বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতের (India) রান্নার গ্যাস আমদানির (LPG Supply) ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরে বড়সড় পরিবর্তন দেখা গেল। গত ছ’মাস ধরে যে জায়গায় ছিল আমেরিকা, সেই শীর্ষস্থান দখল করল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE)। সামুদ্রিক বাণিজ্য সংক্রান্ত সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ভারতের মোট এলপিজি আমদানির ৩৯ শতাংশ এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে। আগস্টে এই হার ছিল মাত্র ১৩ শতাংশ। এক মাসে সরবরাহের এই বিপুল বৃদ্ধি ভারতের জ্বালানি আমদানির ছবিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
ভারতে LPG সরবরাহে (LPG Supply) আমেরিকাকে টেক্কা দিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী:
সেপ্টেম্বরে আমিরশাহি থেকে ভারতে এসেছে ৫ লক্ষ ৪৭ হাজার টন এলপিজি (LPG Cylinders)। আগস্টের ১ লক্ষ ৯৩ হাজার টনের তুলনায় এই পরিমাণ ১৮২ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, আমেরিকা থেকে এলপিজি আমদানি ৫৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ২৩ হাজার টনে। ফলে ভারতের মোট এলপিজি আমদানিতে আমেরিকার অংশ ৫৩ শতাংশ থেকে নেমে হয়েছে ২৩ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও সরবরাহের নিরিখে ওয়াশিংটনের প্রভাব যে কমেছে, পরিসংখ্যানেই তা স্পষ্ট।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে ‘ভোটচুরি’-র অভিযোগ বিরোধী জোটের! প্রমাণ চাইলেন দ্রৌপদী মুর্মু
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন-ইরান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে অস্থিরতার জেরে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছিল। সেই পরিস্থিতিতে আমেরিকার উপর নির্ভরতা বাড়িয়েছিল ভারত। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরবরাহ ফের বাড়ছে। ভারত নিজের প্রয়োজনীয় এলপিজির প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানি করে। ফলে সরবরাহের এই পরিবর্তন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
আমিরশাহির পাশাপাশি কুয়েত ও কাতার থেকেও আমদানি বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে কুয়েত থেকে এসেছে ১ লক্ষ ৩২ হাজার ৫৪৪ টন এলপিজি, যা আগের মাসের তুলনায় ১৫.৬ শতাংশ বেশি। কাতার থেকে এসেছে ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৩৪০ টন, বেড়েছে ৭৬ শতাংশ। তবে সৌদি আরব থেকে ওই মাসে কোনও এলপিজি আমদানি করেনি ভারত। ইরান, ওমান, আলজেরিয়া, ব্রুনাই এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্র থেকেও এসেছে জ্বালানি।

আরও পড়ুন: ১ টাকাতেই বিরিয়ানি-মিষ্টি পাবেন দুঃস্থরা! আজ থেকে রাজ্যে চালু হচ্ছে আহার ক্যান্টিন
তবে সরবরাহের উৎস বদলালেও খরচের চাপ পুরোপুরি কাটেনি। সেপ্টেম্বরে ভারতের মোট এলপিজি আমদানি (LPG Supply) আগের মাসের তুলনায় ৪ শতাংশ কমে ১৩.৯ লক্ষ টনে দাঁড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি থাকায় পরিবহণ ও বিমার খরচ এখনও বেশি। তাই উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে সরবরাহ বাড়লেও বিকল্প উৎসের উপর নির্ভরতা বজায় রাখার কৌশল চালিয়ে যেতে পারে ভারত।













