বাংলা হান্ট ডেস্ক : করম পরবকে কেন্দ্র করে রবিবার সকাল থেকেই উৎসবের আবহ পুরুলিয়ায়। কুড়মি সমাজের আমন্ত্রণে জেলার কড়াডি মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁকে ঘিরে অনুষ্ঠানস্থলে ছিল ব্যাপক আয়োজন। মঞ্চে পৌঁছনোর পর ঐতিহ্য মেনে পাগড়ি পরিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়।
কুড়মি সমাজকে কী বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)?
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা শুনতে বহু কুড়মি সমাজের মানুষ সেখানে হাজির হন। করম উৎসবের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগকে নিজের কাছে বিশেষ প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই উৎসবে কোন মুখ্যমন্ত্রী প্রথম বার আপনাদের উৎসবে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেল যা আমার একটি পরমপ্রাপ্তি৷”
এরপরই জঙ্গলমহলের মানুষের পুরনো আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় কুড়মি সমাজকে আন্দোলনের পথে যেতে হয়েছিল এবং সেই সময় তাঁদের উপর অত্যাচার ও মামলা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিগত সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি আপনারা যখন আন্দোলন করেছেন তখন আপনাদের ওপরে অত্যাচার নামিয়ে আনা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে ছোট শিশুরাও ছাড় পায়নি বৃদ্ধরাও ছাড় পায়নি”।
ভাষার স্বীকৃতির প্রসঙ্গও এদিন গুরুত্ব পায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বিজেপির সংকল্পপত্রে যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “বিজেপির সংকল্প পত্রে কুরুমালি ভাষা এবং রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করব। বিজেপির সংকল্প পত্রে কুরুমালি ভাষা এবং রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করব। প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে দ্রুত শেষ হবে সংকল্প পত্রে দেওয়া কথা আমরা রাখবো। সাঁওতালি ভাষাকে ও অষ্টম তপশিলি স্বীকৃতি দেয়নি কংগ্রেস বা পুরনো সরকার গুলো অটল বিহারী বাজপেয়ি ২০০৩ সালে দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর ওপর ভরসা রাখুন সংকল্পপত্রের কথা আমরা রাখবো। ইউসিসির বাইরে রাখা হয়েছে কুরমি সমাজকে। ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং অধিকার এই ৪ টে জিনিস আপনারা আমার কাছ থেকে বুঝে নেবেন”৷
কুড়মি সমাজের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের বিষয়েও এদিন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কুর্মি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে বোর্ডের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির কথাও জানান তিনি। পুরুলিয়া থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগের সরকার মাত্র ১০ কোটি টাকা রেখেছিল, আমরা পঞ্চাশ কোটি টাকা রেখেছি৷ পরের বাজেটে এটা আরো বাড়িয়ে দেওয়া হবে৷ আপনাদের সাংস্কৃতিক বিকাশে কোনও সমস্যা হবে না”।

আরও পড়ুন :পড়ুয়া নেই ৪,১৩৩টি সরকারি স্কুলে! সেই স্কুলগুলি নিয়েই বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের
করম উৎসবের কর্মসূচির পাশাপাশি পুরুলিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক ব্যস্ততাও রয়েছে। কড়াডি মাঠের অনুষ্ঠান শেষ করে সার্কিট হাউসে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। এরপর রবীন্দ্র ভবনে নাগরিক সম্মেলনেও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। করম পরবের মঞ্চ থেকে এদিন ভাষা ও সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি থেকে শুরু করে কুড়মি সমাজের উন্নয়ন—একাধিক বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী।














