বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ধোপে টিকল না ইপিএফওর কোনও যুক্তি। ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাঁদের তরফে দেওয়া বিতর্কিত এক নির্দেশিকাকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। পাশাপাশি বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের নির্দেশ, প্রভিডেন্ট ফান্ডে উচ্চহারে বা প্রকৃত বেতনের ভিত্তিতে যাদের অ্যাকাউন্টে পেনশন (Pension) বাবদ টাকা জমা পড়েছে, আনুপাতিক হারে কিছুতেই তাঁদের পেনশন কমানো যাবে না।
আইন মেনে ও সুদ সহ বকেয়া পেনশন মেটানোর নির্দেশ | (Calcutta High Court)
হাইকোর্টের আরও নির্দেশ, ২০১৬ সালের সংশোধনী অনুসারে উচ্চহারে বেতনের ভিত্তিতেই ওই কর্মীদের পেনশন নির্ধারণ করতে হবে। আইন মেনে ও সুদ সহ তাঁদের যাবতীয় বকেয়া পেনশন মেটাতে হবে।
আরও পড়ুনঃ ‘কিছুটা সময় লাগলেও বকেয়া DA দেওয়া হবে’! শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের নিয়ে হাইকোর্টে জানাল রাজ্য
এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার উচ্চ বেতনের পেনশনারদের তরফে সবদারনগর এডুকেশন অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ও আরও কয়েকজনের দায়ের করা মামলার শুনানিতে বিষয়টি সামনে এসেছিল। মামলাকারীদের দাবি ছিল, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৪ এর সময়সীমা টেনে ইপিএফও-র তরফে কর্মীদের পেনশনে কাটছাঁট করা হচ্ছে।
মামলার আবেদনে জানানো হয়, অবসরকালীন শেষ পাঁচ বছরের গড় বেতনের বদলে কৃত্রিমভাবে প্রাক অবসর ও অবসর উত্তর ভাগ করে প্রো-রাটা পদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়ার কারণে মাসিক পেনশনের অঙ্ক প্রায় ৩০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ কমে যাচ্ছিল। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রাপ্য পেনশনের চেয়ে প্রায় ২৮ হাজার টাকা অবধি কম পেনশন দেওয়া হচ্ছিল।

এই বিষয়ে ইপিএফও-র তরফে তহবিলের ঘাটতি ও সমতার যুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে হাইকোর্টের তরফে তা খারিজ করে দেওয়া হয়। আদালত জানায়, ২০১৬ সালে ইপিএস প্রকল্পের নিয়মে আনা সংশোধনে বিকল্প নির্বাচন করা উচ্চ বেতনভোক্তা কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রো-রাটা নিয়মের কোনও উল্লেখ নেই। ওই সংশোধনী উপেক্ষা করে যে সার্কুলার জারি করা হয়েছে তা এক্তিয়ার বহির্ভূত।
হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে উচ্চহারে পেনশনের দাবিদারদের অনেকটা সুরাহা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সারা দেশের বঞ্চিত কর্মীরা এই রায়ের সুফল পেতে পারেন বলে মনে করছে মামলাকারী সংগঠন।













