বাংলা হান্ট ডেস্ক : পুজোর ছুটিতে সমুদ্রের বদলে যাঁরা পাহাড়ের শীতল আবহ আর বরফের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তাঁদের কাছে এখন অন্যতম আকর্ষণ সিকিম(Sikkim)। পাহাড়ি পথের বাঁকে বাঁকে জমে থাকা বরফ, গাছের ডালে সাদা তুষারের আস্তরণ আর মেঘে ঢাকা উপত্যকা—সব মিলিয়ে উত্তর ও পূর্ব সিকিমের ছবিটাই বদলে গিয়েছে। তুষারপাতের এমন দৃশ্য দেখতে পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে। তার সঙ্গে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন থাকায় ছুটির মরশুমে সিকিমে পর্যটনের ব্যস্ততাও তুঙ্গে।
বরফে ঢেকেছে সিকিম(Sikkim), আগ্রহ বাড়ছে পর্যটকদের
সিকিমের পূর্ব প্রান্তে ভারত-তিব্বত সীমান্তের কাছে নাথু-লা, জুলুক ও নাথাং ভ্যালিতে তুষারপাতের জেরে চারপাশ সাদা হয়ে রয়েছে। ঐতিহাসিক সিল্ক রুটের অংশ জুলুকের পাহাড়ি পথের বিশেষ আকর্ষণ তার ৩২টি হেয়ারপিন বাঁক। পাহাড়ের গায়ে সাপের মতো এঁকেবেঁকে যাওয়া এই রাস্তায় বরফ জমে তৈরি হয়েছে অনন্য দৃশ্য। নাথু-লা পাসের প্রায় ১৪,২০০ ফুট উচ্চতা এবং প্রায় ১০ হাজার ফুট উঁচু জুলুকেও একাধিক দফায় ভারী তুষারপাত হয়েছে। ফলে সীমান্ত সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলগুলি যেন শীতের সাদা চাদরে মোড়া।
উত্তর সিকিমেও বরফের দেখা মিলছে একাধিক পর্যটনকেন্দ্রে। জিরো পয়েন্ট, লাচুং এবং ইউমথাং ভ্যালির উঁচু অংশে তুষারপাতের পর গাছপালা ও পাহাড়ের গায়ে জমেছে বরফ। বিশেষ করে ইউমথাংয়ের গাছের ডালে পেঁজা তুলোর মতো তুষার জমে থাকতে দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন পর্যটকেরা। মহালয়ার সময় থেকেই এই অঞ্চলে তুষারপাতের খবর মিলেছে। অক্টোবরের গোড়া থেকে শুরু হওয়া এই পরিস্থিতি পর্যটকদের কাছে পাহাড় সফরের আকর্ষণ আরও বাড়িয়েছে।
তবে বরফের সৌন্দর্যের আড়ালে রয়েছে কিছু ঝুঁকিও। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ও পূর্ব সিকিমের উঁচু এলাকায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে রয়েছে। আকাশ মেঘলা থাকায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফের ভারী তুষারপাত হতে পারে। বরফ জমে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে ‘ব্ল্যাক আইস’—রাস্তার উপর বরফের এমন পাতলা স্তর, যা সহজে চোখে পড়ে না, অথচ গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হতে পারে। উচ্চতার কারণে অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকা এবং দ্রুত আবহাওয়া বদলে যাওয়ার বিষয়টিও পর্যটকদের মাথায় রাখতে হবে।
তার পরেও সিকিমে বেড়াতে যাওয়ার আগ্রহ কমছে না। পর্যটন সংস্থাগুলির দাবি, পুজোর ছুটিতে পর্যটকদের আনাগোনা ক্রমশ বাড়ছে। পর্যটনের এই ব্যস্ততা বাড়ার পিছনে আরেকটি কারণ রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে সেপ্টেম্বর মাসে উত্তর সিকিমের লাচেন, লাচুং এবং গুরুদংমার লেকের পথে পর্যটকদের যাতায়াত ফের শুরু হয়েছে। ফলে বহুদিন পর ওই এলাকাগুলি ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়ে পর্যটকদের আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে বাঙালি পর্যটকদের ভিড় পুজোর ছুটিতে বাড়ছে বলে পর্যটন মহলের সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে সিকিম সরকারও একাধিক উৎসবের আয়োজন করেছে। রাজ্যের অন্যতম প্রধান উৎসব দাশাইন শুরু হয়েছে ১২ অক্টোবর, চলবে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। উৎসবকে ঘিরে গ্যাংটকের এমজি মার্গ-সহ বিভিন্ন এলাকায় হোটেল ও হোমস্টেতে বুকিংয়ের চাপ বেড়েছে। তাই শেষ মুহূর্তে গাড়ি বা অনুমতিপত্রের সমস্যায় পড়তে না হয়, সে জন্য আগেভাগেই প্রয়োজনীয় পারমিট ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন ট্রাভেল অপারেটররা।

আরও পড়ুন : পুজোয় ওঠেনি ইলিশ, পুজোর বাজেটে কাটছাঁট, জৌলুসহীন কাকদ্বীপ
অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের শুরুতেও রয়েছে আরও কিছু আয়োজন। গ্যাংটকের দ্য রিজ পার্কে ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে সিকিম আর্টস অ্যান্ড লিটারেচার উৎসব। অন্যদিকে, নামচি জেলার নামথাংয়ে ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে অ্যাডভেঞ্চার টুরিজম ফেস্টিভ্যাল। ফলে তুষারপাতের পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি, সাহিত্য এবং অ্যাডভেঞ্চারমূলক কর্মকাণ্ডের টানেও পর্যটকদের কাছে সিকিম আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।














