ভারী বৃষ্টিতে চিন্তা বাড়িয়েছে ভূমিধস ও হড়পা বান! এরই মাঝে ভূমিকম্প ভুটানে

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: একটানা বৃষ্টি, ভূমিধস আর হড়পা বানের ধাক্কায় যখন বিপর্যস্ত ভুটান (Bhutan), তখনই নতুন করে আতঙ্ক ছড়াল ভূমিকম্পকে (Earthquake) ঘিরে। শনিবার বিকেল ৪টা ১ মিনিট নাগাদ কেঁপে ওঠে ভুটানের মাটি। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি বা NCS-এর তথ্য অনুযায়ী, কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪.৯। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল ভুটানের গিয়েলপোঝিং থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে। কম্পনের গভীরতা ছিল মাটির মাত্র ৫ কিলোমিটার নীচে। ফলে ভুটানের পাশাপাশি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকাতেও স্পষ্টভাবে কম্পন অনুভূত হয়। NCS জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির অবস্থান ছিল ২৭.১৬৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১.২৪০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।

বিপর্যস্ত ভুটানে (Bhutan) এবার নতুন করে আতঙ্ক ছড়াল ভূমিকম্প

ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে অসমের বিভিন্ন অংশেও। গুয়াহাটি-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক এলাকায় কম্পন টের পাওয়ার পর অনেকেই আতঙ্কে বাড়ি ও বহুতল থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। কোথাও শপিং মল, কোথাও হোটেল বা রেস্তরাঁ থেকেও মানুষ দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন বলে স্থানীয় রিপোর্টে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ভূমিকম্পে কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এবং পরবর্তী কোনও কম্পন বা আফটারশকের সম্ভাবনা থাকলে যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে (Bhutan)।

আরও পড়ুন: দেশেই তৈরি হবে অত্যাধুনিক সুখোই যুদ্ধবিমান! প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ক্রমশ আত্মনির্ভর হচ্ছে ভারত

এই ভূমিকম্পের সময়টাও যথেষ্ট উদ্বেগের। গত কয়েক দিন ধরে প্রবল বৃষ্টিতে ভুটানের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধস ও হড়পা বানের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একই সময়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের বেশ কিছু এলাকাতেও ভারী বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। তার মধ্যেই ভূমিকম্পের খবর নতুন করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। এর আগে গত সপ্তাহেই উত্তর-পশ্চিম নেপালে পরপর দু’টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। স্থানীয় রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৫ এবং অন্যটির ৪.২। নেপালের সেই ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই ভুটানে ৪.৯ মাত্রার কম্পন হওয়ায় গোটা হিমালয় অঞ্চলের সাম্প্রতিক ভূকম্পন পরিস্থিতি নিয়েও নজর বেড়েছে।

ভূতাত্ত্বিক দিক থেকেও ভুটান যথেষ্ট সংবেদনশীল এলাকায় অবস্থিত। হিমালয় অঞ্চলের এই অংশে ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের পারস্পরিক গতিবিধির কারণে নিয়মিত ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হয়ে থাকে। NCS-এর সাম্প্রতিক তথ্যেও ভুটান এবং তার আশপাশে একাধিক ছোট মাত্রার কম্পনের রেকর্ড রয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বরও ভুটানের বিভিন্ন অংশে ছোট মাত্রার ভূমিকম্প নথিভুক্ত হয়েছিল। ফলে শনিবারের ৪.৯ মাত্রার কম্পনের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থাগুলি পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। বিশেষ করে মাত্র ৫ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হওয়ায় আশপাশের এলাকায় কম্পন তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা।

Earthquake sparks fresh panic in crisis-hit Bhutan.

আরও পড়ুন: করতেন মাসে ৩,০০০ টাকার চাকরি! আজ ১৯,০০০ কোটির সাম্রাজ্য, কীভাবে ব্যবসায় বাজিমাত পীযূষের?

এখনও পর্যন্ত বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর না থাকলেও একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কায় ভুটানের (Bhutan) বাসিন্দাদের উদ্বেগ স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। বৃষ্টি ও ভূমিধসের পরিস্থিতির মধ্যে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি নতুন করে সতর্ক করেছে প্রশাসনকেও। অন্যদিকে অসম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বাসিন্দাদেরও পরবর্তী কম্পন নিয়ে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। তবে ভূমিকম্পের পর আফটারশক হবেই, এমন কোনও নিশ্চিত পূর্বাভাস দেওয়া যায় না। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলা এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকাই আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।