বাংলা হান্ট ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষে শুরু হয়েছে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ (Seva Sangkalp Abhiyan)। সম্প্রতি এই কর্মসূচি নিয়েই বক্তব্য রাখলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। বাংলার ব্যবসা ও ইকোনোমিক ইনোভেশন নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছেন তিনি। কি কি বললেন? চলুন দেখে নেওয়া যাক।
সেবা সংকল্প অভিযানে বক্তব্য রাখলেন শমীক ভট্টাচার্য
এদিন শমীকবাবু বলেন, আজকে ২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সালে যখন আমরা এসেছি, তখন গ্লোবাল ইকোনমিক ইনোভেশন ইন্ডেক্সে আমাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আমাদের স্ট্যান্ড হচ্ছে ৩৮। কিন্তু এর মধ্যেও আমাদের দেশের যেটা সবচেয়ে বড় সমস্যা উঠে আসছে, এখানে অনেক একাডেমিশিয়ান উপস্থিত আছেন। আমার এখানে বক্তৃতা করার মত ঔদ্ধত্য আমি দেখাতে পারছি এটাই আমার কাছে যথেষ্ট। বিকজ আই অ্যাম ইনকম্পিডেন্ট টু অ্যাড্রেস দিস অডিয়েন্স। নিদার আই অ্যাম অ্যানা একাডেমিশিয়ান নর আই অ্যাম অ্যান এন্টারপ্রেনার, অর নট গোয়িং টু সেট আপ এ স্টার্টআপ।
এরপর ইন্ডাস্ট্রিল লিংকের সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশের যেটা সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে যে একাডেমিশিয়া এবং ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজ। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যে নতুন কোন ইনোভেশন হচ্ছে, কোন কেউ পিএইচডি করেছেন তার পেপারসকে নিয়ে। বা কেউ পোস্টডক করেছেন তার ইনোভেশনটাকে নিয়ে সেটার সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির একটা সম্পর্ক স্থাপন হয়। ভারতবর্ষের আইআইটি থেকে শুরু করে ভারতের যেকোনো প্রাইম ইনস্টিটিউশনের ক্ষেত্রেও আপনি দেখেন, যত পেপারস কে তারা একসেপ্ট করছেন। আর গ্লোবালি যেগুলো একসেপ্টেড হয়ে যাচ্ছে সেগুলোকে ঠিক সময় পেটেন্ট পাইয়ে দিয়ে তার মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রির সংযুক্তিকরণ কিন্তু করতে আমরা এতদিন পর্যন্ত ব্যর্থ ছিলাম। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘মমতা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন, আগামী দিনে এই শাসককে টের পেতে হবে’, হুঁশিয়ারি নওশাদের
একইসাথে তিন আরও জানান, যখন কোন ইনোভেশনের ক্ষেত্রে যখন কোন পিএইচডির ক্ষেত্রে ১৫% ওভারল্যাপ হয়ে যায় দুটো পেপারে তখন ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটের ক্ষেত্রে বহু দেশ যে আইন তৈরি করে রেখেছে তাতে আমাদের প্রজেক্টগুলো সেখানে আটকে যাচ্ছে। আর এটা শুধুমাত্র কোন সরকারের কাজ নয়। সরকার বাণিজ্যের পরিবেশ তৈরি করবে। সরকার আইন শৃঙ্খলা যাতে ঠিক হয় সেটা দেখবে।
রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হয়েছে
রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে শমীকবাবু বলেন, মাত্র কয়েক মাস আগে লোয়ার জুডিশিয়াল ওয়াজ আন্ডার থ্রেট! সেখান থেকে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেটাকে বার করে আনতে পেরেছে। রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এখানে সিন্ডিকেট শব্দটি রাতারাতি উবে গেছে। ২০২৬ সালের ৪ তারিখ সন্ধ্যাবেলার পর। কিন্তু আমরা এখনো পর্যন্ত কোন ফুল প্রুফ সিস্টেম আপনাদের দিতে পেরেছি এ দাবি হয়তো সরকার করবে না। আমি সরকারের প্রতিনিধি নয় দলের প্রতিনিধি আমি যা বলতে এসেছি সেটা শুধুমাত্র আমার দলের কথা শুধুমাত্র আমার প্রধানমন্ত্রীর কথা।
এছাড়াও তিনি বলেন, আমরা চাই আরো তরুণ প্রজন্ম, পশ্চিমবঙ্গে বাণিজ্যে অংশগ্রহণ করুন। আমাদের ছাত্র অবস্থায় একটা কথা চলত, ব্যবসা সেই করে যার জীবনে কিছু হয় না। যে জীবনে নিজের অ্যাকাডেমিক ফিল্ডে কোন সাফল্য পায়নি। যে জীবনে সামান্যতম একটা সরকারি কেরানি চাকরি জোগাড় করতে পারেনি সেই ব্যবসায় অংশগ্রহণ করে। আর না হলে যারা বিজনেস কমিউনিটি আছে তাদের পরিবারের ছেলে। এই চিন্তাভাবনাই আজকে আমাদের একটা নির্দিষ্ট সর্বনাশের পথে ঠেলে দিয়েছে।
এরপর পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আয় প্রসঙ্গে তিনি জানান, আমাদের পশ্চিমবঙ্গের যদি পার ক্যাপিটা ইনকামের কথা আমরা ধরি ৬০-এর দশকে ন্যাশনাল এভারেজে আমাদের পার ক্যাপিটা ইনকাম ছিল ১২৭.৫ শতাংশ। আর আজকে ন্যাশনাল এভারেজের পার ক্যাপিটা ইনকামে আমরা এসে দাঁড়িয়েছি পশ্চিমবঙ্গ ৮৩.৭% আমাদের পার্শ্ববর্তী রাজ্য আসাম। সেখানে অলরেডি টাটার উদ্যোগে তারা একটা সেমিকন্ডাক্টর সেটাআপ তৈরি করেছে। আমরা এখনো পর্যন্ত এ রাজ্য তৈরি করে উঠতে পারিনি। কিন্তু আমরা চেষ্টা করছি, এবং আমরা এটা করব।
আরও পড়ুনঃ নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে জেল থেকেই ভোটে লড়বেন মিলন প্রধান, বার্তা কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের
সেমিকন্ডাক্ট সেটাপ তারা তৈরি করেছে, ফার্স্ট ইউনিট কমপ্লিট হয়েছে। আরো চারটে তিনটে ইউনিট তাদের তৈরি করা বাকি। যার টোটাল সেমিকন্ডাক্টর চিপ প্রডিউসিং প্রডিউসিং ক্যাপাসিটি হচ্ছে ৪৮ মিলিয়ন পার ডে। ৪০০ চাকরি তৈরি করছে এর মধ্যে দিয়ে। কিন্তু এখনো আমরা পশ্চিমবঙ্গে সেটা করে উঠতে পারিনি। কারণ আমাদের পূর্ববর্তী যে সরকারের থেকে আমরা এই সরকারটা পেয়েছি তারা প্রথম থেকেই বলে এসেছেন যে আমরা কোন জমি অধিগ্রহণ করবো না। আমরা এ রাজ্যে এসিজেড তৈরি করে দেব না। এছাড়াও আরও একাধিক বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন শমীক ভট্টাচার্য। সেটা দেখার জন্য নিচের ভিডিওটি দেখুন।













