বাংলা হান্ট ডেস্ক : নির্বাচন কমিশনের অন্দরে SIR-কে ঘিরে মতের অমিল তৈরির বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বিতর্কে মধ্যেই শনিবার বৈঠকে বসে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। আর বৈঠকের পর প্রকাশিত বিবৃতিতে একাধিক বিতর্কিত বিষয় নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)।
কী জানাল নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)?
নয়াদিল্লিতে কমিশনের সদর দফতরে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার এস এস সান্ধু ও বিবেক জোশী। বৈঠক শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে SIR-এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ফর্ম, ECINet পোর্টাল এবং ক্যাবিনেট সচিবকে পাঠানো চিঠি—বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। মূল বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল SIR। সম্প্রতি ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে SIR সংক্রান্ত বিষয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়। এমনকি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিও ওঠে বিরোধী শিবির-সহ বিভিন্ন মহল থেকে।
এই পরিস্থিতিতে শনিবার কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, SIR নিয়ে তিন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে কোনও চূড়ান্ত মতবিরোধ হয়নি। যে সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে, সেগুলি সম্মিলিতভাবেই অনুমোদিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ জুন বিহার থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ-সহ আরও ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে SIR সংক্রান্ত নির্দেশ জারির ক্ষেত্রেও তিন সদস্যের সম্মতি ছিল। শুধু প্রথম দফার নির্দেশ নয়, পরবর্তী পর্যায়ের সূচি নিয়েও একই দাবি করেছে কমিশন।বিবৃতিতে কমিশন জানিয়েছে, “১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য SIR-এর সূচি ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর এবং আরও ১৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য ২০২৬ সালের ১৪ মে প্রকাশ করা হয়। এই দুই ক্ষেত্রেই কমিশনের সর্বসম্মত অনুমোদন ছিল।”এরপরই উঠে আসে ক্যাবিনেট সচিবকে পাঠানো চিঠির প্রসঙ্গ। অভিযোগ ছিল, দুই নির্বাচন কমিশনার ওই চিঠির মাধ্যমে কমিশনের কাজ পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
সংখ্যাগরিষ্ঠের মতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিযোগও সেখানে করা হয়েছিল বলে দাবি ওঠে। নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও কেন বিষয়টি ক্যাবিনেট সচিবের কাছে পাঠানো হল, তা নিয়েও তৈরি হয়েছিল প্রশ্ন। এই অভিযোগের ব্যাখ্যায় কমিশন জানিয়েছে, চিঠিটির সঙ্গে SIR কিংবা নির্বাচন কমিশনের কোনও নীতিগত সিদ্ধান্তের সম্পর্ক ছিল না। মূল বিষয় ছিল ডেপুটেশনে থাকা এক আধিকারিকের দায়িত্ব পালনের ধরন এবং তাঁর কাজ সংক্রান্ত কিছু প্রশাসনিক জটিলতা। কমিশনের দাবি, দুই নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশের পরও ওই আধিকারিকের জারি করা কাজ পুনর্বণ্টনের নির্দেশ কার্যকর হয়নি। সেই বিষয়টিই চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছিল।
IT বিভাগের দায়িত্ব নিয়েও তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। কমিশনের বক্তব্য, ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের IT বিভাগ দেখভালের দায়িত্ব কখনও তুলে নেওয়া হয়নি। ফর্ম ৬ নিয়ে কমিশন বলে, SIR চলাকালীন ওই ঘোষণাপত্র ব্যবহারের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছে। তবে SIR-এর বাইরে স্বাভাবিক সময়ে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে আলাদা নিয়মই কার্যকর থাকবে। সেই সময় Registration of Electors Rules, 1960 অনুযায়ী নির্ধারিত ফর্ম ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন :অন্নপূর্ণা যোজনায় টাকা পেতে দরকার হচ্ছে ২০০২ সালের নথি? বঞ্চিতদের সতর্ক করে বার্তা প্রশাসনের
নির্বাচন কমিশনের এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে (ECINet) আধিকারিকদের প্রবেশাধিকার, ভোটার তালিকার তথ্য ব্যবহারের পদ্ধতি এবং পোর্টালের কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছিল। সেই বিতর্কের পর এবার গোটা ব্যবস্থাটি নতুন করে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এর জন্য একজন সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ব্যবস্থাতেও কিছু পরিবর্তনের ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ, বিতর্কের আবহে বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান এভাবেই স্পষ্ট করেছে কমিশন।













