বাংলা হান্ট ডেস্ক: মুদ্রাস্ফীতি (Retail Inflation) চিন্তা বাড়াচ্ছে আমজনতার। সোমবার প্রকাশিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতের (India) খুচরো মুদ্রাস্ফীতি গত অগাস্ট মাসের ৪.৮৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬-এর সেপ্টেম্বরে ৫.৫৪ শতাংশে পৌঁছেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৪-এর শেষের দিকের পর এটাই সর্বোচ্চ স্তর। এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ হল খাদ্যপণ্য, বিশেষ করে শাক-সবজির দামে তীব্র বৃদ্ধি। এই নিয়ে টানা চতুর্থ মাস মুদ্রাস্ফীতি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (Reserve Bank of India) তথা RBI-র ৪ শতাংশের মিডিয়াম-টার্ম টার্গেটের ওপরে রয়েছে। যেটি ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতির চাপকেই প্রতিফলিত করে। এদিকে, এই সময়েই বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের উচ্চ মূল্য, দুর্বল রুপি এবং কৃষি উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ মুদ্রাস্ফীতির পরিস্থিতিকে কঠিন করে তুলেছে। জানিয়ে রাখি যে, খুচরো মুদ্রাস্ফীতি গত জুনে প্রথমবারের মতো RBI-এর ৪ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে। যা গত মে মাসের ৩.৯৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.৩৮ শতাংশে হয়েছিল। এদিকে, সেপ্টেম্বরে গ্রামীণ CPI মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৬.০৮ শতাংশে। যেখানে অগাস্টে তা ছিল ৫.২৪ শতাংশ। এদিকে, শহুরে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৪.৮৮ শতাংশ। যা তার আগের মাসে ছিল ৪.৩১ শতাংশ।
২ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছল খুচরো মুদ্রাস্ফীতি (Retail Inflation):
খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে: National Statistical Office তথা NSO অনুসারে, সেপ্টেম্বরে খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি আগের মাসের ৫.৯৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭.৭৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে দামি ৫ টি পণ্য হলো পেঁয়াজ (১০৮.০৯ শতাংশ), রুপোর গয়না (৮৭.৮ শতাংশ), আদা (৬২.৮৫ শতাংশ), রসুন (৫৪.৬২ শতাংশ) এবং লেবু (৩৬.৪১ শতাংশ)। অন্যদিকে, গাড়ি ও জিপ, আলু, টমেটো, ঢেঁড়শ এবং নারকেলের মুদ্রাস্ফীতি ঋণাত্মক ছিল। NSO-র তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতিযুক্ত ৫ টি রাজ্য হলো তামিলনাড়ু, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশ। এদিকে, মিজোরামে মুদ্রাস্ফীতি ছিল সর্বনিম্ন। উল্লেখ্য যে, NSO দেশের সমস্ত রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জুড়ে ১,৪০৭ টি নির্বাচিত শহুরে বাজার (অনলাইন বাজার সহ) এবং ১,৪৬৫টি গ্রাম থেকে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে রিয়েল-টাইম মূল্য তথ্য সংগ্রহ করে। NSO জানিয়েছে যে, সেপ্টেম্বর ২০২৬ চলাকালীন গ্রামীণ ও শহুরে উভয় বাজারেই রেসপন্স রেট ছিল ১০০ শতাংশ।

মুদ্রাস্ফীতি বেড়েই চলেছে: জানিয়ে রাখি যে, TV9-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫ থেকে ৭ অক্টোবরের মধ্যে ৪১ জন অর্থনীতিবিদের ওপর পরিচালিত রয়টার্সের এক সমীক্ষায় সেপ্টেম্বরের জন্য খুচরো মুদ্রাস্ফীতি ৫.৪০ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এটি অগাস্টে রিপোর্ট করা ৪.৮২ শতাংশ হারের চেয়ে বেশি ছিল, এবং অনুমানগুলি ৪.৯০ শতাংশ থেকে ৫.৯০ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। গত ৭ অক্টোবর RBI-এর মনিটারি পলিসি কমিটি (MPC) বেঞ্চমার্ক রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করার কয়েকদিন পরেই সেপ্টেম্বরের এই পরিসংখ্যানটি সামনে এল। এদিকে, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকির কারণে প্রায় ৪ বছরে এই প্রথম সুদের হার বাড়ানো হয়েছে।
India’s CPI inflation rises to 5.54% in September 2026, up from 4.83% in August, according to government data.
Food inflation climbs to 7.74%, from 5.97% in August. https://t.co/uH7bYAU9kF
— ANI (@ANI) October 12, 2026
ইতিমধ্যেই RBI অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য থেকে শুরু করে খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্য এবং আমদানিজনিত মুদ্রাস্ফীতির ওপর দুর্বল রুপির প্রভাবের মতো কারণ উল্লেখ করে ২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য তাদের মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস ৫.০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫.২ শতাংশে করেছে। সেপ্টেম্বরের ৫.৫৪ শতাংশের মুদ্রাস্ফীতির হারটি ২০২৬ সালের জন্য ভারতের সংশোধিত CPI সিরিজে এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ হার। এই সিরিজের নতুন বেস ইয়ার হল ২০২৪ এবং কনজাম্পশন বাস্কেট আপডেট করা হয়েছে। এর আগে, অগাস্টে কনজিউমার প্রাইসে ৪.৮৩ শতাংশ এবং জুলাইয়ে ৪.৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছিল।
আরও পড়ুন: অ্যাকাউন্টে হঠাৎ ঢুকেছে টাকা? সতর্ক না হলেই পড়বেন বিপদে, SBI জানাল জালিয়াতির নতুন পন্থা
RBI মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে: উল্লেখ্য যে, গত ৭ অক্টোবরের মনিটারি পলিসির সমীক্ষায় RBI তার মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়ানোর পর এই সর্বশেষ মুদ্রাস্ফীতির পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। যা মুদ্রাস্ফীতির চাপের স্থায়িত্ব এবং বিস্তার নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক অগাস্ট মাসের ৫.০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য তার CPI মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস ৫.২ শতাংশ করেছে। RBI এখন আশা করছে যে, ২০২৭ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে মুদ্রাস্ফীতি ৪.৯ শতাংশ হবে, এরপর ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে তা বেড়ে ৬.০ শতাংশ এবং মার্চ ত্রৈমাসিকে ৫.৭ শতাংশ হবে। ঝুঁকি ভারসাম্যপূর্ণ বিবেচনা করে ২০২৮ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের জন্য মুদ্রাস্ফীতির অনুমান ৫.৬ শতাংশ করা হয়েছে।














