Durga Puja 2026 Live Updates

IIT-তে পড়াশোনার পর চাকরির সুযোগ ছেড়ে UPSC-র প্রস্তুতি! প্রথমবারেই সফল হয়ে IAS হলেন ক্ষিতিজ

Published on:

Published on:

Success Story of Kshitij Gurbhele will amaze you
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: সাফল্যের (Success Story) পথে অনেকেই নিরাপদ ভবিষ্যৎ বেছে নেন, আবার কেউ কেউ নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য পরিচিত গণ্ডি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। ক্ষিতিজ গুরভেলের (Kshitij Gurbhele) কাহিনি তেমনই এক তরুণের, যিনি আইআইটি রুরকিতে পড়াশোনা শেষ করে ক্যাম্পাস প্লেসমেন্টের মাধ্যমে উচ্চ বেতনের চাকরি পাওয়ার সুযোগ থাকলেও সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট—একজন আইএএস অফিসার হওয়া। পরিবারের কাছে তাঁর এই সিদ্ধান্ত প্রথমে কিছুটা অপ্রত্যাশিত মনে হলেও, নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল ছিলেন ক্ষিতিজ। আর সেই জেদ ও ধারাবাহিক পরিশ্রমের ফলও মেলে হাতেনাতে। প্রথম প্রচেষ্টাতেই ইউপিএসসি (UPSC) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সর্বভারতীয় স্তরে ৪৪১ র‍্যাঙ্ক অর্জন করেন তিনি। তাঁর এই সাফল্য শুধু একটি কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার গল্প নয়, বরং নিজের সিদ্ধান্তে বিশ্বাস রেখে এগিয়ে চলারও এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।

ক্ষিতিজ গুরভেলের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করার পর জেইই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইআইটি রুরকিতে পড়ার সুযোগ পান ক্ষিতিজ। সেখানেই পড়াশোনার পাশাপাশি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি। একটি সাক্ষাৎকারে ক্ষিতিজ জানিয়েছিলেন, ইউপিএসসি পরীক্ষার জন্য তিনি নিজেকে সর্বোচ্চ দু’বার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ফলে প্রথম প্রচেষ্টাতেই সাফল্য পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপকে গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর প্রস্তুতির পদ্ধতিও ছিল বেশ পরিকল্পিত। নিজেই সংক্ষিপ্ত নোট তৈরি করতেন, যাতে পরীক্ষার আগে অল্প সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি ঝালিয়ে নেওয়া যায়। পাশাপাশি নিয়মিত উত্তর লেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন। প্রস্তুতির জন্য অনলাইন রিসোর্স ও ইন্টারনেটের সাহায্য নিলেও কোনও কোচিং প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করেননি তিনি। নিজের সময়সূচি তৈরি করে ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই ছিল তাঁর সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।

আরও পড়ুন: জল্পনার অবসান! জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইন্ডি জোটের বিক্ষোভে শামিল বিজয়ের দল টিভিকে

ইউপিএসসি পরীক্ষার লিখিত পর্ব পেরিয়ে সাক্ষাৎকারের মুখোমুখি হওয়াও ছিল ক্ষিতিজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারে করা প্রশ্নগুলির উত্তর তিনি যথাসম্ভব সততা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এক পর্যায়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, নিজেকে ১০-এর মধ্যে কত নম্বর দেবেন তিনি। উত্তরে ক্ষিতিজ বলেন, “আপনারা যদি আমাকে ৭ দেন, আমি একজন সিভিল সার্ভেন্ট হয়ে বের হব।” তাঁর এই জবাবের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি নিজের মূল্যায়ন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণাও ফুটে ওঠে। ইউপিএসসির মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শুধু তথ্য জানা নয়, নিজের বক্তব্য যুক্তি দিয়ে তুলে ধরা এবং চাপের মুখেও স্থির থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষিতিজের অভিজ্ঞতা সেই দিকটিও সামনে আনে।

তবে ক্ষিতিজের সাফল্যের গল্পের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর। আইএএস হওয়ার খবরটি বাবাকে জানানোর জন্য তিনি বেছে নিয়েছিলেন একেবারে অন্যরকম পথ। বাবা যখন অফিসে সহকর্মীদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ করছিলেন, তখন সেখানে হাজির হন ক্ষিতিজ। এরপর রসিকতার ছলে বাবাকে বলেন, “যখন কোনও সিনিয়র অফিসার আসেন, তখন আপনার উঠে দাঁড়ানো উচিত।” ছেলের মুখে এমন কথা শুনে বাবা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছিলেন, বিশেষ কিছু ঘটেছে। যে ছেলেকে ঘিরে তাঁর এত আশা, সেই ছেলেরই সাফল্যের খবর এভাবে সামনে আসা মুহূর্তটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলে। এই ঘটনা ক্ষিতিজের জীবনে বাবা-মায়ের অবদান এবং তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধার কথাও মনে করিয়ে দেয়।

Success Story of Kshitij Gurbhele will amaze you.

 

আরও পড়ুন: আমূল-মাদার ডেয়ারি পাবে জোরদার টক্কর! মাত্র ২০ টাকায় ‘জয়ল্যান্ড ফ্লেভার্ড মিল্ক’ নিয়ে হাজির রিলায়েন্স

সাফল্যের (Success Story) পর ক্ষিতিজের অভিজ্ঞতা থেকে ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য যে বার্তা উঠে আসে, তা হল—শুধু অনুপ্রেরণার অপেক্ষায় থাকলে চলবে না, বরং প্রতিদিনের কাজে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি প্রয়োজন সঠিক মানসিকতা, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিকতা। অন্যের প্রস্তুতির ধরন অন্ধভাবে অনুসরণ না করে নিজের শক্তি ও দুর্বলতা বুঝে কৌশল তৈরি করা জরুরি। ক্ষিতিজের যাত্রা দেখায়, দামি কোচিং বা প্রচলিত পথই সাফল্যের (Success Story) একমাত্র শর্ত নয়; নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা করে নিয়মিত চেষ্টা আরওচালিয়ে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কাহিনি তাই শুধু ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীদের নয়, জীবনে বড় কোনও লক্ষ্য স্থির করা প্রত্যেক তরুণের কাছেই অনুপ্রেরণার হয়ে উঠতে পারে।