বাংলা হান্ট ডেস্ক : নন্দীগ্রাম ছেড়ে ভবানীপুরে কেন থেকে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পাওয়ার পরেও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। শুক্রবার নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে সেই সিদ্ধান্তের নেপথ্যের কারণ নিজেই ব্যাখ্যা করলেন শুভেন্দু। আর সেখানেই পাঁচ বছর আগের নন্দীগ্রাম নির্বাচনের একটি বহুচর্চিত ঘটনাকে ফের সামনে এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের চোট নিয়ে করলেন বিস্ফোরক দাবি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পাঁচ বছর পর ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটেও দুই কেন্দ্র থেকে লড়ে জয় পান তিনি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসার পর নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন শুভেন্দু। ভবানীপুর কেন্দ্রটি নিজের কাছে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নিলেন, প্রচারের মঞ্চ থেকে তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্য, ভবানীপুর ছেড়ে দিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে ফের ওই কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়ার রাস্তা খুলে যেত। তিনি বলেন, “আমি ভবানীপুরটা ছেড়ে দিলে, যাঁকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়) মানুষ বিতাড়িত করেছে আবার দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেতেন।” এরপরই ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম নির্বাচনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন, ১০ মার্চ, নন্দীগ্রামে পায়ে চোট পেয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর প্লাস্টার করা পা নিয়ে হুইলচেয়ারে বসেই নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপানউতোরও হয়েছিল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর নির্দেশ ছাড়া এই ঘটনা ঘটতে পারে না। প্রচারে বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেছিলেন, “আজও আমায় পা ভাঙা নিয়ে হুইলচেয়ারে বসে মিটিং করতে হচ্ছে। তোমার নির্দেশ ছাড়া এ সব হতে পারে না। কোনও নন্দীগ্রামের লোক এ সব করতে পারে না। বহিরাগত গুন্ডাদের দিয়ে এ সব করিয়েছ তুমি।”
পাঁচ বছর পর সেই ঘটনাতেই নিজের বক্তব্য জানালেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে কোনও ফ্র্যাকচার হয়নি। নিজের কাছে থাকা বলে দাবি করা একটি এক্স-রে রিপোর্টের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ”আমি ব্য়ক্তি আক্রমণ করি না। আমি মুখ্য়মন্ত্রী হওয়ার পরে PG (SSKM) হাসপাতালে গেছিলাম। এক্স রে প্লেট তো রোগী পেয়ে যায়, ডাক্তারের কাছে থাকে না। কিন্তু এক্স রে রিপোর্ট থাকে। আমার কাছে ওই কাগজটা আছে। তখন উনি (মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়) মুখ্য়মন্ত্রী। ওনার ডাক্তাররা লিখে দিয়েছেন ‘নো ফ্র্য়াকচার’। আমার কাছে আছে।”

আরও পড়ুন : পুজোর আগে সোনার দামে বড় পতন, কলকাতায় আজ কত হল দর?
শুধু চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্টের কথাই নয়, কীভাবে মমতার পায়ে চোট লেগেছিল বলেও নিজের দাবি জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গাড়ির দরজা একটি লোহার বিমে ধাক্কা খেয়ে ফিরে এসে মমতার পায়ে লাগে। সেই আঘাতকেই পরে পা ভেঙে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রচারে ফের সামনে চলে এল ২০২১ সালের সেই ঘটনা।













