বাংলা হান্ট ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে শিল্প ও বিনিয়োগের দরজা খুলতে বড় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুম্বই সফরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির সঙ্গে তাঁর বৈঠক ঘিরে সেই সম্ভাবনাই আরও সামনে এল। শিল্পের পাশাপাশি কর্মসংস্থান এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়েও দুপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের জোয়ার আনতে কী পরিকল্পনা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)?
বাংলার শিল্পক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন মুকেশ আম্বানি। রাজ্যে আরও লগ্নির বিষয়ে রিলায়েন্স আগ্রহী বলেও বৈঠকে ইঙ্গিত মিলেছে। সেই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা ও সংরক্ষণের জন্য গুজরাটে আম্বানি পরিবারের উদ্যোগে তৈরি ‘বনতারা’র কাজ বাংলাতেও সম্প্রসারিত করার ভাবনা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের একটি শাখা চালু করা যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ফলে মুম্বইয়ের বৈঠকের পর শিল্পের পাশাপাশি পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত ক্ষেত্রেও নতুন সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যের বিপুল যুবশক্তি এবং তাঁদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব বলে আম্বানিদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডলে এই সাক্ষাতের কথা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পোস্টে তিনি লিখেছেন, “গতকাল (সোমবার) বিখ্যাত শিল্পপতি, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানিজির সঙ্গে মুম্বইয়ে দেখা করেছি। সেখানে গণেশকে প্রার্থনা জানানোর সুযোগ হয়েছে। দেশবাসীর সুখশান্তি কামনা করে আশীর্বাদ চেয়েছি। মা কালীর বিশেষ একটি মূর্তি আমি তাঁদের হাতে তুলে দিতে পেরে সৌভাগ্যবান মনে করছি।”
শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনার বিষয়টি স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী আরও লিখেছেন, “এই সফরে আমরা পশ্চিমবঙ্গের শিল্পে অগ্রগতি ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছি। কথা হয়েছে কর্মসংস্থান নিয়েও। আমি তাঁদের জানিয়েছি যে আমাদের রাজ্য যুব সম্প্রদায়ের দক্ষতা, শক্তিকে প্রয়োগ করে বিপুল কাজের সুযোগ রয়েছে। তাঁরা এগিয়ে এলে স্বাগত।”

আরও পড়ুন : চার বছরের অপেক্ষার অবসান! আজ মূর্তি নদীর নয়া আর্চ ব্রিজের উদ্বোধন, নজরে উত্তরবঙ্গ
উল্লেখ্য, রিলায়েন্সের নতুন বিনিয়োগ বাংলায় এলে শিল্পের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে। একইসঙ্গে ‘বনতারা’র মতো উদ্যোগ এ রাজ্যে শুরু হলে বন্যপ্রাণী চিকিৎসা ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও নতুন পরিকাঠামো তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে মুম্বইয়ের এই বৈঠকের পর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের শিল্প ও প্রশাসনিক মহল।














