বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পুজোর আগে আর্থিক জটিলতার সম্মুখীন মমতা তৃণমূল (Mamata TMC)। আদালত নিযুক্ত স্পেশ্যাল অফিসার টাকা ছাড়ছেন না বলে অভিযোগ। ফলে কর্মচারীদের বেতন দেওয়া থেকে শুরু করে বাড়ি ভাড়া মেটানোয় সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলীয় তহবিলের টাকা ব্যবহার করতে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছে তাঁরা।
কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ মমতা তৃণমূল | (Mamata TMC)
মমতা তৃণমূলের তরফে দলীয় তহবিল ব্যবহার করার অনুমতির পাশাপাশি দ্রুত শুনানির আবেদনও জানানো হয়েছিল। যদিও সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পুজোর ছুটির পর আদালত খুললে এই মামলা শোনা হবে।
আরও পড়ুনঃ পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে! রাজ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে বড় নির্দেশ হাইকোর্টের
এদিকে মমতা তৃণমূলের দাবি, স্পেশ্যাল অফিসার সুব্রত তালুকদার জানতে চেয়েছেন, তৃণমূলের নাম, প্রতীক কি শুধু উপনির্বাচনের জন্য ফ্রিজ করা হয়েছে? সেটি অনির্দিষ্টকালের জন্য হয়ে থাকলে সেটাও স্পষ্ট জানাতে বলা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে পুলিশ। এরপর এই ইস্যুতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তাঁরা। গত ৯ জুলাই বিচারপতি ভট্টাচার্য জানান, ২০২৭ সালের ২৯ জানুয়ারি অবধি ওই তিনটি অ্যাকাউন্টের উপর মমতা তৃণমূলের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনার জন্য আদালতের তরফে স্পেশ্যাল অফিসার নিয়োগ করা হয়। সেই অফিসারই তৃণমূলকে রোজকার কাজকর্ম ও কর্মীদের বেতনের জন্য খরচ দেবেন বলে জানায় হাইকোর্ট।
অন্যদিকে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানায়, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নাম ও জোড়াফুল প্রতীক আপাতত ফ্রিজ করা হচ্ছে। মমতা বা ঋতব্রত শিবির, কেউই তা ব্যবহার করতে পারবে না। এরপর রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার সওয়াল করেন, কমিশনের নির্দেশে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নাম ও দলের প্রতীক ফ্রিজ হওয়ায় মমতা তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলা গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়। কারণ এই মামলা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নামে করা হয়েছে।

যদিও সেই যুক্তি মানতে চায়নি হাইকোর্ট। গত সেপ্টেম্বর মাসে বিচারপতি ভট্টাচার্য জানান, তৃণমূলের নাম, প্রতীক নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি কমিশন। আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য তাঁরা একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে। ফলে আপাতত আগের নির্দেশই বহাল থাকছে। আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারি অবধি দলীয় তহবিল থেকে টাকা খরচের অধিকার মমতা তৃণমূলের কাছেই থাকবে।
এবার আদালত নিযুক্ত স্পেশ্যাল অফিসার টাকা ছাড়ছেন না বলে অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল মমতা তৃণমূল। পুজোর ছুটির পর আদালত খুললে এই মামলার শুনানিতে কী হয় সেটাই দেখার।













