‘পড়াশোনা জানি না বলে অপমান’, বসিরহাট জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন রেখা পাত্র

Published on:

Published on:

Rekha Patra openly vented her anger against the Basirhat district leadership
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বিজেপির সংগঠনের ভিতরে মতপার্থক্য এবার প্রকাশ্যে এনে ফেললেন হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক রেখা পাত্র (Rekha Patra)। বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে দলের শীর্ষস্তরের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, শিক্ষাগত যোগ্যতাকে কেন্দ্র করে তাঁকে বারবার হেনস্থার পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এমনকি দলীয় কর্মসূচিতেও তাঁকে ডেকে অপমান করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বিধায়ক।

ক্ষোভ উগরে কী বললেন বিজেপির রেখা পাত্র (Rekha Patra)?

রেখার রাজনৈতিক উত্থানের নেপথ্যে জড়িত সন্দেশখালির আন্দোলন। তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানকে ঘিরে সেই আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। এরপর ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বসিরহাট থেকে তাঁকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। নির্বাচনে জয় অধরা থাকলেও বিধানসভা নির্বাচনে ফের দলীয় টিকিট পান রেখা। হিঙ্গলগঞ্জ কেন্দ্র থেকে এবার নির্বাচিত হয়ে বিধায়ক হয়েছেন তিনি।

নির্বাচনে জয়ের পরও অবশ্য জেলা সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি বলেই তাঁর বক্তব্য। জেলা নেতৃত্বের কর্মসূচিতে তাঁকে নিয়মিত দেখা যায় না কেন, সেই প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কথায় রেখা বলেন, “জেলা থেকে আমাকে ভুল পথে চালিত করা হয়। তাই আমি জেলার কোনও অনুষ্ঠানেই যাই না। নিজের বিধানসভায় থেকে কাজ করি। এটা আমার দল, আমি এত দিন কিছু বলিনি। দলের কাছে যেন বার্তাটা পৌঁছোয়। দল যেন ঠিকঠাক বিচার করে সিদ্ধান্ত নেয়। আমি পড়াশোনা জানি না বলে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার কমিটি আমাকে ভুল পথে চালিত করে। সবসময় অপমান করে। অনুষ্ঠানে ডেকেও অপমান করা হয়। এগুলো আমার পছন্দ হয় না।”

তবে জেলা স্তরে কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকলেও নিজের কেন্দ্রের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে তিনি দূরে নেই বলে দাবি করেছেন বিধায়ক। রেখা বলেন, “হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায় কোথায় কোন অনুষ্ঠানে আমি যাচ্ছি, সেটা সেখানকার মণ্ডল ও বুথ জানে। আমি সব জায়গায় যাই। হয়তো সমাজমাধ্যমে সব পোস্ট করা হয় না। কারণ, আমি সেই সমস্ত নেতার মতো নই, যাঁরা রাজনীতিতে ভেসে থাকার জন্য, বড় নেতা হওয়ার জন্য নিজেকে সারাক্ষণ সমাজমাধ্যমে ভাসিয়ে রাখেন। আমি তেমন রাজনীতি করতে আসিনি। আমার দফতরে ভোর ৫টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনেক ভিড় হয়। মানুষ নানা সমস্যা নিয়ে আসে।”

জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে এতটা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও বিজেপির প্রতি তাঁর আস্থা কমেনি বলেই স্পষ্ট করেছেন রেখা। তাঁর কথায়, “সাংগঠনিক জেলা কী করল, মণ্ডল স্তরে বা বুথ স্তরে কর্মীরা কে কী করল, তার জন্য দল থেমে থাকে না। দল তার মতো চলে। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার আরও উচ্চ স্তরে যাবে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকার কাজ করছে। এক সেকেন্ডও সময় নেয়নি কাজ শুরু করতে।”

Rekha Patra openly vented her anger against the Basirhat district leadership

আরও পড়ুন : জনতার পাশে, জনতার বিধায়ক তরুণজ্যোতি, সরাসরি পৌঁছে যাবে অভিযোগ, চালু ওয়েবসাইট

রেখা পাত্রের অভিযোগ অবশ্য সরাসরি স্বীকার করেনি জেলা নেতৃত্ব। বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্যের দাবি, বিধায়ক হিসেবে যে মর্যাদা তাঁর প্রাপ্য, তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংগঠনের তরফে কোনও কার্পণ্য করা হয়নি। এই প্রসঙ্গে সুকল্যাণ বৈদ্য বলেন, “জেলা কমিটির কর্মী, বিধায়ক হিসাবে যে সম্মান ওঁর প্রাপ্য, আমরা সবসময় তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ওঁর হয়তো কিছু মনে হয়েছে, সেটা ওঁর ব্যাপার। তা নিয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই। সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন। আগামী দিনে একসঙ্গেই লড়াই করব। দলের বড়রা আছেন, তাঁরা দেখছেন। তাঁরা যা বলবেন, সেই মতো কাজ করব।” অভিযোগ এবং পাল্টা বক্তব্যের মধ্যেই এখন নজর বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে। সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন থাকায় হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক এবং বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বের মধ্যে তৈরি হওয়া এই দূরত্ব কীভাবে মেটানো হয়, সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলের আগ্রহের বিষয়।