এই কোম্পানির স্টকে বিরাট পতন! মাত্র ৬ দিনেই উধাও ৫ বছরের আয়, মাথায় হাত বিনিয়োগকারীদের

Published on:

Published on:

This company's stock has fallen drastically in the share market! Know the details.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ার বাজারে (Share Market) যথেষ্ট উত্থান-পতন পরিলক্ষিত হয়েছে। এদিকে, শেয়ার বাজারের নিয়মকানুনের আকস্মিক পরিবর্তন কীভাবে একটি সংস্থার ব্যবসায়িক মডেলকে প্রভাবিত করতে পারে, তার সাম্প্রতিক উদাহরণ হল পিবি ফিনটেক (PB Fintech)। পূর্বে পলিসিবাজার (PolicyBazaar) নামে পরিচিত এই সংস্থার শেয়ার বর্তমানে তীব্র পতনের সম্মুখীন হয়েছে। মাত্র ৬ টি ট্রেডিং সেশনের মধ্যে সংস্থাটির শেয়ারের দাম এমন কমে গিয়েছে যে বিনিয়োগকারীদের ৫ বছরের লাভ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। গত ১ অক্টোবর, শেয়ারটির দরপতন ঘটে এবং তা IPO-র ইস্যু মূল্যের নিচে নেমে যায়। এই পরিস্থিতিটি শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় শিক্ষা, যে নীতি পরিবর্তন কীভাবে বাজারের গতিপথ বদলে দেয়।

এই কোম্পানির স্টকে (Share Market) বিরাট পতন:

ক্রমাগত বিক্রির কারণে বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন: জানিয়ে রাখি যে, পিবি ফিনটেকের শেয়ারের দাম ১ অক্টোবর প্রায় ৮ শতাংশ কমে ৯৮৪ টাকায় বন্ধ হয়। লেনদেন চলাকালীন দাম ৯৮০ টাকারও নিচে নেমে গিয়েছিল। ৯৮০ টাকাই ছিল সংস্থাটির IPO মূল্য। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে শেয়ারটির দাম ১৭ শতাংশের বেশি কমেছে। রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি শেয়ারটি তার সর্বোচ্চ স্তর ২,২৫৪ টাকায় পৌঁছেছিল। তারপর থেকে এর দাম ওঠানামা করছে। শেয়ারটির দাম কিছু সময়ের জন্য ১,৮০০ থেকে ১,৯০০ টাকার মধ্যে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই দরপতন এটিকে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি লোকসান করা শেয়ারে পরিণত করেছে।

This company's stock has fallen drastically in the share market! Know the details.

হঠাৎ পতনের আসল কারণ: উল্লেখ্য যে, বাজারে এই সম্ভাবনাময় স্টকটির আকস্মিক পতনের কারণ হল বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা, IRDAI-এর একটি নতুন প্রস্তাব। বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সম্প্রতি একটি কনসাল্টেশন পেপার পেশ করেছে। যেখানে বিমা পলিসি বিক্রির কমিশন সংক্রান্ত নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে, এই প্রস্তাবটি বিমা কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর এবং এজেন্টদের আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। এদিকে, পিবি ফিনটেকের আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে বিমা পণ্য বিক্রি থেকে। তাই, নতুন নিয়ম সংস্থাটির আয়ে ব্যাপক পতন ঘটাতে পারে। এই বিপদ আঁচ করে শেয়ার বাজারে ব্যাপক দরপতন ঘটেছে।

আরও পড়ুন: নতুন নজির ভারতীয় রেলের! বিশ্বের সর্বোচ্চ রেল ব্রিজে ঘন্টায় ১০০ কিমি গতিতে ছুটল বন্দে ভারত

ব্রোকারেজ ফার্মগুলিও শেয়ারটির রেটিং কমিয়েছে: ক্রমাগত বিক্রির ফলে মার্কেট অ্যানালিস্টরা শেয়ারটি সম্পর্কে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ ফার্ম এই শেয়ারটির ক্ষেত্রে তাদের টার্গেট প্রাইস কমিয়েছে। HSBC তাদের রেটিং ‘বাই’ থেকে ‘হোল্ড’-এ কমিয়েছে। এদিকে, দোলাত ক্যাপিটাল আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে তাদের রেটিং ‘সেল’-এ অবনমন করেছে। এছাড়াও, ম্যাকোয়ারি তাদের রেটিং ‘নিউট্রাল’-এ নামিয়েছে। ৩ টি প্রধান ব্রোকারেজ ফার্মই এখন পিবি ফিনটেকের জন্য ১,১৫০ টাকার নতুন টার্গেট প্রাইস নির্ধারণ করেছে। এই রেটিংগুলি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, অদূর ভবিষ্যতে এই সংস্থার শেয়ারের পক্ষে বাজারে ফিরে আসা কঠিন হবে।

আরও পড়ুন: এশিয়ান গেমসে ইতিহাস ভারতের! প্রথমবার আর্চারি রিকার্ভ ইভেন্টে এল সোনা, বড় সাফল্য মহিলা দলের

IPO বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের ধাক্কা পেয়েছেন: জানিয়ে রাখি যে, পিবি ফিনটেক প্রায় ৫ বছর আগে, ২০২১ সালে বাজারে তাদের IPO চালু করেছিল। সংস্থাটি বিনিয়োগকারীদের কাছে ২ টাকা ফেস ভ্যালুযুক্ত শেয়ার ৯৮০ টাকায় ইস্যু করেছিল। বাজারে সংস্থাটির প্রিমিয়াম লিস্টিং হয়েছিল। ২০২৩ সাল থেকে বিনিয়োগকারীরা এই শেয়ারটির অভাবনীয় উত্থান প্রত্যক্ষ করেছেন। এই অভাবনীয় উত্থান IPO-তে শেয়ার বরাদ্দ পাওয়া বিনিয়োগকারীদের আনন্দিত করলেও এখন, এহেন রেগুলেটারি পরিবর্তন নতুন চিন্তার উদ্রেক ঘটিয়েছে। যাঁরা দীর্ঘমেয়াদী লাভের আশায় বিনিয়োগ করেছিলেন, তাঁরা এখন লোকসানের আশঙ্কায় চিন্তিত।

সতর্কীকরণ: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকির। তাই, বিনিয়োগের আগে অবশ্যই অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণ করুন।