রাঁধুনি খোঁজার সমস্যার সমাধানে ৬ বছরেই কোটি কোটি টাকার ব্যবসা! তাক লাগালেন IIT খড়গপুরের দুই বন্ধু

Published on:

Published on:

Success Story of Vaibhav and Aman will amaze you.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: রাঁধুনি খোঁজার সমস্যাই যে একদিন কোটি টাকার সফল (Success Story) ব্যবসার পথ দেখাতে পারে, তা হয়তো ভাবেননি আইআইটি খড়গপুরের (IIT Kharagpur) দুই প্রাক্তনী বৈভব ও আমান গুপ্তা। বর্তমান সময়ে খাবার, মুদিখানা কিংবা রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় জিনিস বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা অনেকটাই বদলে গেলেও, বাড়ির জন্য নির্ভরযোগ্য রাঁধুনি খোঁজার ক্ষেত্রে বেশ ঝক্কি পোহাতে হয় বহু মানুষকে। এই সমস্যারই একটি সংগঠিত সমাধান খুঁজতে গিয়ে ২০২০ সালের মে মাসে তাঁরা শুরু করেন ‘ChefKart’। গুরুগ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করা এই স্টার্টআপ ধীরে ধীরে এমন একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়িতে রাঁধুনি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বৈভব ও আমান গুপ্তার অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

ChefKart-এর ভাবনাটি অবশ্য হঠাৎ করে আসেনি। বৈভব গুপ্ত তখন গুরুগ্রামে আমেরিকান এক্সপ্রেসে বিজনেস অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। নিজের জন্য ভালো রাঁধুনি খুঁজতে গিয়ে বারবার একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিলেন তিনি। কোনও নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম না থাকায় কখনও  কখনও পরিচিতদের রেফারেন্সের উপর নির্ভর করতে হত। এর আগে কলেজে ‘Crej’ নামে অন-ডিমান্ড লন্ড্রি পরিষেবা চালানোর অভিজ্ঞতাও ছিল তাঁর। শেষ পর্যন্ত কর্পোরেট চাকরির পাশাপাশি নিজের উদ্যোগ শুরু করার ইচ্ছা থেকেই ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে চাকরি ছেড়ে দেন বৈভব। এরপর আমান গুপ্তকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন ChefKart-এর পথচলা (Success Story)।

আরও পড়ুন:ভারতের ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথম স্থানে আদানি! ধনকুবেরদের তালিকায় বেজিংকে টেক্কা দিল মুম্বই

কোভিড-১৯ মহামারীর কঠিন সময়ে, ২০২০ সালের মে মাসে গুরুগ্রামে পরিষেবা চালু করে সংস্থাটি। প্রথম দিকে গ্রাহকদের কাছ থেকে সেরকম সাড়া পাওয়া যায়নি। কিন্তু অন্য দিক থেকে পরিস্থিতি তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে দেয়। মহামারীর কারণে বহু রাঁধুনি কাজ হারিয়েছিলেন। তাঁদের অনেকেই ChefKart-এর সঙ্গে যুক্ত হতে শুরু করেন। বড়সড় বিজ্ঞাপনী প্রচারের বদলে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ এবং সরাসরি ফোনের মাধ্যমে সম্ভাব্য গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন দুই প্রতিষ্ঠাতা। যাচাই করা রাঁধুনি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিষেবা এবং বাড়িতে রান্নার সুবিধা—এই বিষয়গুলির উপর জোর দেওয়ার ফলে ধীরে ধীরে মানুষের আস্থা তৈরি হয়। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ চাহিদা বাড়তে শুরু করে এবং সেখান থেকেই ব্যবসার গতি বদলে যায়।

তবে ChefKart-এর গল্প শুধু গ্রাহকদের সুবিধা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্ল্যাটফর্মটি রাঁধুনিদের কাজের ধরনেও কিছু পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে। আগে অনেক ক্ষেত্রেই রাঁধুনিদের কাজ পেতে মধ্যস্থতাকারী বা নিরাপত্তাকর্মীদের কমিশন দিতে হত এবং পারিশ্রমিকের লেনদেন নগদে সীমাবদ্ধ থাকত। ChefKart-এর মাধ্যমে তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের আওতায় আনা, অ্যাপের মাধ্যমে দৈনিক পারিশ্রমিক দেওয়া এবং প্রায় ২ লক্ষ টাকার বিমা কভার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কাজের মান ও গ্রাহকের রেটিংয়ের ভিত্তিতে ইনসেনটিভের ব্যবস্থাও রয়েছে। একাধিক মহিলা, এমনকি একক মায়েরাও এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছেন এবং মাসে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত উপার্জনের সুযোগ পেয়েছেন বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।

Success Story of Vaibhav and Aman will amaze you.

আরও পড়ুন: ‘সন্ত্রাসে মদত দিচ্ছে ভারত’, পাক সাংবাদিকের বেপরোয়া প্রশ্নে পাকিস্তানকে ‘জঙ্গি দেশ’ বলে কটাক্ষ জয়শঙ্করের

বর্তমানে গুরুগ্রামে শক্তিশালী উপস্থিতি তৈরি করেছে ChefKart। সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাসে প্রায় ১ কোটি টাকা রাজস্ব আসে, অর্থাৎ বছরে প্রায় ১২-১৩ কোটি টাকার ব্যবসা। এই উদ্যোগে বিনিয়োগকারীদের তালিকায় রয়েছেন জোম্যাটোর সহ-প্রতিষ্ঠাতা দীপিন্দর গোয়ালের মতো পরিচিত নামও। এবার গুরুগ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর মতো শহরে পরিষেবা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার। শুধু রাঁধুনি বুকিং নয়, ভবিষ্যতে মিল প্ল্যানিং এবং গ্রোসারি শপিংয়ের মতো পরিষেবাও যুক্ত করে রান্নাঘরকেন্দ্রিক আরও সম্পূর্ণ পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে ChefKart। ফলে একটি দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানের ভাবনা থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন বড় পরিসরে নিজেদের জায়গা তৈরি করার পথে (Success Story)।