‘রাজনৈতিক সমাজের বাইরে বেরিয়ে মেধার মর্যাদা দিতে হবে’, সাফ বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

Published on:

Published on:

Samik Bhattacharya BJP
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা পরিকাঠামো থেকে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে এদিন বড় মন্তব্য করলেন বিজেপির (BJP) রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। তথাকথিত রাজনৈতিক সমাজ থেকে বেরিয়ে আসার বার্তা দিয়ে তিনি বললেন, যে কোনো দলের সমর্থক, যে কোনো নেতার অনুগামী, কোন চিকিৎসক কত দ্রুত কোন মন্ত্রীর কাছে পৌঁছে যেতে পারে সেটাই তার প্রতিভার মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

রাজনৈতিক সমাজের বাইরে বেরিয়ে মেধার মর্যাদা দিতে হবে : শমীক ভট্টাচার্য

এপ্রসঙ্গে তিনি আরও বললেন, ‘এই রাজনৈতিক সমাজের বাইরে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। মেধার মর্যাদা দিতে হবে। যে পশ্চিমবঙ্গ বা যে অবিভক্ত বাংলাদেশ একদিন গ্লোবাল জিডিপির ৫% কন্ট্রিবিউট করতো, যে পশ্চিমবঙ্গ একদিন শিল্পায়নে মহারাষ্ট্রের সাথে প্রতিযোগিতায় ছিল আজ মহারাষ্ট্রের এফডিআই ৩১.৬ আর পশ্চিমবঙ্গের .৬।

একইসাথে তাঁর আরও সংযোজন, ‘আমাদের এখান থেকে মেধা বাইরে চলে যাচ্ছে, ছাত্র বাইরে চলে যাচ্ছে, চিকিৎসক বাইরে চলে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের তো সব আছে। আমাদের স্টিল লেবার আছে। আমাদের উর্বরা জমি আছে। আমাদের পাহাড় আছে, সমুদ্র আছে, নদী আছে পাঁচটি রাজ্যের সঙ্গে আমাদের সীমানা আছে। তিনটি আন্তর্জাতিক সীমানা আছে, আমরা উত্তর-পূর্ব ভারতের গেটওয়ে। আমাদের এখানে মেধাবী ইঞ্জিনিয়ার আছে প্রতিভাবান চিকিৎসক আছেন। আমাদের চিকিৎসকরা আমাদেরই পশ্চিমবঙ্গের ছেলে মেয়ে। তারা পৃথিবীর সর্বত্র। বিভিন্ন চিকিৎসা শাস্ত্রে তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছেন।’

আরও পড়ুনঃ ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের ঘোষণা রাজ্যের! প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন ISF নেতা নওশাদ সিদ্দিকী

এরপরেই তিনি দাবী করলেন, ‘আজ যদি আমেরিকার একটা অংশের, আমি পুরো ইউনাইটেড স্টেটস-এর কথা বলছি না কিন্তু একটা অংশের চিকিৎসকরা যদি স্ট্রাইক করতে চলে যান তাহলে তাদের টোটাল মেডিকেল সিস্টেম কোলাপস করে যাবে।’

একইসাথে তাঁর আরও সংযোজন, ‘আবার অন্যদিকে যদি আমাদের মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলির যারা ডায়মন্ড সেটিং এর কাজ করেন, জুয়েলরির কাজ করেন তারা যদি ১০ দিনের জন্য স্ট্রাইকে চলে যান আমেদাবাদ, গুজরাট, দিল্লি,মুম্বাই তাহলে টোটাল জুয়েলারি মার্কেট কোলাপ্স করে যাবে।’

তাই শমীক বাবুর পরামর্শ, ‘আমরা চাই ব্যক্তিগত উদ্যোগে, বেসরকারি উদ্যোগে আরও বিশ্ববিদ্যালয় বাড়ুক, আরও কলেজ বাড়ুক, আরও মেডিকেল কলেজ বাড়ুক। এতে মেধার উৎকর্ষ বাড়বে। সরকারের কাজ কোন ব্যবসা চালানো নয়, সরকারের কাজ শুধু কারিকুলাম তৈরি করা নয়। আজকে সারা পৃথিবীর শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গে পঠন-পাঠন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। আজকে প্রতিযোগিতা শুধুমাত্র ওই একদিনের পরীক্ষার উপর সীমাবদ্ধ নয়। আর জ্ঞানকে দীর্ঘদিন ধরে কোন ক্যাম্পাসের মধ্যে আবদ্ধ রাখা যায় না। ‘

বিজেপি নেতার দাবী, ‘শুধুমাত্র সরকারের উদ্যোগেই কলেজ হবে, সরকারি উদ্যোগের বাইরে কোন মেডিকেল কলেজেই হোক বা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজই হোক একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবে না। এই যে বাঙালির মনে একটা বিশ্বাস তৈরি হয়ে আছে এর বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। সারা পৃথিবী আজকে প্রমাণ করে দিয়েছে যে ব্যক্তিগত উদ্যোগে, বাণিজ্যিক উদ্যোগে সেই কাজ করা সম্ভব।’ আর কি বললেন তিনি? চলুন দেখে নেওয়া যাক ভিডিওতে।