চাকরি থাকবে ৬০ বছর পর্যন্ত? পঞ্চায়েতের অস্থায়ী কর্মীদের নিয়ে বড় বার্তা দিলীপ ঘোষের

Published on:

Published on:

Dilip Ghosh sends a strong message regarding temporary Panchayat workers
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : গ্রামীণ কর্মসংস্থান থেকে পঞ্চায়েতের পরিকাঠামো—একাধিক ক্ষেত্রে নতুন পরিকল্পনার কথা সামনে আনলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী পদে কাজ করা কর্মীদের নিয়েও মিলল গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এক দশক বা তারও বেশি সময় ধরে পঞ্চায়েত দফতরে কর্মরত অস্থায়ী কর্মীদের ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কাজের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। তাঁদের পারিশ্রমিক, সম্মানিক এবং চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এই সংক্রান্ত প্রস্তাব ইতিমধ্যেই অর্থ দফতরে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

পঞ্চায়েতের অস্থায়ী কর্মীদের নিয়ে বড় ভাবনা পঞ্চায়েতমন্ত্রীর (Dilip Ghosh)

রবিবার বারাসতের বিদ্যাসাগর হলে গ্রাম রোজগার সহায়কদের রাজ্যস্তরের সাধারণ সভায় যোগ দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। সেখানেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “১০-১৫ বছর ধরে আপনারা কাজ করছেন। আপনাদের যোগ্য সম্মান, পারিশ্রমিক, চিকিৎসা সুবিধা এবং কমপক্ষে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত যাতে কাজ করেন, সেই ব্যবস্থা সংক্রান্ত কাজ এগোচ্ছে।”

পঞ্চায়েত দফতরের আওতায় অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা প্রায় এক লক্ষ বলে সভায় জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁদের ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দফতরের সচিব, কমিশনার এবং অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করা কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এদিনের সভায় মূলত গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিয়েও একাধিক লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পঞ্চায়েত দফতরের হাতে প্রায় ১৪,২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করার সুযোগ রয়েছে। সেই অর্থের মাধ্যমে আগামী এপ্রিলের মধ্যে ৩০ কোটি শ্রমদিবস তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যেখানে দৈনিক এক লক্ষের সামান্য বেশি শ্রমদিবস তৈরি হচ্ছে, সেখানে অক্টোবরের শেষে পাঁচ লক্ষ এবং নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে ১৫ লক্ষে পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে।

আবাস প্লাস প্রকল্পের অগ্রগতির কথাও জানান মন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫৪.৫ লক্ষ বাড়ি ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য প্রায় ১২,৫০০ জনের কাছ থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির ভূমিকা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। শুধু কর্মসংস্থান বা আবাসন নয়, গ্রামের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। স্কুল, আইসিডিএস কেন্দ্র, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পঞ্চায়েত দফতর এবং থানার উন্নয়নের জন্য একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Dilip Ghosh sends a strong message regarding temporary Panchayat workers

আরও পড়ুন :আরও ৪ বিমানবন্দর পেতে চলেছে বাংলা! কোন কোন জায়গায়? আজই মউ স্বাক্ষর

সরকারি প্রকল্পের টাকা ব্যবহারে কোনও ধরনের অনিয়ম হলে যে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে, সেই বার্তাও দিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। পুকুর সংস্কারের বরাদ্দ অর্থ নয়ছয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “জেলের ভাত খাওয়াব আমি।” এদিনের সভায় রাজনৈতিক প্রসঙ্গও বাদ যায়নি। পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আগের সরকার সাধারণ মানুষের বদলে নেতাদের উন্নয়নেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল।” তবে পঞ্চায়েতের অস্থায়ী কর্মীদের ৬০ বছর পর্যন্ত কাজের সুযোগ সংক্রান্ত প্রস্তাব বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, তার জন্য অর্থ দফতরের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর।