যুদ্ধের সময়েও কমেনি সাজসজ্জা! ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর চুলের স্টাইল থেকে মেকআপে খরচ ৪ কোটি

Published on:

Published on:

Benjamin Netanyahu spends 40 million on his hair style and makeup!
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) সাজসজ্জার খরচের হিসাব দেখে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ ইজরায়েলবাসীর। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফর, বৈঠক কিংবা আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিতির সঙ্গে পোশাক-পরিচ্ছদ এবং ব্যক্তিগত সাজসজ্জার কিছু খরচ জড়িয়ে থাকতেই পারে। কিন্তু সেই খরচের অঙ্ক যদি কোটি টাকায় পৌঁছয়, তাহলে তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। ইজরায়েলে (Israel) প্রকাশ্যে আসা সরকারি নথি ঘিরে এখন তেমনই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের অগস্ট পর্যন্ত সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর হেয়ার স্টাইলিং, মেকআপ এবং সরকারি প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে যুক্ত পোশাকের পিছনে প্রায় ৪ লক্ষ ৭০ হাজার ডলার খরচ হয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই মোট খরচের প্রায় ৯০ শতাংশই প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্কিত।

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) নিজের চুলের স্টাইল থেকে মেকআপে খরচ করেন ৪ কোটি!

এই খরচের হিসাব সামনে আসার পিছনেও রয়েছে দীর্ঘ আইনি লড়াই। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় ‘মুভমেন্ট ফর ফ্রিডম অফ ইনফরমেশন’-এর পক্ষে আইনজীবী জারা উইঙ্কলার-শালিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়ে মামলা করেন। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর দফতরকে শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট হিসাব প্রকাশ করতে হয়। নথি বলছে, ২০২২ সালে নাফতালি বেনেট এবং ইয়ায়ির লাপিদের সময়ে চুল ও মেকআপের খাতে খরচ হয়েছিল প্রায় ৮৪ হাজার শেকেল, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৬.৩৪ লক্ষ টাকা। কিন্তু ২০২৩ সালে নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) ফের ক্ষমতায় আসার পর সেই খরচ অনেকটাই বেড়ে যায়। ওই বছর শুধু হেয়ার ও মেকআপের জন্য প্রায় ৩ লক্ষ ১১ হাজার শেকেল বা প্রায় ৯৭.৫২ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছিল। গোটা বছরে এই খাতে মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১ লক্ষ ৩ হাজার ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৯৮.৩৮ লক্ষ টাকা।

আরও পড়ুন: ১৫ লক্ষ টাকা চাওয়ার অভিযোগ, গ্রেফতারির আশঙ্কায় হাই কোর্টে কীর্তি আজাদ

সবচেয়ে বেশি খরচের ছবি দেখা গিয়েছে ২০২৫ সালে। ওই বছর নেতানিয়াহুর চুল সাজানো এবং মেকআপের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ১ লক্ষ ১১ হাজার ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ৬ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এমনকি ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও এই খাতে খরচ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে নেতানিয়াহুর হেয়ার স্টাইলিংয়ের পিছনে প্রায় ২,৬০০ ডলার এবং মেকআপে প্রায় ১,৫৮০ ডলার খরচ হয়েছিল। শুধু অক্টোবর মাসেই তাঁর চুল সাজানোর জন্য ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২,৪৫৭ শেকেল, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৭ হাজার টাকা। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রেও ছিল উল্লেখযোগ্য ব্যয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চার দিনের ওয়াশিংটন সফরে চুল ও মেকআপ বাবদ প্রায় ১৩,৫০০ ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১২.০৯ লক্ষ টাকা খরচ হয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ওয়াশিংটন সফরে একই খাতে খরচ হয়েছিল প্রায় ১১,৫০০ ডলার বা প্রায় ১০.৯৯ লক্ষ টাকা।

শুধু চুল ও মেকআপ নয়, সরকারি প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য খরচের হিসাবও প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি কাজের প্রয়োজনে পোশাক এবং অতিথি আপ্যায়নের মতো খরচ রয়েছে। নথি অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রে এই খাতে মোট ব্যয় প্রায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা। তুলনায় নাফতালি বেনেটের ক্ষেত্রে খরচ ছিল প্রায় ১৯ হাজার ডলার এবং ইয়ায়ির লাপিদের ক্ষেত্রে প্রায় ২,৬০০ ডলার। তবে প্রকাশিত নথির সব তথ্য এখনও পুরোপুরি সামনে আসেনি। কিছু অংশ মুছে দেওয়া হয়েছে এবং নেতানিয়াহুর হেয়ার স্টাইলিস্ট ও মেকআপ আর্টিস্টদের নামও প্রকাশ করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তাঁদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

Benjamin Netanyahu spends 40 million on his hair style and makeup!

আরও পড়ুন:দক্ষিণবঙ্গে বাড়ছে গরম! বর্ষার বিদায় কবে? দিনক্ষণ জানিয়ে দিল আবহাওয়া দপ্তর

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ইজরায়েলি সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন ‘মুভমেন্ট ফর ফ্রিডম অফ ইনফরমেশন’-এর CEO হিদ্দাই নেগেভ। তাঁর অভিযোগ, আদালতের হস্তক্ষেপ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি খরচের তথ্য প্রকাশ করতে প্রধানমন্ত্রীর দফতর বারবার গড়িমসি করেছে। তাঁর বক্তব্য, সরকারি অর্থ কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত টাকা নয়। ফলে জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি আধিকারিকদের সেই অর্থ খরচের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) চুল, মেকআপ থেকে শুরু করে সরকারি পোশাক ও প্রতিনিধিত্বের খরচের এই হিসাব ইজরায়েলে নতুন করে সরকারি অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।