAHAN-এ যানবাহনের ডেটাবেস, ইন্স্যুরেন্স এবং ব্যাঙ্কিংকে একটি বৃহত্তর ডিজিটাল মোবিলিটি ইকোসিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে বর্ণনা করে তিনি বলেন যে, শুধু প্রযুক্তিই যথেষ্ট হবে না।
আরও পড়ুন: গোটা ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিলেন কুলদীপ যাদব! অবলীলায় ১০ উইকেট নিয়ে গড়লেন নজির
তাঁর মতে, ভারতের ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার নির্মাণে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও সম্পদের মতোই আস্থা, স্বচ্ছতা এবং সদিচ্ছা সমান গুরুত্বপূর্ণ। টোলিং বাজারে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আরও কোম্পানির এই সেক্টরে প্রবেশ করা এবং পরিষেবার মান উন্নত করা উচিত।













