বাংলা হান্ট ডেস্ক : বছরের পর বছর সম্পত্তি কর জমা না পড়ায় বাড়ছে বকেয়ার পাহাড়। সেই টাকা আদায়ে এবার করদাতাদের সামনে বড়সড় ছাড়ের সুযোগ খুলে দিল কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। পুরনো করের সঙ্গে জমে থাকা সুদ ও জরিমানার বোঝা কমাতে ফের চালু করা হয়েছে ‘ওয়েভার স্কিম’। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে প্রকল্পের কথা জানান পুরসভার প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত এই সুবিধা চালু থাকবে।
কর বকেয়াতে ছাড় কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation)
এই প্রকল্পের আওতায় কতটা ছাড় মিলবে, তা নির্ভর করবে সম্পত্তির ধরন ও নির্ধারিত শর্তের উপর। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। বেসরকারি সম্পত্তির নির্দিষ্ট শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যেতে পারে। আবাসিক বাড়ি হোক কিংবা বাণিজ্যিক সম্পত্তি—নিয়ম মেনে আবেদন করলে দুই ক্ষেত্রেই এই সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকছে।
করদাতাদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াও সহজ করার চেষ্টা করেছে পুর কর্তৃপক্ষ। অনলাইনে কিউআর কোড স্ক্যান করে প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া যাবে। যাঁদের পক্ষে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন করা কঠিন, তাঁদের জন্য অফলাইনে পরিষেবা পাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, সুদের হিসাব সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ধরা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া মিটিয়ে দিলে করদাতারা সুদ ও জরিমানার ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের ছাড় পেতে পারেন।
পুরসভার হিসাব বলছে, কলকাতায় বর্তমানে ৩ লক্ষ ৮৬ হাজার ২৮৮ জন করদাতার সম্পত্তি কর বকেয়া রয়েছে। বকেয়া করের পরিমাণ ৬,৮৫৪.২৯ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর সঙ্গে জরিমানা বাবদ ৪০১.৩৮ কোটি এবং সুদ বাবদ ৩,৩১৪.১৩ কোটি টাকা বকেয়া থাকার কথাও জানানো হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া আদায় করতেই ফের ওয়েভার স্কিমের পথে হাঁটল পুরসভা।
প্রকল্পের মাধ্যমে ৭৮৪ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন : পুজোর আগেই পুরকর্মীদের বকেয়া বেতন মেটাতে হবে! চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়েও বড় নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভায় এই ধরনের উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২০ সালেও বকেয়া সম্পত্তি কর আদায়ের জন্য ওয়েভার স্কিম চালু করা হয়েছিল। কয়েক বছর পর ফের একই ধরনের প্রকল্প ফিরিয়ে এনে পুর কর্তৃপক্ষের আশা, ছাড়ের সুবিধা পেয়ে অনেকেই পুরনো কর মিটিয়ে দিতে উৎসাহিত হবেন। তাতে একদিকে যেমন নাগরিকদের আর্থিক চাপ কমবে, অন্যদিকে পুরসভার রাজস্ব আদায়ও বাড়তে পারে।তবে এই ঘোষণার সময় নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক। আগামী নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে অক্টোবরের গোড়ায় বকেয়া সম্পত্তি কর মেটানোর জন্য এমন ছাড়ের ব্যবস্থা চালু করায় বিরোধী দলগুলি প্রশ্ন তুলেছে।













