বাংলা হান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার আবহেই একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, ভারত (India) ইরাকে (Iraq) বিপুল পরিমাণ বাসমতি চাল পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। ইন্ডিয়ান রাইস এক্সপোর্টার্স ফেডারেশন (Indian Rice Exporters Federation) তথা IREF ৩ টি বড় কার্গো জাহাজের মাধ্যমে ইরাকে মোট ১,০২,২১০ টন বাসমতি চাল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। IREF জানিয়েছে যে, ৩ টি জাহাজই ইরাকের উম্ম কাসর বন্দরে চাল পৌঁছে দেবে। এর মধ্যে ৩৬,৮১০ টন চাল বহনকারী এমভি ল্যামার এস জাহাজটি ইতিমধ্যেই বন্দরে পৌঁছেছে। এটি তৃতীয় বার্থে নোঙর করা আছে এবং চাল খালাস করার কাজ শুরু হয়ে গেছে। বাকি দুটি জাহাজ, এমভি ললো গেট ২৫,৫০০ টন চাল এবং এমভি আউটল্যান্ডার, ৩৯,৯০০ টন চাল বহন করবে। মোট বাসমতি চাল পাঠানো হবে ১,০২,২১০ টন।
ভারত (India) ইরাকে বিপুল পরিমাণ বাসমতি চাল পাঠাচ্ছে:
বাসমতি চালের জন্য পশ্চিম এশিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: জানিয়ে রাখি যে, ভারতীয় বাসমতি চালের জন্য পশ্চিম এশিয়া হল বৃহত্তম আঞ্চলিক বাজার। সেখানকার ক্রমবর্ধমান পরিবহণ খরচ এবং সরবরাহ সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা রফতানির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। IREF-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৯২৬-এর মার্চে সমাপ্ত অর্থবর্ষে ভারত পশ্চিম এশিয়ায় ৩৪,২৮৪ কোটি টাকা মূল্যের ৪৫.৬৪ লক্ষ টন বাসমতি চাল রফতানি করেছে। এটি ভারতের মোট বাসমতি চাল রফতানির প্রায় ৭০ শতাংশ। নন-বাসমতি চাল সহ এই অঞ্চলে ভারতের মোট চাল রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৬.৪৮ লক্ষ টনে। যার মূল্য ৩৯,৬৫৭ কোটি টাকা।

সৌদি আরব বৃহত্তম বাজার: উল্লেখ্য যে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৮,৩২৪ কোটি টাকার চাল রফতানির মাধ্যমে সৌদি আরব ভারতীয় বাসমতি চালের জন্য পশ্চিম এশিয়ার বৃহত্তম বাজার ছিল। এরপর ইরানে ৬,৯৭০ কোটি টাকার, ইরাকে ৫,৫৮৩ কোটি টাকার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে ৪,১৩২ কোটি টাকার বাসমতি চাল পাঠানো হয়।এই সময়কালে ইরাক ভারত থেকে প্রায় ৭.৬৪ লক্ষ টন বাসমতি চাল আমদানি করেছিল। সামগ্রিক চিত্রটি এই বাজারের জন্য নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং প্রতিযোগিতামূলক পণ্য পরিবহণ খরচের গুরুত্ব তুলে ধরে।
আরও পড়ুন: বড় পদক্ষেপ রেলের! বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে এবার ২৪ টি কোচ, থাকবে প্যান্ট্রি কারও
এদিকে, IREF-এর জাতীয় সহ-সভাপতি দেব গার্গ বলেছেন যে, ভারতের বাসমতি চাল রফতানির প্রায় ৭০ শতাংশই পশ্চিম এশিয়ায় যায়। এমতাবস্থায়, ক্রমবর্ধমান পরিবহণ খরচ ভারতীয় রফতানিকারীদের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।
আরও পড়ুন: আমজনতার বাড়ছে চিন্তা! ২ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছল খুচরো মুদ্রাস্ফীতি, সামনে এল পরিসংখ্যান
তিনি বলেন, প্রতি টনে পণ্য পরিবহণের খরচ ৩৫০ ডলার থেকে ৯০ ডলারে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রাটি উন্নত লজিস্টিকস ব্যবস্থার সুফল তুলে ধরে। যা ভারতীয় রফতানিকারী ও বিদেশি ক্রেতা উভয়কেই লাভবান করতে পারে। IREF-এর লক্ষ্য হল অন্যান্য উপসাগরীয় বাজারের জন্যও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক সমাধান তৈরি করা এবং ভারতের চাল রফতানিকে সামগ্রিকভাবে শক্তিশালী করা।














