বাংলাহান্ট ডেস্ক: এক মাসও কাটেনি ভয়াবহ বন্যা ও হড়পা বানের (Nepal Flash Floods) ধাক্কার। তার মধ্যেই ফের প্রকৃতির রুদ্ররূপ দেখল নেপাল (Nepal)। টানা কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টির জেরে দেশের একাধিক প্রান্তে নেমেছে ধস, ফুলেফেঁপে উঠেছে নদী। এরই মধ্যে কালী গণ্ডকী নদীর কাছে পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার দৃশ্য সামনে এসেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পাহাড়ের বিরাট অংশ ধসে নিচের দিকে নেমে আসছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত নেপালজুড়ে ২৪ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং নিখোঁজ অন্তত ১৪ জন। পরিস্থিতি খারাপ থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালে (Nepal) পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ভেঙে মৃত ২৪ জন
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে মানাং, মায়াগডি, বাগলুং, পর্বত এবং পল্পা। কোথাও পাহাড়ি ধস নেমে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কোথাও আবার নদীর জল ঢুকে ভেসে গিয়েছে বসতি। কালী গণ্ডকীর জলও প্রবল বৃষ্টির জেরে বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মোবাইলে ধরা পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পাহাড়ের ঢাল আচমকাই আলগা হয়ে বিশাল অংশ নদীর দিকে নেমে যাচ্ছে। আশপাশে থাকা মানুষজন আতঙ্কে নিরাপদ জায়গায় ছুটে যান। প্রশাসনের তরফে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আবহাওয়া খারাপ থাকায় পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে (Nepal)।
নেপালের দুর্যোগ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে পরপর একাধিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে। রবিবারই মানাং জেলার তিব্বত সীমান্তের কাছে ৭,১২৬ মিটার উচ্চতার হিমলুং হিমাল পর্বতের বেস ক্যাম্পে তুষারধস নামে। প্রথমে অন্তত ১০ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর সামনে এসেছিল। পরে উদ্ধারকারীরা দু’টি দেহ উদ্ধার করেন এবং নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ চলতে থাকে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযানও বাধার মুখে পড়ে। টানা বৃষ্টি ও তুষারপাতের মধ্যে পরপর এমন ঘটনা নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
NEW – Massive landslide hits Nepal, huge mountain collapses into river https://t.co/8vNSzjT4ss
— Insider Paper (@TheInsiderPaper) September 28, 2026
এই বিপর্যয়ের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই ভয়াবহ হড়পা বানে কার্যত বিপর্যস্ত হয়েছিল নেপালের মধ্যাঞ্চল। ২৬ আগস্টের সেই দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিভিন্ন সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ১,৩৫০ থেকে ১,৫০০-র বেশি এবং এখনও কয়েক হাজার মানুষের নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছে। বহু বাড়িঘর, রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ক্ষত পুরোপুরি সামলে ওঠার আগেই ফের বৃষ্টি, বন্যা, ধস ও তুষারধসের মতো একের পর এক বিপর্যয় নেপালের মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি টানা ওয়ার্ক ফ্রম হোক! সরকারি-বেসরকারি কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
প্রকৃতির এই পরপর আঘাতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায়। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের কাছে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। কোথাও ধসের কারণে রাস্তা বন্ধ, কোথাও নদীর জল ঢুকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে জনপদ। উদ্ধারকারী দল নিখোঁজদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার কাজও চলছে। একদিকে আগের বিপর্যয়ের ক্ষত এখনও তাজা, অন্যদিকে নতুন করে শুরু হয়েছে প্রকৃতির তাণ্ডব। ফলে আপাতত নেপালের (Nepal) সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল দুর্গম এলাকাগুলিতে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং আরও ক্ষয়ক্ষতি আটকানো।













