বাংলা হান্ট ডেস্ক : দুর্গাপুজোর মাসে একদিকে টানা ছুটির আবহ, অন্যদিকে রেশন (Ration) গ্রাহকদের জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। অক্টোবর জুড়ে একাধিক সরকারি ছুটি থাকায় নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে রেশন দোকান থেকে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা যাবে না। ফলে যাঁরা মাসের রেশন এখনও তোলেননি, তাঁদের হাতে খুব বেশি সময় নাও থাকতে পারে। ছুটির তালিকা না জেনে শেষ মুহূর্তে রেশন তুলতে গেলে পরিষেবা না পাওয়ার সমস্যায় পড়তে পারেন গ্রাহকেরা।
ছুটির মরশুমে কবে রেশন (Ration) তুলবেন ?
রেশন ডিলারদের সংগঠনও এই পরিস্থিতিতে আগেভাগে খাদ্যশস্য তুলে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলারস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসুর বক্তব্য, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমীর আগেই মাসের বরাদ্দ সংগ্রহ করে নেওয়া হলে গ্রাহকদের সুবিধা হবে। তাঁর কথায়, “প্রযুক্তিগত সমস্যার জন্য প্রতিমাসেই রেশন দিতে সমস্যা হচ্ছে। এমাসে অনেকগুলি ছুটি আছে। তাই দেরি না করে রেশন তুলে নিলে ভালো হবে।”
রেশন ব্যবস্থার অনলাইন পরিচালনার কিছু প্রযুক্তিগত কাজের জন্য প্রতি মাসের শুরু এবং শেষ দিনে সাধারণত খাদ্যশস্য বিতরণ বন্ধ রাখা হয়। অক্টোবরের ক্ষেত্রে ২ অক্টোবর গান্ধীজয়ন্তীর ছুটি থাকায় ৩ অক্টোবর থেকে রেশন বিতরণ শুরু হয়েছে। এরপর মহালয়া, দুর্গাপুজোর সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী, লক্ষ্মীপুজো এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলি মিলিয়ে মোট ১২ দিন পরিষেবা বন্ধ থাকার কথা। অর্থাৎ, পুজোর ব্যস্ততার মধ্যে রেশন তোলার পরিকল্পনা করতে গেলে গ্রাহকদের ছুটির ক্যালেন্ডার মাথায় রেখেই এগোতে হবে।
রাজ্য সরকারি দফতরগুলির ক্ষেত্রেও ১৫ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত পুজোর ছুটি রয়েছে। এর মধ্যে এনআই অ্যাক্ট অনুযায়ী যে দিনগুলিতে ছুটি রয়েছে, সেই দিনগুলিতে রেশন দোকান বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। কোনও পরিবারে রেশন কার্ড থাকলেও যদি দীর্ঘ সময় ধরে সেই কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য তোলা না হয়, তাহলে সেটিকে নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী টানা ছমাস রেশন না তোলা কার্ডগুলিকে ‘ইনঅ্যাক্টিভ’ হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এমন কার্ডের সংখ্যা দেশে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন : পুজোর আগে আরও ১৫০০ টাকা বাড়ল ভাতা! মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
তবে ‘ইনঅ্যাক্টিভ’ চিহ্নিত হওয়ার অর্থ কার্ডটি চিরতরে বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। প্রাথমিক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কার্ড সাময়িকভাবে ডিঅ্যাক্টিভেট করা হতে পারে। এরপর উপভোক্তাকে নিজের রেশন কার্ড এবং খাদ্যশস্য পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করার সুযোগ দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য তিন মাস সময় দেওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় যাচাই এবং e-KYC সম্পন্ন করা গেলে কার্ড পুনরায় সক্রিয় করার সুযোগ থাকবে। শেষ মুহূর্তে ভিড় বা পরিষেবা বন্ধ থাকার সমস্যায় না পড়ে সময় থাকতে রেশন তুলে নেওয়াই নিরাপদ।













