বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দীর্ঘ সময় পর সাংবাদিক বৈঠক করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক বিষয়ে নিজের অবস্থান জানালেন তিনি। তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচন, সব নিয়েই কথা বলেন তিনি। দলের কর্মী-সমর্থকদেরও বার্তা দেন মমতা। কী কী ঘোষণা করলেন তিনি?
মমতার (Mamata Banerjee) ১০ বড় বার্তা কী কী?
১. কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন মমতার
তৃণমূলের নাম ও ‘ঘাসফুল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার পর কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? ভোটের মুখে প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্তকে তিনি ‘মধ্যরাতে গণতন্ত্রের হত্যা’ বলে মন্তব্য করেন।
২. লড়াই থেকে সরছে না তৃণমূল
কমিশনের সিদ্ধান্তে দল পিছিয়ে যাবে না বলেও জানিয়ে দেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, মাথা নোয়ানোর কোনও প্রশ্নই নেই। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও লড়াই চালানো হবে। তবে উপনির্বাচনের জন্য আপাতত নতুন প্রতীক ব্যবহার করা হবে বলে জানান তিনি।
৩. দলের সাংগঠনিক নির্বাচন নিয়ে সাফাই
তৃণমূলের সাংগঠনিক নির্বাচন নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মমতা। তাঁর দাবি, নিয়ম মেনেই দলের সাংগঠনিক নির্বাচন হয়েছে। প্রথমে ব্লক, তারপর জেলা এবং শেষে রাজ্য স্তরে নির্বাচন হয়েছে বলে জানান তিনি। কমিশন বৃহস্পতিবার ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘ঘাসফুল’ প্রতীকের ব্যবহারে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।
৪. ‘জোড়াফুল’ শুধু প্রতীক নয়, আবেগও
তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে আবেগের কথাও উঠে আসে মমতার বক্তব্যে। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের লড়াই এবং কর্মীদের পরিশ্রমের ফলেই এই প্রতীক তৈরি হয়েছে। তাই দলের কর্মীদের সঙ্গে ‘জোড়াফুল’-এর আলাদা সম্পর্ক রয়েছে বলে জানান তিনি।
৫. দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে মমতার অভিযোগ
তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের নিয়েও মুখ খোলেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ওই নেতারা দলের প্রতি টান থেকে দল ছাড়েননি। নিজেদের এবং পরিবারের স্বার্থেই তাঁরা দলবদল করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। বিজেপির সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন মমতা।
৬. প্রতীক হারানোর ঘটনায় কর্মীদের প্রতিক্রিয়া
কমিশনের সিদ্ধান্তের পর দলের কর্মীদের মন খারাপের কথাও জানান মমতা (Mamata Banerjee)। তাঁর দাবি, কর্মীরা সারা রাত কেঁদেছেন। একই সময়ে বিরোধী শিবিরে আনন্দ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মাত্র চার মাস আগে যে প্রতীকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জিতেছেন, সেটি পরে ব্যবহার করা যাবে না কেন, এই প্রশ্নও তোলেন মমতা।
৭. নন্দীগ্রামে এবার কংগ্রেসের পাশে দল
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকেই বড় সিদ্ধান্ত জানান মমতা (Mamata Banerjee)। সেখানে তৃণমূল আর প্রার্থী দেবে না। বরং কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করবে তাঁর শিবির। ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি। এর আগেই মমতা-শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন।
৮. রেজিনগর নিয়ে অপেক্ষা
নন্দীগ্রাম নিয়ে সিদ্ধান্ত হলেও রেজিনগর উপনির্বাচন নিয়ে এখনও কিছু চূড়ান্ত করেনি তৃণমূল। মমতা (Mamata Banerjee) জানান, এই আসন নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে রেজিনগরে দলের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়।
৯. বিরোধী দলগুলিকে এক হওয়ার ডাক
বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের একসঙ্গে থাকার কথাও বলেন মমতা। রাহুল গান্ধী-সহ অন্যান্য বিরোধী নেতাদের প্রসঙ্গ তুলে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের বার্তা দেন তিনি। একসঙ্গে লড়াই করার ইচ্ছার কথাও জানান মমতা।

আরও পড়ুনঃ রাতে সুপ্রিম কোর্টে মমতার তৃণমূল, জোড়া পিটিশনে কী দাবি জানাল দল?
১০. দলের কর্মীদের পাশে থাকার আবেদন
শেষে দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তা দেন মমতা (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, তৃণমূলকে বুকে আঁকড়েই তাঁরা থাকবেন। বাংলার মানুষের কাছেও দলের পাশে থাকার আবেদন করেন তিনি। পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান মমতা।













