Durga Puja 2026 Live Updates

পড়ুয়াদের সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ, স্কুলগুলির জন্য নয়া নির্দেশিকা জারি শিক্ষা দপ্তরের

Published on:

Published on:

Education Department issues new guidelines for schools
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : স্কুলে (School)পড়তে গিয়ে আর যাতে পথকুকুরের আক্রমণের আতঙ্কে ভুগতে না হয় পড়ুয়াদের, সেই লক্ষ্যেই এবার কড়া পদক্ষেপের পথে শিক্ষা দপ্তর। স্কুল চত্বরে বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ এবং হামলার একাধিক ঘটনা সামনে আসার পর উত্তর ২৪ পরগনার সব স্কুল ও মাদ্রাসার জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) দপ্তর। বিদ্যালয়গুলিতে কীভাবে এই সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে, তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। নির্দেশ অমান্য না করে পড়ুয়াদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

স্কুল চত্বরের (School) সামনে থাকবে না পথকুকুর

সুপ্রিম কোর্ট ও রাজ্যের স্কুল শিক্ষা কমিশনারের নির্দেশ অনুযায়ী, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দপ্তর জানিয়েছে, জেলার কোনও স্কুল বা মাদ্রাসাই এই নির্দেশের আওতার বাইরে নয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে এবং স্কুলের পরিবেশ নিরাপদ রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে। কুকুর নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘অ্যানিমেল হাজব্যান্ড্রি অফ ইন্ডিয়া’র নির্ধারিত এসওপি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নিতে হবে বিদ্যালয়গুলিকে।

প্রতিটি স্কুলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নোডাল শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, স্কুল চত্বরে কুকুরের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় ব্লক প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট পুরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। নির্দেশিকার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বনগাঁ ও বসিরহাট মহকুমার অতিরিক্ত জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক এবং জেলার সমস্ত বিদ্যালয় পরিদর্শককে স্কুলগুলির কার্যকলাপ খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশ অনুযায়ী নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা তাঁদের নজরে রাখতে হবে। স্কুলের পঠনপাঠন চলাকালীন কোনও পড়ুয়া যাতে কুকুরের আক্রমণের শিকার না হয়, সেই বিষয়টিই প্রশাসনের কাছে প্রধান বিবেচ্য। হঠাৎ কেন এই পদক্ষেপ? প্রসঙ্গত, ওড়িশার বালেশ্বরে শৌচাগারে যাওয়ার সময় স্কুলের ভিতরেই তৃতীয় শ্রেণির এক পড়ুয়াকে আক্রমণ করে একটি পথকুকুর। শিশুটির আঙুল-সহ শরীরের একাধিক জায়গায় কামড়ের ক্ষত তৈরি হয়। হরিয়ানার হিসার জেলার সিসওয়াল গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একটি কুকুর শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ছয় পড়ুয়াকে কামড়ে দেয়। স্কুলের মতো জায়গায় এমন ঘটনা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির নাগরাকাটাতেও স্কুল চত্বরে কুকুরের উপদ্রব নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছিল। মিড-ডে মিল খাওয়ার সময়ে একাধিক কুকুর স্কুলের ভিতরে ঘোরাফেরা করছিল। খাবারের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তারা ছোট ছোট পড়ুয়াদের কাছাকাছি চলে আসছিল বলে জানা যায়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছিল যে, যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

Education Department issues new guidelines for schools

আরও পড়ুন : ‘স্টল না বলে প্রদর্শনী বলুন, বিক্রি তো হয় না’! বুকস্টল বিতর্কে সিপিএমকে খোঁচা দিলীপের

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শুধু নির্দেশিকা জারি করাই নয়, মাঠপর্যায়ে তার প্রয়োগ এবং নিয়মিত নজরদারিই এই সমস্যার মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এবার নজর থাকবে, জেলার স্কুল ও মাদ্রাসাগুলিতে কত দ্রুত এই ব্যবস্থা কার্যকর হয় এবং পড়ুয়াদের জন্য কতটা নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়।