রাষ্ট্রসংঘে দিল্লির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ শরিফের! ‘সন্ত্রাসবাদীদের পরিণাম ভুগতে হবে’, জবাব ভারতের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় ভারতকে (India) নিশানা করার পরই কড়া জবাব দিল নয়াদিল্লি। ‘রাইট টু রিপ্লাই’-এর সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গেহলট পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সীমান্তপারের সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে বলেন, সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেওয়ার পরিণতি ভুগতেই হবে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ৯/১১ হামলার মূলচক্রী ওসামা বিন লাদেনের প্রসঙ্গও। গেহলট মনে করিয়ে দেন, লাদেন পাকিস্তানে, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কাছাকাছি দীর্ঘদিন আত্মগোপন করেছিলেন। ভারতের এই বক্তব্যের মধ্যেই রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ফের প্রকাশ্যে এল ভারত-পাকিস্তানের পুরনো সংঘাত।

UN-এ শাহবাজ শরিফের ভারতের (India) বিরুদ্ধে বক্তব্যে মোক্ষম জবাব দিল নয়াদিল্লি!

শাহবাজ শরিফ তাঁর ভাষণে কাশ্মীর, ২০২৫ সালের সংঘাত এবং অপারেশন সিঁদুরের প্রসঙ্গ তুলে ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেন। তিনি পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। এর পরেই ভারত (India) পাল্টা বক্তব্য রাখে। পেটাল গেহলট পাকিস্তানের বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে উল্লেখ করে দাবি করেন, বারবার একই অভিযোগ বা দাবি করলেই তা সত্যি হয়ে যায় না। ভারতের বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপারের সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ এবং সেই নীতির পরিণতি নিয়ে সতর্কবার্তা।

আরও পড়ুন:শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরাতে সাহায্য করবে আমেরিকা? কী জানাল ওয়াশিংটন?

রাষ্ট্রসংঘে ভারতের বক্তব্যে ওসামা বিন লাদেনের প্রসঙ্গ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। ৯/১১ হামলার বার্ষিকী সদ্য পেরিয়েছে উল্লেখ করে গেহলট বলেন, হামলার মূলচক্রী পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে, দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কাছেই বসবাস করছিলেন। ভারতের দাবি, এই ঘটনাই সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। একইসঙ্গে গেহলট বলেন, গত বছর ভারত দেখিয়েছে যে সন্ত্রাসবাদীদের পালিয়ে যাওয়ার বা লুকিয়ে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ভারত প্রয়োগ করবে।

এই চাপানউতোরের একদিন আগেই রাষ্ট্রসংঘের সদর দফতরে আরও একটি বিতর্কিত মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাংবাদিক বৈঠকে এক পাকিস্তানি সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসে মদত দেওয়া ভারত কবে বন্ধ করবে। জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, “A terrorist country is asking me that question. Come on.” ওই বৈঠকে জয়শঙ্করের সঙ্গে লাইবেরিয়ার বিদেশমন্ত্রী সারা বেসোলো-ও ছিলেন। ভারতের রাষ্ট্রসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পার্বতনেনি পরে সাংবাদিককে জানান, তিনি জয়শঙ্করের উত্তর স্পষ্টভাবেই শুনেছেন। ঘটনাটি দ্রুতই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

New Delhi delivered a fitting reply to Sharif's remarks against India at the UN!

আরও পড়ুন: ভারতের ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথম স্থানে আদানি! ধনকুবেরদের তালিকায় বেজিংকে টেক্কা দিল মুম্বই

সব মিলিয়ে রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ সভায় ভারত (India)-পাকিস্তান কূটনৈতিক সংঘাত ফের প্রকাশ্যে এসেছে। সন্ত্রাসবাদ, কাশ্মীর, অপারেশন সিঁদুর এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একাধিক ইস্যুতে দুই দেশের বক্তব্য একেবারেই বিপরীত। ভারত বারবার সীমান্তপারের সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ তুলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, আর ইসলামাবাদ পাল্টা নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এনেছে। তবে রাষ্ট্রসংঘের সাম্প্রতিক পর্বে ভারতের বক্তব্যের মূল সুর ছিল স্পষ্ট—সন্ত্রাসবাদকে কেন্দ্র করে কোনও হামলা হলে তার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা হবে এবং সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগেরও আন্তর্জাতিক মঞ্চে জবাব দেওয়া হবে।