উৎসবের মরসুমে মিলবে স্বস্তি! কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও পণ্যের দাম স্থির রাখতে পারে FMCG সংস্থাগুলি

Published on:

Published on:

FMCG firms can keep product prices stable despite rising raw material prices.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় উৎসবের মরসুমে কেনাকাটা বেড়ে যায়। পাশাপাশি, এই নির্দিষ্ট সময় লক্ষ্য রেখেই কোম্পানিগুলিও তাদের বিক্রি বাড়ানোর প্রস্তুতি নেয়। যদিও, এবার FMCG সেক্টর (FMCG Firms) একটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। মূলত, চিনি থেকে শুরু করে কফি, ভোজ্য তেল, কোকো এবং প্যাকেজিংয়ের মতো কাঁচামালের দাম বাড়ছে। তা সত্ত্বেও, বেশিরভাগ FMCG কোম্পানি বর্তমানে তাদের পণ্যের দাম বাড়ানো থেকে বিরত থাকছে। শুধু তাই নয়, দাম বাড়ানোর পরিবর্তে, কোম্পানিগুলি আরও বেশি পণ্য বিক্রি করে বিক্রয় বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। জানিয়ে রাখি যে, FMCG কোম্পানিগুলি ইতিমধ্যেই ক্রমবর্ধমান খরচের কিছু প্রভাব গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিল্প সেক্টরের সূত্র অনুযায়ী, জুন ত্রৈমাসিকে একাধিক কোম্পানি নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের দাম প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশ বাড়িয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল বর্ধিত খরচের কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া। তাই, কোম্পানিগুলি এখন ফের মূল্যবৃদ্ধি করতে অনিচ্ছুক। এর প্রধান কারণ হল উৎসবের মরসুমে (Festive Season) চাহিদা বজায় রাখা। কোম্পানিগুলি আশঙ্কা করে যে, অতিরিক্ত দাম বাড়ালে গ্রাহকদের (Customers) ক্রয় কমে যেতে পারে এবং তা বিক্রয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও পণ্যের দাম স্থির রাখতে পারে FMCG সংস্থাগুলি (FMCG Firms):

ইকোনমিক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী এই বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে ITC-র ফুডস ডিভিশনের CEO তথা এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হেমন্ত মালিক জানিয়েছেন যে, কোম্পানি উৎসবের মরসুম পর্যন্ত দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান পণ্যের দামের প্রভাব কমাতে কোম্পানি খরচ কমানো এবং তাদের পণ্যের সম্ভার আরও ভালোভাবে পরিচালনা করার জন্য কাজ করছে। তাঁর মতে, আগের GST হার কমানোর পর বেশ কয়েকটি FMCG বিভাগে বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে। যা বাজারের চাহিদাকে সমর্থন করেছে। তবে, ব্যয়ের চাপ অব্যাহত থাকলে অর্থবর্ষের তৃতীয় বা চতুর্থ ত্রৈমাসিকে মূল্য পুনরায় পর্যালোচনা করা হতে পারে।

উল্লেখ্য যে, ডাবর ইন্ডিয়াও কিছু পণ্যের ওপর সীমিত মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করেছে। কোম্পানির CFO অঙ্কুশ জৈনের মতে, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বর্ধিত ব্যয়ের প্রভাব কিছুটা প্রশমিত করার লক্ষ্যেই নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর এই মূল্য পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঘন্টায় ৩৫০ কিমি গতি! টক্কর দেবে জাপানের E10 সিরিজকে, ভারত তৈরি করবে B35 Bullet Train

তবে, কোম্পানিটি জানিয়েছে যে, বাজারের প্রতিযোগিতার কথা মাথায় রেখে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ সোজা কথায়, কোম্পানিগুলি বর্তমানে খরচ এবং গ্রাহক চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন: সমানে থেকেও টিম ইন্ডিয়াকে টেক্কা! T20 র‍্যাঙ্কিংয়ে কীভাবে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড?

কী পরিকল্পনা কোম্পানিগুলির: জানিয়ে রাখি যে, ক্রমবর্ধমান খরচ সত্ত্বেও, FMCG কোম্পানিগুলি বর্তমানে শুধুমাত্র মুনাফার জন্য মূল্যবৃদ্ধি এড়িয়ে চলছে। বরং, তারা খরচ কমানো, প্রোডাক্ট পোর্টফোলিও উন্নত করা এবং অপারেশনাল এফিশিয়েন্সি বৃদ্ধির দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে। কোম্পানিগুলি বর্তমানে দাম বাড়ানোর পরিবর্তে অধিক পরিমাণে পণ্য বিক্রির মাধ্যমে বৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য রাখছে। তবে, যদি কাঁচামালের দাম আরও বাড়তে থাকে, তাহলে কোম্পানিগুলি উৎসবের মরসুমের পরে দামে কিছু পরিবর্তন আনার কথা বিবেচনা করতে পারে।