কেন বিশ্বকাপ ফাইনাল হেরেছিল আর্জেন্টিনা? লিওনেল মেসির বিদায়ী বক্তব্যে ফাঁস হলো আসল রহস্য

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্কঃ অবশেষে জমকালো সংবর্ধনার মধ্যে দিয়ে নিজের শেষ ম্যাচ খেলে আর্জেন্টিনার (Argentina) জার্সিকে চিরবিদায় জানালেন মহাতারকা লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। নিজের শেষ ম্যাচে আফ্রিকান দেশ বেনিনের বিরুদ্ধে গোল করে এবং সতীর্থদের গোল করিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ৮ টি ব্যালন ডি-অরের মালিক। তার বিদায় মুহূর্তে এস্তাদিও মনুমেন্টালের প্রতিটি দর্শকের চোখের কোণে ছিল অশ্রুবিন্দু।

মেসি নিজের নিজের সতীর্থ ও পরিবারকে পাশে নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। চোখের জল বাঁধ মানেনি এই সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের। নিজের বিদায়ী বক্তব্যে মেসি বলেন, “এই জার্সির জন্য আমার আর কিছু করার নেই, শুধু ধন্যবাদ জানানো ছাড়া। ২০ বছর ধরে, সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর মধ্যেও আমি কখনো লড়াই থামাইনি। সবসময় সামনে এগিয়ে যেতে চেয়েছি, নিজের সবটুকু দিয়েছি এবং এখানে থাকতে চেয়েছি।এখন থেকে আর এখানে আসতে না পারা, আর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে না থাকা—এটা আমাকে ভীষণ কষ্ট দেবে। আমার হাতে যদি সবকিছু থাকত, তাহলে আমি সারা জীবন এখানে থাকতে চাইতাম। কারণ আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার চেয়ে সুন্দর আর কিছু নেই।”

Argentine Football Association makes big decision to honour Lionel Messi.

বিশ্বকাপ জয়কেই পরোক্ষে নিজের ফুটবল কেরিয়ারের সেরা মুহূর্ত বলে এদিন উল্লেখ করেন মেসি। সেই যাত্রায় তাকে সাহায্য করার জন্য তিনি এদিন ধন্যবাদ জানান নিজের সতীর্থ সহ দলের প্রত্যেক কোচিং স্টাফকে। চার বছর আগের সেই প্রসঙ্গ তুলে এনে মেসি বলেন, “২০২২ সালে আমাদের স্বপ্ন ছিল শুধু আমার স্বপ্ন পূরণ করা নয়, পুরো দেশের স্বপ্ন পূরণ করা—আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া। আর আমরা সেটা করতে পেরেছি। তাছাড়া এই দল একসাথে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা জিতেছে। এই জাতীয় দলের সঙ্গে যা কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে, তার জন্য আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ। কিন্তু এই যাত্রা শুধু ২০২২ কিংবা এই শেষ বিশ্বকাপকে ঘিরে ছিল না। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনেক আগে থেকেই এই জার্সির জন্য আমার সঙ্গে অসংখ্য সতীর্থ লড়াই করেছে। তাদের প্রত্যেকেই আর্জেন্টিনার জন্য কতটা লড়েছে এবং নিজেদের কতটা উজাড় করে দিয়েছে, তা কখনোই সন্দেহ করবেন না। তাদের সবার সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়া এবং ফুটবলের বাইরেও আমাদের জীবনের এতটা সময় একসঙ্গে কাটানো—এটা আমার জন্য গর্ব ও সম্মানের বিষয় ছিল।”

আরও পড়ুন: ব্রাজিল, পানামা ম্যাচের সুখস্মৃতি ভুলিয়ে ভারতকে গোলের মালা পড়িয়ে কঠোর বাস্তবের ছোঁয়া দিল উরুগুয়ে

গত বিশ্বকাপের ফাইনালের হতাশাজনক পারফরম্যান্স ও সেই বিশ্রী খেলার কারণের পাশাপাশি নিজের অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েও মুখ খুলেছিলেন মেসি। তিনি সেই প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা আবারও বিশ্বকাপ জয়ের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলাম। আমাদের নিয়ে যত কথাই বলা হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত অস্বাভাবিক কিছুই ঘটেনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের কাছ থেকে অনেক কিছু নিয়ে নিয়েছিল, কারণ আমরা সেই ম্যাচে নিজেদের সবটুকু দিয়ে লড়েছিলাম। কিন্তু আমি মনে করি, এবার আমার অবসরের সময় এসেছে। শেষ বিশ্বকাপ আমাদের কাছ থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছিল, আমরা যে সবকিছুর মধ্য দিয়ে গিয়েছিলাম তার পর। ফাইনালে পৌঁছানোর সময় আমাদের শক্তি প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। তবুও আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি, যেমনটা সবসময় করে এসেছি।”

আরও পড়ুন: ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে হারলেও লড়াই করেছে ভারত! রইলো ব্রাজিল ম্যাচে ব্লু টাইগার্সদের ইতিবাচক দিক

এরপর মাঠে উপস্থিত সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে এবং নিজের সদ্য প্রয়াত বাবার স্মৃতিচারণও করেছেন এলএমটেন। তিনি বলেছেন, “আমি পৃথিবীর যেখানেই গিয়েছি, মনে হয়েছে আমরা যেন নিজেদের দেশের মাটিতেই খেলছি। কারণ সবসময় আপনাদের সমর্থন অনুভব করেছি। এই সমর্থন অবশ্যই চালিয়ে যেতে হবে। কঠিন সময় আসবে। আর সেই সময়েই দলকে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সমর্থন করতে হবে। এই স্টেডিয়ামেই আমি জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলোর একটি কাটিয়েছি। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দেশের মাটিতে আমাদের প্রথম ম্যাচ। দিনটি ছিল অসাধারণ। আর আজ হয়তো আমার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিনগুলোর একটি, কারণ আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে বিদায় বলছি। আমি আপনাদের সবাইকে ভীষণ মিস করব। কিন্তু আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকব। এই ছেলেদের এবং তাদের পর যারা আসবে, সবাইকে আমি সমর্থন করে যাব। এই মুহূর্তে সবার আগে যার কথা আমার মনে পড়ছে, তিনি হলেন আমার বাবা।আমি কৃতজ্ঞ, গর্বিত এবং শান্ত মনে বিদায় নিচ্ছি।সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।”