বাংলা হান্ট ডেস্ক : উৎসবের মরশুমে বাজি পোড়ানো নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান জানাল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। পরিবেশ দূষণ কমানোর প্রয়োজনীয়তা মেনে নিলেও ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে মানুষের আবেগ ও দীর্ঘদিনের রীতিনীতির বিষয়টিকেও উপেক্ষা করতে চাইছে না শীর্ষ আদালত। তাই সব ধরনের বাজি একেবারে বন্ধ করার বদলে কীভাবে নিয়ন্ত্রিতভাবে তা ব্যবহারের সুযোগ রাখা যায়, সেই পথই খোঁজা হচ্ছে।
বাজি পোড়ানো নিয়ে কী নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)?
বুধবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চের সামনে বিষয়টি ওঠে। সেখানেই স্পষ্ট হয়, দুর্গাপুজো, দীপাবলি বা অন্য কোনও ধর্মীয় উৎসবের সময় বাজি পোড়ানোর উপর সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা জারির সম্ভাবনা আপাতত নেই। তবে সাধারণ মানুষের উৎসব পালনের অধিকার থাকলেও তার নামে দিনভর বাজি পোড়ানোর অনুমতিও দেওয়া হবে না।
আদালতের সামনে মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কীভাবে দুই দিকের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা যায়। একদিকে বাজি থেকে তৈরি হওয়া দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন, অন্যদিকে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে অতিরিক্ত শব্দ ও ধোঁয়ার কারণে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ মানুষের সমস্যার কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে। সেই কারণেই বাজি পোড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে।
শুনানির সময় ডিভিশন বেঞ্চও এমন একটি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে, যাতে উৎসবের রীতিটিও বজায় থাকে এবং পরিবেশের উপর চাপও কমানো যায়। আদালতের বক্তব্য, “আমাদের একটা সমাধানের রাস্তা বের করতে হবে। যার মাধ্যমে বাজি ফাটানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া যায়।”
এদিকে মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে একটি বিকল্প ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সরকারি বিধি মেনে তৈরি ‘নেক্সট-জেনারেশন জয়েন্ট গ্রিন ক্র্যাকার্স’ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনার প্রস্তাব এসেছে। তবে এই ধরনের বাজি ব্যবহার করতে হলে শব্দের মাত্রা, গ্যাস নির্গমন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত নির্ধারিত মান পূরণ করতে হবে।

আরও পড়ুন : পুজোর আগে একগুচ্ছ ট্রেন বাতিল, কোন কোন ট্রেন চলবে না? দেখে নিন তালিকা
কেন্দ্রের প্রস্তাবটি এখন আদালতের বিবেচনাধীন। ফলে এই মুহূর্তে বাজি ব্যবহারের নিয়ম নিয়ে কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ জারি হয়নি। পরবর্তী শুনানি ১৫ অক্টোবর। সেদিন পরিবেশ সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্যের বিষয় এবং উৎসবের সময় বাজি ব্যবহারের অনুমতি—সব দিক বিবেচনা করে আদালত পরবর্তী নির্দেশ দিতে পারে।













