বাংলাহান্ট ডেস্ক: উৎসবের মরসুম শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই। তার আগেই রান্নার তেলের (Cooking Oil) দাম নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র (Central Government of India)। দেশে (India) ভোজ্যতেলের দাম গত এক বছরে প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত উৎসবের সময়ে মিষ্টি, নোনতা খাবার এবং ভাজাভুজির চাহিদা বাড়ায় রান্নার তেলের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি চাপ কমাতে ভোজ্যতেলের আমদানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা। ফলে আমদানির খরচ কমলে তার প্রভাব খুচরো বাজারেও পড়তে পারে এবং উৎসবের মরসুমে রান্নার তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
রান্নার তেলের (Cooking Oil) আমদানি শুল্কে কাটছাঁট কেন্দ্রের, কমতে পারে দাম!
নতুন সিদ্ধান্তে কাঁচা সয়াবিন ও কাঁচা পাম তেলের বেসিক কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রিফাইন্ড সয়াবিন ও রিফাইন্ড পাম তেলের ক্ষেত্রে শুল্ক ৩২.৫ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ২৭.৫ শতাংশ। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে কাঁচা সূর্যমুখী তেলের ক্ষেত্রে। এই তেলের উপর ১০ শতাংশ বেসিক কাস্টমস ডিউটি পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। রিফাইন্ড সূর্যমুখী তেলের ক্ষেত্রেও শুল্ক ৩২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২২.৫ শতাংশ করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হল আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল (Cooking Oil) আমদানির খরচ কিছুটা কমিয়ে দেশের বাজারে সরবরাহ বাড়ানো এবং তার মাধ্যমে দামের চাপ কমানো।
আরও পড়ুন: রাসায়নিক মেশানো নাকি গাছপাকা? কার্বাইডে পাকানো পেঁপে চিনবেন কী করে?
ভারতের ভোজ্যতেলের বাজারে আমদানির ভূমিকা যথেষ্ট বড়। দেশের মোট চাহিদার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে মেটাতে হয়। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে মূলত পাম তেল, আর্জেন্টিনা থেকে সয়াবিন তেল এবং রাশিয়া ও ইউক্রেন-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেল আমদানি করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ওঠানামা কিংবা আবহাওয়ার প্রভাব সরাসরি ভারতের বাজারেও পড়ে। গত কয়েক বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে, তার পাশাপাশি এল নিনো এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের সঙ্গে যুক্ত চরম আবহাওয়াও তেলের উৎপাদন ও দামের উপর প্রভাব ফেলেছে। সেই কারণেই গত এক বছরে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।
তবে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে কৃষকদের স্বার্থের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য শুধু আমদানি করা তেলের দাম কমানো নয়, একই সঙ্গে দেশীয় তেলবীজ চাষিদের উপর যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেটিও দেখা। শিল্পমহলের এক আধিকারিকের মতে, বেসিক আমদানি শুল্কে ৫ শতাংশের এই কাটছাঁট দেশীয় সয়াবিনের দামকে সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা MSP-এর উপরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে আমদানির চাপ বাড়লেও তেলবীজ চাষিরা একেবারে ক্ষতির মুখে পড়বেন না বলেই মনে করা হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসেও কাঁচা ভোজ্যতেলের উপর বেসিক আমদানি কর কমানো হয়েছিল। তবে তখন কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস এবং সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সারচার্জ যোগ হয়ে কার্যকর আমদানি শুল্ক ১৬.৫ শতাংশ ছিল।

আরও পড়ুন: ‘বাম আমলের বকেয়া DA মেটাবে রাজ্য সরকার’! বিরাট ঘোষণা দিলীপ ঘোষের
তবে শুল্ক কমলেই যে বাজারে তেলের (Cooking Oil) দাম একই হারে কমবে, তা নিশ্চিত নয়। ভারতের মতো বিপুল চাহিদার দেশে আমদানি বেড়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় ক্রেতাদের চাহিদা বাড়লে রফতানিকারক দেশগুলিতে পাম, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে শিল্পমহলের তরফে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে আমদানির খরচ কমার সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে কতটা স্বস্তি পৌঁছবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, আমদানি-সরবরাহ এবং দেশের খুচরো বাজারের পরিস্থিতির উপর। উৎসবের আগে তাই এই শুল্কছাড় আপাতত ভোজ্যতেলের দামে চাপ কমানোর একটি সম্ভাবনা তৈরি করেছে।













