বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ঝুঁকিহীন বিনিয়োগের পাশাপাশি মোটা রিটার্নের জন্য অত্যন্ত ভালো একটি বিকল্প পোস্ট অফিস (Post Office)। এখানকার জনপ্রিয় দু’টি ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম হল ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট ও কিষাণ বিকাশ পত্র (Post Office NSC vs KVP Scheme)। অনেক সময়ই বিনিয়োগকারীরা ভাবেন, এই দুই প্রকল্পের মধ্যে কোথায় টাকা রাখলে বেশি রিটার্ন পাওয়া যাবে, আজ সেই হিসাবই তুলে ধরা হল।
পোস্ট অফিস এনএসসি ও কিষাণ বিকাশ পত্রের হিসাব | (Post Office NSC vs KVP Scheme)
পোস্ট অফিস এনএসসি স্কিমের পুরো নাম হল ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট। অন্যদিকে কিষাণ বিকাশ পত্রকে অনেকে আবার মানি ডাবল স্কিমও বলে। কারণ এখানে বিনিয়োগকৃত অর্থের দ্বিগুণ ফেরত পাওয়া যায়। পোস্ট অফিসের এই দুই প্রকল্পেরই বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ এক বাসে চেপে সমুদ্র থেকে পাহাড়! দিঘা থেকে শিলিগুড়ি প্রিমিয়াম বাস পরিষেবা চালু, ভাড়া জানুন
পোস্ট অফিস এনএসসি ও কিষাণ বিকাশ পত্র, দু’টিই সঞ্চয় প্রকল্প হলেও এর মেয়াদকাল ও সুদের হার আলাদা। বর্তমানে এনএসসিতে বছরে ৭.৭ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে। সেখানে কিষাণ বিকাশ পত্রে সুদের হার ৭.৫ শতাংশ। ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেটের মেয়াদ পাঁচ বছর। তবে কিষাণ বিকাশ পত্রের ১১৫ মাস তথা ৯ বছর ৭ মাস।
এবার ধরে নেওয়া যাক, কোনও বিনিয়োগকারী ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে চাইছেন। সেক্ষেত্রে পোস্ট অফিস এনএসসি ও কিষাণ বিকাশ পত্রে বিনিয়োগ করলে কেমন রিটার্ন পাবেন সেই হিসাব তুলে ধরা হল।
১ লাখ টাকা বিনিয়োগে বছরে ৭.৭ শতাংশ সুদের ভিত্তিতে পাঁচ বছর পর ওই বিনিয়োগকারী ১,৪৪,৯০০ টাকা ফেরত পাবেন। অর্থাৎ পাঁচ বছরে তাঁর ৪৪,৯০০ টাকা লাভ হবে। অন্যদিকে কিষাণ বিকাশ পত্রে ১১৫ মাসে এই ১ লাখ টাকা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। অর্থাৎ মেয়াদপূর্তিতে ২ লাখ টাকা ফেরত পাবেন তিনি।
পোস্ট অফিস এনএসসি ও কিষাণ বিকাশ পত্রের রিটার্নের পরিমাণ পাশাপাশি রেখে বিচার করলে দেখা যাবে, কেভিপি স্কিমে রিটার্নের পরিমাণ বেশি। যদিও ২ লক্ষ টাকা পাওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীকে ৯ বছর ৭ মাস অপেক্ষা করতে হবে। এনএসসি স্কিমের মেয়াদকাল প্রায় অর্ধেক। পাঁচ বছরেই সুদ সহ মূল বিনিয়োগের টাকা ফেরত পেয়ে যাবেন বিনিয়োগকারী।

এছাড়া পোস্ট অফিস এনএসসি স্কিমে আয়কর আইনের ধারা ৮০সি অনুযায়ী কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যায়। কিষাণ বিকাশ পত্রের ক্ষেত্রে এই কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যায় না।
পোস্ট অফিস এনএসসি না কিষাণ বিকাশ পত্র, কোন স্কিম বেশি ভালো তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে বিনিয়োগকারীর অর্থনৈতিক অবস্থা, প্রয়োজন সহ নানা ফ্যাক্টরের উপর। যাবতীয় দিক বিবেচনা করে এই বিষয়ে বিনিয়োগকারীকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।













