ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে ১৪.৮৮ বিলিয়ন ডলারের পতন! নেপথ্যে কোন কারণ?

Published on:

Published on:

India's forex reserves fall by 14.88 billion dollar, know the details.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে (Forex Reserves) ফের পতন ঘটেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত হওয়া সপ্তাহে ভারতের (India) বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ১৪.৮৮ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়ে ৭৬৫.৯০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের সপ্তাহেও বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে পতন পরিলক্ষিত হয়েছিল। এদিকে, তার আগে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছিল। জানিয়ে রাখি যে, বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার যেকোনও দেশের বাহ্যিক আর্থিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসাবে বিবেচিত হয়। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ফরেন কারেন্সি অ্যাসেটস, গোল্ড রিজার্ভ, স্পেশাল ড্রইং রাইটস তথা SDR এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (International Monetary Fund) রিজার্ভ পজিশন শামিল রয়েছে।

ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে (Forex Reserves) হ্রাস:

উল্লেখ্য যে, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের বৃহত্তম অংশই হল ফরেন কারেন্সি অ্যাসেটস। এর মধ্যে ডলার এবং অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রায় রাখা সম্পদ অন্তর্ভুক্ত। এই সম্পদগুলির মূল্যের পরিবর্তন, বিনিময় হারের ওঠানামা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের বাজার কার্যক্রমের কারণে মোট ভাণ্ডারে পরিবর্তন আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট সপ্তাহে ফরেন কারেন্সি অ্যাসেটস ১৪.৮১ বিলিয়ন ডলার কমে ৬৩০.৯৮ বিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে। এদিকে, স্পেশাল ড্রইং রাইটস ১০৬ মিলিয়ন ডলার কমে ১৮.৭৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে, গোল্ড রিজার্ভ ৬৮ মিলিয়ন বেড়ে ১১১.২৯২ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। এছাড়াও, IMF-এ রিজার্ভ পজিশন হল ৪.৮৯ বিলিয়ন ডলার।

India's forex reserves fall by 14.88 billion dollar, know the details.

এদিকে, এক সপ্তাহে রিজার্ভ কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে হঠাৎ বড় ধরণের দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। বরং, এর জন্য দরপতনের কারণ থেকে শুরু করে স্থায়িত্বকাল এবং শেয়ারের বিভিন্ন অংশের পরিবর্তনগুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: গ্রাহকদের সুবিধার্থে বড় ঘোষণা স্টেট ব্যাঙ্কের! ধর্মঘট চলাকালীন SBI-র ATM-এ লাগবে না চার্জ

রুপি এবং অর্থনীতির ওপর প্রভাব: জানিয়ে রাখি যে, কোনও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ওই দেশের বাহ্যিক লেনদেনের চাহিদা মেটাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের চরম ওঠানামা মোকাবিলা করতে ব্যবহৃত হয়। এমতাবস্থায়, পর্যাপ্ত ভাণ্ডার থাকলে তা আমদানি ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক চাপ মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।

আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে বাড়ছে জ্বালানির দাম! তবুও, একাধিক দেশে প্রতি লিটার পেট্রোল মিলছে মাত্র ৩ টাকায়

তবে, মাত্র এক সপ্তাহে ভাণ্ডার কমে যাওয়ার তথ্য থেকে রুপির গতিপথ বা অর্থনীতির ওপর এর তাৎক্ষণিক প্রভাব সম্পর্কে কোনও সিদ্ধান্তে আসা যায় না। এর জন্য আমদানি ব্যয়, অপরিশোধিত তেলের দাম, মূলধন প্রবাহ এবং বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির মতো অন্যান্য বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখতে হবে। এমতাবস্থায়, আগামী সপ্তাহগুলিতে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের পরিবর্তনের পাশাপাশি ফরেন কারেন্সি অ্যাসেটস এবং গোল্ড রিজার্ভও বিশেষজ্ঞরা পর্যবেক্ষণ করছেন। যদি ভাণ্ডার কমতে থাকে; সেক্ষেত্রে, এর নেপথ্যের কারণগুলি বুঝতে হবে। একই সঙ্গে, ভাণ্ডারের উন্নতি হলে বাহ্যিক আর্থিক পরিস্থিতির পরিবর্তন মূল্যায়ন করা যেতে পারে। মূলত, ভারতের অর্থনীতি বিশ্ব বাণিজ্য, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও জ্বালানি আমদানির সঙ্গে যুক্ত। সুতরাং, রুপি ও বৈদেশিক খাতের পরিস্থিতি বোঝার জন্য সাপ্তাহিক বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে বিবেচিত হয়।