বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাশিয়ার (Russia) পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান Su-57 এবার ভারতের (India) মাটিতে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জোরালো জল্পনা তৈরি হয়েছে। হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (Hindustan Aeronautics Limited)-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রবি কে জানিয়েছেন, এই ধরনের যুদ্ধবিমান ভারতে তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা, পরিকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত কর্মী HAL-এর হাতে রয়েছে। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার তৈরি যুদ্ধবিমান উৎপাদনের ক্ষেত্রে HAL-এর অভিজ্ঞতা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটি Su-30MKI তৈরির সঙ্গে যুক্ত। ফলে Su-57-এর মতো আরও উন্নত প্ল্যাটফর্মের সম্ভাব্য দেশীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রেও সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
দেশেই অত্যাধুনিক সুখোই যুদ্ধবিমান তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে হ্যাল (Hindustan Aeronautics Limited)
এই সম্ভাবনার আবহ তৈরি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর। ১১ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে BRICS সম্মেলনের আগে দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের একাধিক দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ, বাণিজ্য-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যেই রাশিয়ার তরফে Su-57 নিয়ে প্রস্তাব এবং Su-30MKI-কে আরও আধুনিক করে ‘সুপার সুখোই’ করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে। একইসঙ্গে S-400 ব্যবস্থার বাকি সরবরাহ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলেছে। ফলে রুশ যুদ্ধবিমান নিয়ে ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে প্রতিরক্ষা মহলের (Hindustan Aeronautics Limited)।
আরও পড়ুন: কোন ভুলে শেষ হতে বসেছিল কেরিয়ার? কর্মজীবনের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানালেন NSA অজিত ডোভাল
Su-57 নিয়ে ভারতের আগ্রহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রযুক্তি ও উৎপাদন পদ্ধতি। HAL-এর প্রধানের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি হস্তান্তর হলে ভারতে এই যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য সংস্থাটির বর্তমান পরিকাঠামোর একটা বড় অংশ কাজে লাগানো সম্ভব। অর্থাৎ শুধু বিদেশ থেকে তৈরি যুদ্ধবিমান কেনার বদলে দেশেই উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হলে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে Su-30MKI তৈরির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা HAL-কে এই ধরনের প্রকল্পে এগিয়ে থাকার জায়গা দিয়েছে। একই সময়ে ভারত নিজস্ব যুদ্ধবিমান উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। Tejas Mk-1A-র উৎপাদন ও অন্যান্য দেশীয় বিমান প্রকল্পের পাশাপাশি ভবিষ্যতের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরির পরিকাঠামোও সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।
Su-57 রুশ সুখোই ডিজাইন ব্যুরোর তৈরি একটি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান। এর নকশায় কম দৃশ্যমানতা বা স্টেলথ বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি আকাশপথে যুদ্ধ, স্থল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা এবং বিভিন্ন ধরনের মিশন পরিচালনার সক্ষমতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। দিন বা রাত এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্যও বিমানটি তৈরি করা হয়েছে। ফলে ভারতীয় বায়ুসেনার ভবিষ্যৎ যুদ্ধবিমান কাঠামোয় পঞ্চম প্রজন্মের প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। Su-57 সেই সম্ভাব্য বিকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে। তবে বিমানটির ভারতে উৎপাদন কতটা হবে, কোন পর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর হবে এবং সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত কী হবে—এই বিষয়গুলি এখনও নির্দিষ্টভাবে সামনে আসেনি।

আরও পড়ুন: করতেন মাসে ৩,০০০ টাকার চাকরি! আজ ১৯,০০০ কোটির সাম্রাজ্য, কীভাবে ব্যবসায় বাজিমাত পীযূষের?
সব মিলিয়ে, Su-57 নিয়ে এখনই ‘ভারতে উৎপাদনের চুক্তি চূড়ান্ত’ বলা ঠিক হবে না। কিন্তু HAL (Hindustan Aeronautics Limited)-এর শীর্ষ কর্তার প্রকাশ্য বক্তব্যে স্পষ্ট যে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও প্রযুক্তি পেলে সংস্থাটি এই প্রকল্প হাতে নেওয়ার জন্য নিজেদের সক্ষম বলে মনে করছে। অন্যদিকে নয়াদিল্লি ও মস্কোর সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা আলোচনাও এই সম্ভাবনাকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। ভারতের জন্য বিষয়টি শুধু একটি নতুন যুদ্ধবিমান হাতে পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দেশেই উন্নত সামরিক বিমান তৈরির দক্ষতা এবং সরবরাহ-শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করার প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত। তাই আগামী দিনে Su-57 নিয়ে ভারত-রাশিয়া আলোচনার পরবর্তী ধাপ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়টিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।













