বাংলাহান্ট ডেস্ক: প্রায় দু’মাস ধরে আলোচনা ও টানাপোড়েনের পর অবশেষে কেন্দ্রের নির্দেশ মেনে চলার পথে মেটা (Meta)। ফেসবুক (Facebook) ও ইনস্টাগ্রামের (Instagram) মালিক সংস্থাটি শিশুদের জন্য ক্ষতিকর বা আপত্তিকর কনটেন্ট শনাক্ত হলে তা প্রশাসনের নজরে আনতে রাজি হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর। সমাজমাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে মেটা। অর্থাৎ, শিশুদের নিয়ে তৈরি এমন কোনও কনটেন্ট যা তাদের নিরাপত্তা বা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, তা চিহ্নিত করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর ব্যবস্থা করবে সংস্থা।
কেন্দ্রের কড়া বার্তায় অবশেষে মেটার (Meta) নতিস্বীকার
কেন্দ্রের সঙ্গে মেটার (Meta) এই আলোচনা অবশ্য আজকের নয়। প্রায় দু’মাস আগে ডিপফেক, বিকৃত তথ্য, ভুয়ো খবর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ঠেকাতে সমাজমাধ্যম সংস্থাগুলির উপর চাপ বাড়ায় সরকার। মেটাকেও নিজেদের অ্যালগরিদমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, এই ধরনের কনটেন্ট কীভাবে দ্রুত শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তার একটি বিস্তারিত রোডম্যাপও জমা দিতে বলা হয়। তবে সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় শুরু থেকেই ছিল শিশুদের নিয়ে তৈরি আপত্তিকর ও ক্ষতিকর কনটেন্ট। দীর্ঘ বৈঠক ও আলোচনার পর সেই জায়গাতেই কেন্দ্রের দাবিকে মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেটা বলে জানা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: পুজোর ছুটিতে দিঘা স্পেশ্যাল ট্রেন, কবে কোন সময়ে ছাড়বে, জেনে নিন টাইমটেবিল
সরকারি সূত্রের দাবি, মেটা কোনও ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত করার পর তার তথ্য প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দায়িত্ব থাকবে কর্তৃপক্ষের উপর। শুধু শিশুদের সুরক্ষাই নয়, ডিপফেক, ভুয়ো তথ্য এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর প্রচার দ্রুত চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও মেটার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের লক্ষ্য, সমাজমাধ্যমে এমন কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার আগেই তার উৎস ও প্রভাব সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অন্যান্য সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকেও একই ধরনের নিয়মের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে সরকারি মহলের সূত্রে জানা গিয়েছে।
কেন্দ্র ও মেটার সম্পর্কের টানাপোড়েন অবশ্য এর আগেও প্রকাশ্যে এসেছে। নিটের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তরুণদের উদ্দেশে ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল সেই বার্তায়। কিন্তু কিছু সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে মেটার তরফে জানানো হয়, প্রযুক্তিগত বা যান্ত্রিক সমস্যার কারণেই পোস্টটি সরানো হয়েছিল। ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ভিডিওটি ফের ফেসবুকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে ঘটনাটি ভালোভাবে নেয়নি তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। এরপর মেটার শীর্ষ আধিকারিকদের তলব করে সমাজমাধ্যমে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন:“হ্যাঁ, খারাপ লাগে….”, এবার গম্ভীরের দলগঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন এই তারকা
সেই ঘটনার পর কেন্দ্র এবং মেটার (Meta) মধ্যে যে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে তা অনেকটাই নরম হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। একদিকে সরকার চাইছে সমাজমাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ডিপফেক বা ভুয়ো তথ্যের মতো ক্ষতিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে, অন্যদিকে মেটাও স্থানীয় আইন ও প্রশাসনিক নির্দেশ মেনে কাজ করার ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতার বার্তা দিচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পর নজর থাকবে বাস্তবে মেটা কীভাবে এই কনটেন্ট শনাক্ত করে এবং প্রশাসনের কাছে তথ্য পৌঁছে দেয় তার উপর। পাশাপাশি, একই ধরনের ব্যবস্থা অন্যান্য বড় সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মেও কার্যকর করা যায় কি না, সেটিও আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।













