বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির মুকুটে এবার যোগ হতে চলেছে আরও একটি আন্তর্জাতিক পালক। ভারতীয় সংস্থা ফ্লাইং ওয়েজ ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস পর্তুগালের KEYDEF-এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছে। এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘কাল ভৈরব’ (Kaal Bhairav) স্বয়ংক্রিয় UAV এবং ‘ইয়ামা’ সোয়ার্ম ইন্টারসেপ্টর ড্রোন পর্তুগালে তৈরি করা হবে। লক্ষ্য শুধু ইউরোপের বাজার নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও এই প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া। উত্তর-পশ্চিম পর্তুগালের ব্রাগায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পর্তুগালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত পুনিত রায় কুন্দল।
ড্রোন শক্তিতে ভারতের নতুন উড়ান, কাল ভৈরব (Kaal Bhairav) নিয়ে পর্তুগালের সঙ্গে চুক্তি:
এই অংশীদারিত্বে প্রাথমিক পর্যায়ে ৬ মিলিয়ন ইউরো, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে KEYDEF। পরবর্তী সময়ে এই বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে বলে জানা গিয়েছে। শুধু ড্রোনের উৎপাদন নয়, পর্তুগিজ সংস্থাটি এই প্রযুক্তির কিছু ইলেকট্রনিক উপাদান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত কাজেও যুক্ত থাকবে। FWDA-র সিইও সুহাস তেজসকন্দার বক্তব্য, ইউরোপে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তিকে আরও বড় পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে পর্তুগাল গুরুত্বপূর্ণ দরজা খুলে দিতে পারে। একই সঙ্গে পর্তুগালে তৈরি সিস্টেমগুলির জন্য NATO সার্টিফিকেশনের লক্ষ্যও রাখা হয়েছে (Kaal Bhairav)।
আরও পড়ুন: সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা! ভারতীয় সেনার হাতে খতম ২ পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারী
এই চুক্তির গুরুত্ব আরও বাড়ছে এমন এক সময়ে, যখন ভারতীয় নৌসেনাও দ্রুত নিজেদের শক্তি বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে ভারতীয় নৌসেনায় ১৮টি যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত বা কমিশন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সংখ্যা বাস্তবায়িত হলে এক বছরে নৌসেনায় যুদ্ধজাহাজ সংযোজনের ক্ষেত্রে তা হবে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সক্ষমতাও যে বেড়েছে, সেই বিষয়টি তুলে ধরেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। সম্প্রতি কমিশন হওয়া যুদ্ধজাহাজগুলিতে ৭৫ শতাংশের বেশি দেশীয় উপাদান ব্যবহারের কথাও তিনি জানিয়েছেন।
দেশের বিভিন্ন শিপইয়ার্ডে এখন একের পর এক যুদ্ধজাহাজ তৈরি হচ্ছে। কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE)-সহ একাধিক সংস্থা নৌসেনার জন্য জাহাজ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে যুদ্ধজাহাজ থেকে শুরু করে ড্রোন—প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদনের পরিসর ক্রমেই বাড়ছে। FWDA-KEYDEF-এর চুক্তিও সেই বৃহত্তর ছবির একটি অংশ, যেখানে ভারতীয় প্রযুক্তিকে দেশের সীমানার বাইরে নিয়ে গিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পর্তুগালে উৎপাদন শুরু হলে ভারতীয় তৈরি এই ড্রোনগুলির ইউরোপীয় ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন: গ্রাহকদের জন্য বড় পদক্ষেপ! ১০০ টাকার EMI-তে মিলবে গ্যাস সিলিন্ডার, কীভাবে পাবেন?
এদিকে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতীয় নৌসেনার ভূমিকা সামনে এসেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ, এমনকি LPG বহনকারী জাহাজগুলির নিরাপদ চলাচলে নৌসেনার তৎপরতার প্রশংসা করেছেন রাজনাথ সিং। ‘অপারেশন উর্জা সুরক্ষা’-র মাধ্যমে সমুদ্রপথে ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াতে সহায়তার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সমুদ্রপথে আসে, ফলে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা সরাসরি দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। একদিকে নৌসেনায় নতুন যুদ্ধজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা, অন্যদিকে ‘কাল ভৈরব’ (Kaal Bhairav) ও ‘ইয়ামা’র মতো ভারতীয় ড্রোনকে আন্তর্জাতিক উৎপাদন ও বাজারে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় প্রযুক্তির পরিসর যে আরও বড় হচ্ছে, সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপগুলি তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।













