বাংলা হান্ট ডেস্ক : দেশের জন্য প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কর্তব্য পালন করা সেনা জওয়ানদের সম্মান জানাতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। বীরত্ব পদকপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট শ্রেণির সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য এবার আজীবন বিনামূল্যে রেলযাত্রার (Indian Railways) ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু সংশ্লিষ্ট পদকপ্রাপক নন, নির্দিষ্ট নিয়মে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও এই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে ট্রেনের টিকিট বুক করা যাবে।
ভারতীয় রেলের (Indian Railways) বিশেষ সুবিধা
এই নতুন ব্যবস্থায় ভারতীয় রেলের ফার্স্ট ক্লাস, সেকেন্ড AC এবং AC চেয়ার কারে বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ থাকবে। দেশের যে কোনও রেলপথে এই সুবিধা ব্যবহার করা যাবে বলে জানানো হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে—এটি সাধারণভাবে সমস্ত কর্মরত কিংবা অবসরপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা কর্মীর জন্য চালু করা হয়নি। নির্দিষ্ট বীরত্ব পদকের প্রাপকদেরই এর জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেনা মেডেল (গ্যালান্ট্রি), নৌসেনা মেডেল (গ্যালান্ট্রি) এবং বায়ুসেনা মেডেল (গ্যালান্ট্রি)-এর প্রাপকেরা এই ব্যবস্থার আওতায় থাকবেন। অর্থাৎ পদকের ধরন অনুযায়ী যোগ্যতা নির্ধারিত হবে। তাই শুধু সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত হওয়াই এই রেল কনসেশন পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। পরিবারের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রাখা হয়েছে। বীরত্ব পদকপ্রাপকের স্ত্রী বা স্বামী বিনামূল্যে ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। পরে সংশ্লিষ্ট স্ত্রী বা স্বামী বিধবা কিংবা বিপত্নীক হলে পুনর্বিবাহ না করা পর্যন্ত এই সুবিধা চালু থাকবে।
মরণোত্তর বীরত্ব পদকের ক্ষেত্রেও পরিবারকে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোনও অবিবাহিত সেনা সদস্যের মৃত্যুর পরে তাঁকে সংশ্লিষ্ট বীরত্ব পদকে সম্মানিত করা হলে তাঁর বাবা-মা এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন। এবার সুবিধা পাওয়ার পদ্ধতিতেও এসেছে বদল। পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। যোগ্য ব্যক্তিদের Indian Railway Concession Card Portal বা IRCCP-তে গিয়ে প্রথমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। আবেদন পাওয়ার পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগ্যতা যাচাই করা হবে।

আরও পড়ুন : ডিম হামলার মুখে পড়তেই হাইকোর্টে মহুয়া! মামলা দায়েরের অনুমতি মিললেও দ্রুত শুনানি নিয়ে কী বলল আদালত?
যাচাইয়ে অনুমোদন মিললে হাতে কোনও সাধারণ কাগজের পাস দেওয়ার বদলে তৈরি হবে e-pass। এই ইলেকট্রনিক পাসই পরবর্তী সময়ে রেলের বিশেষ কনসেশনের সুবিধা নেওয়ার কাজে ব্যবহার করা যাবে। ফলে আবেদন, যাচাই এবং পাস পাওয়ার জন্য দফতরে গিয়ে একাধিকবার কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন কমবে।তবে রেজিস্ট্রেশন করলেই সঙ্গে সঙ্গে বিনামূল্যে টিকিট বুক করা যাবে না। প্রথমে IRCCP-তে নাম নথিভুক্ত করে যোগ্যতা যাচাইয়ের ধাপ শেষ করতে হবে। অনুমোদিত e-pass পাওয়ার পর ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে IRCTC-এর ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে নির্ধারিত রেল কনসেশনে টিকিট কাটতে পারবেন যোগ্য সুবিধাভোগীরা।














