আকাশে চপার-ড্রোন! সর্বত্র মোতায়েন শার্প শুটার, ব্রিকস ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিল্লিতে

Published on:

Published on:

Tight security in Delhi for the BRICS Summit 2026.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ব্রিকস সম্মেলনকে (BRICS Summit 2026) কেন্দ্র করে কার্যত নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে নয়াদিল্লিকে (New Delhi)। রাজধানীর আকাশে নিয়মিত চক্কর কাটছে ভারতীয় বায়ুসেনার টহলদারি চপার, সঙ্গে চলছে নজরদারি ড্রোনের ব্যবহার। মাটিতেও পরিস্থিতি একেবারে আলাদা নয়। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, উঁচু বহুতল, হোটেল এবং সম্মেলনস্থলের আশপাশে মোতায়েন করা হয়েছে সাদা পোশাকের সশস্ত্র পুলিশ ও শার্প শুটার। সামান্য সন্দেহজনক গতিবিধি চোখে পড়লেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। ভারত মণ্ডপমের পাশাপাশি বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিরা যে সমস্ত হোটেলে থাকছেন, সেই এলাকাগুলিতেও নিরাপত্তা কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ নজরে রয়েছে লীলা প্যালেস, তাজমহল ও দ্য ললিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ হোটেল সংলগ্ন এলাকা।

ব্রিকস সম্মেলন (BRICS Summit 2026) ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিল্লিতে:

নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই কড়াকড়ির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। চিন, রাশিয়া ও ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি অতিথি ব্রিকস সম্মেলনে (BRICS Summit 2026) যোগ দিতে দিল্লিতে উপস্থিত থাকায় কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা চাইছে না কেন্দ্র। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তরফে দিল্লি পুলিশকে কিছু ‘স্পেসিফিক অ্যাকশনেবল ইনপুট’ দেওয়া হয়েছে। সেই ইনপুটের ভিত্তিতে ব্রিকসের মতো আন্তর্জাতিক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের সময় দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় কম মাত্রার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সম্ভাব্য হুমকির কথা মাথায় রেখে ভারত মণ্ডপম ও আশপাশের এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চলছে। দিল্লি মেট্রোতেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান-বাংলাদেশের উড়ল ঘুম! জিনপিং ভারতে পৌঁছনোর আগেই বন্ধুত্বের বার্তা দিল চিন

এর পাশাপাশি কোনও ধরনের আকস্মিক প্রতিবাদ বা ‘ফ্ল্যাশ প্রোটেস্ট’-এর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। বিশেষ করে সম্মেলনস্থলের আশপাশে চিন বা রাশিয়া-বিরোধী গ্রাফিতি কিংবা আপত্তিকর বার্তা যাতে প্রকাশ্যে না আসে, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের সাইবার সেলও সক্রিয় রয়েছে। এর আগে ভারত মণ্ডপমেই আয়োজিত এআই সামিট চলাকালীন আচমকা একদল তরুণ মঞ্চে উঠে প্রতিবাদ দেখিয়েছিলেন। তাঁদের সেই বিক্ষোভের ছবি দ্রুত আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। জি-২০ এবং এআই সামিটের তুলনায় ব্রিকসের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আঁটসাঁট করা হয়েছে বলেই প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

নিরাপত্তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন যাতে সম্পূর্ণ অচল না হয়ে যায়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। ব্রিকস সম্মেলনের কারণে দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। আকবর রোড, রাইসিনা হিলস, মানসিং রোড, অশোকা রোড, ফিরোজ শাহ রোড, ইন্ডিয়া গেট, বিজয় চক, কর্তব্য পথ এবং চাণক্যপুরী-সহ প্রায় ৩৫টি রাস্তায় পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ ও ডাইভারশন রাখা হয়েছে। দিল্লিবাসীকে আগেই এই পরিবর্তন সম্পর্কে জানানো হয়েছে। বিকল্প রুট দিয়ে যানবাহন চালানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে, যাতে সম্মেলনস্থল ও ভিভিআইপি চলাচলের রুটে নিরাপত্তা বজায় রেখেও সাধারণ মানুষের যাতায়াত যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখা যায়।

Tight security in Delhi for the BRICS Summit 2026.

আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরের কিস্তির আগেই কমল টাকা না পাওয়া মহিলাদের চিন্তা! অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে এবার বড় আশ্বাস

ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে। ব্রিকস সম্মেলন চলাকালীন কোন রাস্তা বন্ধ, কোথায় ডাইভারশন এবং কোন বিকল্প পথে যাওয়া যাবে—সেই তথ্য দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গুগল ম্যাপস ও ম্যাপলসের সঙ্গে সমন্বয় করেছে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্র্যাফিক) দীনেশ কুমার গুপ্তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাস্তায় পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাপগুলিকে দ্রুত লাইভ আপডেট দেওয়া হবে। ফলে বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে সাধারণ মানুষ নিজেদের যাত্রাপথ সম্পর্কে আগাম তথ্য পেতে পারবেন। একদিকে রাষ্ট্রপ্রধানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে রাজধানীর স্বাভাবিক জনজীবন সচল রাখা—ব্রিকস সম্মেলন (BRICS Summit 2026) ঘিরে দিল্লি প্রশাসনের সামনে এখন এই দুই চ্যালেঞ্জই সমান গুরুত্বপূর্ণ।