বাংলা হান্ট ডেস্ক : উৎসবের মরশুমে রেলযাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে বড় পদক্ষেপ করল পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন। এবার ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে স্টেশনে আর আগের মতো অসুবিধায় পড়তে হবে না কল্যাণীর (Kalyani) যাত্রীদের। বসার জায়গা থেকে শুরু করে খাবার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লাউঞ্জ, এমনকী শিশুদের পরিচর্যার জন্যও থাকছে বিশেষ বন্দোবস্ত। দুর্গাপুজো উপলক্ষে কল্যাণী স্টেশনে একাধিক নতুন পরিষেবা চালু হওয়ায় উপকৃত হবেন প্রতিদিন যাতায়াত করা অসংখ্য মানুষ।
কল্যাণীতে (Kalyani) রেলযাত্রীদের জন্য কী বিশেষ ব্যবস্থা?
কল্যাণী স্টেশনের গুরুত্ব যথেষ্ট। এই স্টেশন থেকে ট্রেন বদলে কল্যাণী ঘোষপাড়া ও কল্যাণী সীমান্তের মতো গন্তব্যে যাওয়া যায়। পাশাপাশি কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, বনগাঁ ও গেদেগামী ট্রেন ধরতেও বহু যাত্রী এই স্টেশনের উপর নির্ভর করেন। প্রতিদিনের বিপুল যাত্রীসমাগমের কথা মাথায় রেখেই স্টেশনের নবনির্মিত ভবনে আধুনিক লাউঞ্জ, ক্যাফেটেরিয়া এবং প্রতীক্ষালয় কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থার অন্যতম আকর্ষণ বিনামূল্যের সাধারণ প্রতীক্ষালয়। ভবনের নিচের তলায় থাকা এই জায়গায় যাত্রীরা বিনা খরচে বসে অপেক্ষা করতে পারবেন। রয়েছে স্টিলের আসন, পাখা, এলইডি আলো এবং বিনোদন ও প্রয়োজনীয় তথ্য দেখানোর জন্য পর্দা। ফলে ট্রেন আসার আগে অপেক্ষার সময়টুকুও কাটবে তুলনামূলক আরামে।
যাঁরা আরও উন্নত পরিষেবা চান, তাঁদের জন্য তৈরি হয়েছে এগজিকিউটিভ পেইড লাউঞ্জ। এখানে প্রিমিয়াম কুশনযুক্ত আসন, রিক্লাইনার এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে, সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে যাতায়াত করা মায়েদের কথা মাথায় রেখে রাখা হয়েছে পৃথক শিশু পরিচর্যা কক্ষ। সেখানে বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি শিশুকে স্তন্যপান করানোর সুবিধাও মিলবে। নতুন ভবনের উপরের তলায় চালু হয়েছে আধুনিক ক্যাফেটেরিয়া। সেখানে খাবার ও ঠান্ডা পানীয়ের পাশাপাশি কফি, মিষ্টি এবং বেকারির সামগ্রী কেনার সুযোগ থাকবে। যাত্রীদের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে আধুনিক শৌচাগারও।

আরও পড়ুন : হাওড়া থেকে শিয়ালদহ, পুজোয় রাতে ট্রেনের বিশেষ সংযোগ! কোন রুটে মিলবে পরিষেবা?
এই পরিষেবা চালু করা প্রসঙ্গে শিয়ালদহের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা বলেন, “স্টেশন চত্বরকে আধুনিক যাতায়াত কেন্দ্রে রূপান্তরিত করে যাত্রীদের উন্নত স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধা প্রদান করতে শিয়ালদহ ডিভিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কল্যাণী স্টেশনের এই অত্যাধুনিক ক্যাফেটেরিয়া ও লাউঞ্জ কমপ্লেক্স যাত্রীদের পাশাপাশি স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য আমাদের দুর্গাপুজোর উপহার। একই ছাদের নীচে শিশু পরিচর্যার সুবিধা, সব ধরনের ব্যবহারকারীর জন্য পৃথক শৌচাগার এবং উন্নতমানের খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করে আমরা যাত্রীদের আরও আনন্দদায়ক, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাচ্ছন্দ্য ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দিতে চাই।” কল্যাণী স্টেশনের এই আধুনিকীকরণের ফলে নিত্যযাত্রীদের পাশাপাশি দূরবর্তী গন্তব্যে যাওয়া মানুষও উপকৃত হবেন বলে আশা রেল কর্তৃপক্ষের।














