বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রাশিয়া (Russia) থেকে ভারতের (India) অপরিশোধিত তেল আমদানি সেপ্টেম্বরে কয়েক মাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছে। তবে রুশ তেলের সরবরাহ কমলেও দেশের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানিতে তার কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং শোধনাগারগুলি বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহ বাড়ানোয় সেপ্টেম্বরে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানি দৈনিক প্রায় ৫৩ লক্ষ ব্যারেলে পৌঁছেছে। আগস্টের তুলনায় যা প্রায় ৬ লক্ষ ব্যারেল এবং এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৭ লক্ষ ব্যারেল বেশি।
সেপ্টেম্বরে বদলে গেল ভারতের (India) তেল আমদানির ছবি:
Kpler-এর তথ্য বলছে, সেপ্টেম্বরে রাশিয়া থেকে ভারত (India) দৈনিক গড়ে ১৭.৪ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। এপ্রিলের দৈনিক ১৫.৮ লক্ষ ব্যারেলের পর এটিই সর্বনিম্ন পরিমাণ। আগস্টে রাশিয়া থেকে দৈনিক প্রায় ২০.২ লক্ষ ব্যারেল এবং জুলাইয়ে প্রায় ২৬.৫ লক্ষ ব্যারেল তেল এসেছিল। অর্থাৎ মাত্র দু’মাসের ব্যবধানে রুশ তেলের সরবরাহ বেশ খানিকটা কমেছে। এর পিছনে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চাপ, বিশেষ করে ওয়াশিংটনের অবস্থান, গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে আসছে।
আরও পড়ুন: ফের ভয়ঙ্কর বিপর্যয় নেপালে! চোখের সামনে আচমকাই ভাঙল পাহাড়, মৃত কমপক্ষে ২৪
রাশিয়া থেকে সরবরাহ কমার পর ঘাটতি পূরণে এগিয়ে এসেছে ইরাক ও সৌদি আরব। সেপ্টেম্বরে ইরাক থেকে ভারতের আমদানি বেড়ে দৈনিক প্রায় ৫.৭৫ লক্ষ ব্যারেল হয়েছে, যা আগস্টে ছিল ১.৬৩ লক্ষ ব্যারেল। সৌদি আরব থেকেও আমদানি বেড়ে দৈনিক প্রায় ৫.৬৬ লক্ষ ব্যারেলে পৌঁছেছে, আগস্টে যা ছিল ৩.৪৭ লক্ষ ব্যারেল। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে দৈনিক প্রায় ৪.৮ লক্ষ ব্যারেল এসেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি আফ্রিকা ও ভেনেজুয়েলার তেলও ভারতের উৎস বৈচিত্র্যের অংশ হয়েছে।
Kpler-এর সিনিয়র ম্যানেজার সুমিত রিতোলিয়ার মতে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমলেও সেটিকে রুশ অপরিশোধিত তেল থেকে ভারতের পুরোপুরি সরে আসা হিসেবে দেখার কারণ নেই। তেলের দাম, প্রাপ্যতা এবং নির্দিষ্ট শোধনাগারে ব্যবহারের উপযোগিতা—এই বিষয়গুলিই মূলত ক্রয়ের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। তবে ভবিষ্যতে রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র যদি রুশ তেল কেনা নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে একতরফা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়, তাহলে ভারতীয় শোধনাগারগুলি নিয়মকানুন, সম্ভাব্য ছাড় এবং বিকল্প সরবরাহের বিষয় আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে পারে।

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার তেল ভারতের (India) জ্বালানি ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নেয়। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর রাশিয়া এশিয়ার বাজারে বেশি তেল পাঠাতে শুরু করলে ভারতও বড় ক্রেতা হয়ে ওঠে। সেই সম্পর্ক এখনও গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে, পরিস্থিতি বদলালে ভারতীয় শোধনাগারগুলি সরবরাহের উৎসও বদলাতে পারছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল পরিবহণ স্বাভাবিক হওয়া, হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহের উন্নতি এবং বিভিন্ন লজিস্টিক ব্যবস্থার ফলে এই বিকল্প আরও সহজ হয়েছে। একই সঙ্গে মোট আমদানি বৃদ্ধিতে শক্তিশালী জ্বালানি চাহিদা এবং শোধনাগারগুলির বেশি হারে কাজ করাও বড় ভূমিকা নিয়েছে। ফলে রুশ তেলের পরিমাণ কমলেও ভারতের তেল কেনাকাটা থেমে নেই—বরং উৎস বদলে আরও নমনীয়ভাবেই এগোচ্ছে দেশের জ্বালানি বাজার।













