বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইন্দোরে (Indore) ‘ছাত্র কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) মিমিক্রি ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) উপস্থিতিতে মঞ্চে স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান পুলকিত মণি প্রধানমন্ত্রীর কথা বলার ধরন, অঙ্গভঙ্গি এবং কিছু প্রকাশ্য অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ নিয়ে রসিকতা করেন। সেই সময় রাহুল গান্ধীকে মঞ্চে তাঁর সঙ্গে থাকতে এবং হাসতে দেখা যায়। অনুষ্ঠানের ওই অংশের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই বিজেপি নেতারা রাহুল ও কংগ্রেসকে নিশানা করতে শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক সমালোচনার জায়গায় প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।
রসিকতার নামে মোদীকে ব্যক্তি আক্রমণের অভিযোগে রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) বিরুদ্ধে সরব বিজেপি:
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ওই কমেডি অ্যাক্টের বিষয়বস্তু। পুলকিত মণি প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠস্বর ও বলার ভঙ্গি নকল করার পাশাপাশি একটি অনুষ্ঠানে এক বৃদ্ধার জন্য চেয়ার চাওয়ার ঘটনাকেও ব্যঙ্গ করেন বলে জানা গিয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, এই অভিনয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, ব্যক্তিগত স্তরেও কটাক্ষ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত মাকে ঘিরে করা মন্তব্য নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিজেপি। তবে ঠিক কোন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক পক্ষগুলির মধ্যে ব্যাখ্যার পার্থক্য রয়েছে (Rahul Gandhi)।
আরও পড়ুন: ভারত ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও পৌঁছবে আধার! প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য কী ভাবছে UIDAI?
ভিডিওটি সামনে আসার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের মিমিক্রির মাধ্যমে কংগ্রেস রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের পরিবর্তে বিষয়টিকে ‘কমেডি’ ও ‘জোকার’-এর জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। বিজেপির আরও কয়েকজন নেতাও একই সুরে রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করেছেন। দলের মুখপাত্র সি আর কেশবন মঞ্চে রাহুলের উপস্থিতি এবং তাঁর প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের পরিবেশে নারী ও বয়স্কদের নিয়ে রসিকতা করা রাজনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী। বিজেপির বক্তব্য অনুযায়ী, বিরোধিতা বা রাজনৈতিক সমালোচনা করা হলেও তার একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকা প্রয়োজন।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীও এই ঘটনা নিয়ে রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনার জন্য আয়োজিত মঞ্চকে ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর প্রয়াত মাকে নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী রাজনীতির জায়গা থেকে সরকারের নীতি বা সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ভালো বার্তা দেয় না। বিজেপির অন্য নেতারাও একই ঘটনায় রাহুলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস শিবির থেকে এই ঘটনাকে ঘিরে বিজেপির অভিযোগের পাল্টা ব্যাখ্যাও এসেছে এবং বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ! ‘AI ফোর্স’-এর ঘোষণা ট্রাম্পের! চলবে নজরদারি
তবে গোটা বিতর্কের মধ্যেও ইন্দোরের ‘ছাত্র কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিল ছাত্র ও তরুণদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা। ওই মঞ্চে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) শিক্ষা, নিয়োগ, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং যুবসমাজের বিভিন্ন উদ্বেগ নিয়ে বক্তব্য রাখেন। কিন্তু অনুষ্ঠানের একটি ছোট কমেডি পর্বই শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে। একদিকে বিজেপি এই ঘটনাকে প্রধানমন্ত্রীকে অপমান এবং রাজনৈতিক শালীনতার প্রশ্ন হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে কংগ্রেসপন্থীরা এটিকে ব্যঙ্গ-রসিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন। ফলে কয়েক মিনিটের ওই মঞ্চাভিনয় ঘিরে ফের একবার কংগ্রেস-বিজেপির রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে।














