বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মালদার (Malda Flood) একাধিক বন্যা প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। এদিন হেলিকপ্টারে চেপে গোটা এলাকা ঘুরে দেখার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘খারাপ অবস্থা। ১৪০০ মিটার বাঁধ উড়ে গেলে যা হয় তাই হয়েছে। বাঁধটাকে শক্ত রাখতে হবে, ওভার ফ্লো করতে পারে। নেপালে যে বন্যা হয়েছে, তার এফেক্টে জল বিহার হয়ে এখানে ঢুকেছে। ১৪০০ মিটার বাঁধ ভেঙেছে। সারাতে হবে এখানে ২২০০ মিটার। ১৪০০ মিটার মানে বুঝতে পারছেন? কিছু আছে আর? রিং বাঁধের আর কোনো অস্তিত্বই নেই।’
মালদায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা শুভেন্দুর
এরপরই পুজোর আগেই বড় উপহার ঘোষণা করে শুভেন্দু বাবু বললেন, ‘আড়াইশো কোটি টাকা কম্পেনসেশন দিয়ে গেলাম। ৩৪ বছরের লেফট আর ১৫ বছরের মমতা ব্যানার্জি কোনোদিন ভাবতে পেরেছে? ২৫ হাজার বাড়িতে ফুল ড্যামেজ ১ লাখ ৮০, পার্ট ড্যামেজ ৯০ হাজার টাকা করে দিয়ে গেলাম। এ তো আজকের জল যন্ত্রণা নয়। ২০ বছরের যন্ত্রণা। ম্যাসিভ যন্ত্রণা ভোগ করছেন গত ৫ থেকে ৬ বছর। এদের কথা কেউ ভাবেইনি। আমার যা ছিল আমি উজাড় করে দিয়ে গেলাম। এর পার্মানেন্ট সলিউশনও আমি করাবো।’
পার্মানেন্ট সলিউশন প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘আমি বিজ্ঞানী নই, আমি কানপুর আই আই টি থেকে সাহায্য নিয়ে করবো। চিফ সেক্রেটারিকে দায়িত দিয়েছি। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এর সাথে আমরা একসঙ্গে কাজ করবো। টাকা কোনো ফ্যাক্টর হবে না। ইনিশিয়ালি ৩৭০০ কোটি টাকার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আমি এটুকু আপনাদের কথা দিতে পারি লো ল্যান্ডে যে লোকজন আছে তাদেরকে উপরে তুলে আনারও ব্যবস্থা হচ্ছে। তাদেরকে জমি এবং পাকা বাড়ি দেব।’
আরও পড়ুনঃ ‘শুভেন্দুর মতো লোক পেয়ে আমরা আরও আনন্দিত’, ,মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় বললেন প্রসূন ব্যানার্জি
একইসাথে মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘রিং বাঁধকে এমন করে দেব, যাতে জল ওভার ফ্লো করতে পারে, প্রকৃতি সর্বশক্তিমান। কিন্তু বাঁধ যাতে না ভাঙে তার জন্য আমি চেষ্টা করবো। আমার চেষ্টার কোনো ত্রুটি থাকবে না। আর স্পেশাল দায়িত্ব দিয়ে গেলাম এগ্রিকালচার, হটিকালচার আর ফিশারিকে, যাতে ক্ষতি পূরণ তারা ঠিক করে।’
সবশেষে মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, ‘এখানে আর ধান চাষ এবারে হবে না। কলাই, সরিষা এবং গম পর্যাপ্ত বীজ এবং সার আমরা সরবরাহ করবো । আর এখানে মিষ্টি মাছ হয়, মানে রুই, কাতলা, বাটা এই সব মাছ। আমরা পুরো তাদেরকে মাছের জন্য যা যা লাগে সব দেব। এবং সমস্ত স্কুলকে নরমাল করা। এবং সমস্ত নলকূপ গুলোকে রিসেন্টিং করা। যা লাগে ফুল কম্পোনেন্ট প্যাকেজ দিয়ে গেছি। তিনটে অত্যাধুনিক বোট দিয়ে দেওয়া হয়েছে ভুতনি থানায়। যাতে এই ধরনের প্রবলেমে না পড়তে হয়।’













