বাংলা হান্ট ডেস্ক : এতদিন যে সাঁওতালি গান, নাচ আর লোকঐতিহ্য জায়গা পেল উচ্চশিক্ষার মূল স্রোতে। আদিবাসী সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত পড়ুয়াদের জন্য নতুন দরজা খুলল ঝাড়গ্রামের (Jhargram) সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়। সাঁওতালি সঙ্গীত ও নৃত্য নিয়ে দুবছরের স্নাতকোত্তর কোর্স চালুর অনুমোদন মিলেছে উচ্চশিক্ষা দফতরের কাছ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, দেশে এই প্রথম কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে এই দুই বিষয়কে একত্রে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়ার সুযোগ তৈরি হল।
ঝাড়গ্রাম (Jhargram) বিশ্ববিদ্যালয়ে সাঁওতালি নাচে গানে মাস্টার ডিগ্রির সুযোগ
নতুন কোর্সের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আয়োজন করা হয় বিশেষ অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু, বিধায়ক প্রণত টুডু এবং সাংসদ কালীপদ সরেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাঁওতালি সংস্কৃতির শিল্পচর্চার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগও প্রসারিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন স্নাতকোত্তর কোর্স চালুর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাঁওতালি সঙ্গীত ও নৃত্য নিয়ে এক বছরের ডিপ্লোমা এবং পিজি ডিপ্লোমা কোর্স চালু ছিল। এবার সেই পাঠ্যক্রমের পরিধি বাড়িয়ে দুবছরের স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হল। ফলে এই বিষয়ে আরও বিস্তৃতভাবে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ পাবেন আগ্রহী পড়ুয়ারা।
তবে এই কোর্স চালুর পিছনে রয়েছে পড়ুয়াদের দীর্ঘদিনের দাবি। সাঁওতালি মাধ্যমের ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাঁওতালি সঙ্গীত ও নৃত্য নিয়ে উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ চেয়েছিলেন। তাঁদের সেই দাবির ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উচ্চশিক্ষা দফতরের কাছে অনুমোদনের আবেদন জানায়। এই প্রসঙ্গে উপাচার্য চন্দ্রদীপা ঘোষ বলেন, “সাঁওতালি মাধ্যমের ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাঁওতালি সঙ্গীত ও নৃত্যে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু করার দাবি জানিয়েছিলেন। আমরা উচ্চ শিক্ষাদপ্তরে এই কোর্স চালুর অনুমতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলাম। আমাদের সিলেবাস থেকে শিক্ষক সব প্রস্তুত রয়েছে। মঙ্গলবার উচ্চ শিক্ষাদপ্তরের অনুমোদন পেয়েছি। ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে পড়ুয়ারা ভর্তি হতেও শুরু করেছে।”
এই কোর্সের বিশেষত্ব বোঝাতে গিয়ে উপাচার্য আরও জানান, “শুধু মাত্র রাজ্যেই প্রথম নয়, দেশেও এই প্রথম ঝাড়গ্রামের সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রথম সাঁওতালি সঙ্গীত ও নৃত্যতে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু হচ্ছে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাঠ্যক্রম ও শিক্ষক সংক্রান্ত প্রস্তুতি সেরে রেখেই অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল বিশ্ববিদ্যালয়। অনুমতি আসার পর ভর্তি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন :কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতনে বড় বদলের সম্ভাবনা! অষ্টম বেতন কমিশনে কার কত লাভ হতে পারে?
উচ্চশিক্ষার এই সুযোগের দাবিতে আদিবাসী পড়ুয়ারা আগেও একাধিকবার আন্দোলনে নেমেছিলেন।এবার নতুন কোর্স চালু হওয়ায় সেই দাবির বাস্তবায়ন শুরু হল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাঁওতালি নাচ ও গানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা শুধু একটি নতুন কোর্স চালুর ঘটনা নয়; এর মাধ্যমে আদিবাসী ঐতিহ্যকে শিক্ষা ও গবেষণার পরিসরে আরও গভীরভাবে চর্চা করার সুযোগ তৈরি হল। ধামসা-মাদলের ছন্দের সঙ্গে শ্রেণিকক্ষের পাঠ মিলিয়ে সাঁওতালি সংস্কৃতির জ্ঞানচর্চা কতদূর এগোয়, তা সময়ই বলবে।













