বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) জয়জয়কার। এই প্রকল্পের টাকা দিয়ে প্রথমবার গ্রামে দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2026) আয়োজন করলেন বাঁকুড়ার খাতড়া ব্লকের বৈদ্যনাথপুর পঞ্চায়েতের গোঁসাইডাঙা গ্রামের মহিলারা। আগামী বছর আরও বড় করে পুজো আয়োজনের পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছেন এক উদ্যোক্তা।
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকায় প্রথম দুর্গাপুজো | (Annapurna Yojana)
গোঁসাইডাঙার চারটি পাড়া মিলিয়ে প্রায় ২০০টি পরিবার বসবাস করে। এত বছর গ্রামে কোনও দুর্গাপুজো না হওয়ায় ঠাকুর দেখতে প্রায় ২ কিমি দূর বৈদ্যনাথপুর বা ১৪-১৫ কিমি দূর মহকুমা সদরে যেতে হত। শিশু-প্রবীণদের অত দূরে নিয়ে যেতে বেশ সমস্যাতেও পড়তেন অনেকে। এমনকি বাড়িতে আত্মীয় স্বজন এলেও গ্রামে পুজো না হওয়ায় ব্যাপারটা যেন ঠিক জমত না।
আরও পড়ুনঃ সাত্ত্বিকতা মেনে সম্পূর্ণ সনাতনীদের পুজো হোক! আগামী বছর থেকে থিমের দাপাদাপি চান না কৌস্তভ
দীর্ঘদিনের এই আক্ষেপ দূর করতে পুজোর ২০ দিন আগে বৈঠকে বসেন গোঁসাইডাঙা গ্রামের মহিলারা। ঠিক হয়, গত কয়েক মাসে অন্নপূর্ণা যোজনার জমানো অনুদান দিয়েই পুজো হবে। রাজি হয়ে যান প্রায় ১৪০ জন মহিলা। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন অন্য বাসিন্দারাও। এরপর শুরু হয়ে যায় তোড়জোড়।
গোঁসাইডাঙা গ্রামের হরিমন্দির ঘিরে মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। খাতড়া শহর থেকে প্রতিমা আনা হয়েছে। পুজোর চারদিন গ্রামের কচিকাঁচাদের নিয়ে বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই বিষয়ে পুজো কমিটির সভাপতি অপর্ণা দুলে বাউরি ও সম্পাদক নীলিমা মুদি বলেন, “নিজেদের টাকায় গ্রামের প্রথম দুর্গাপুজো করতে পেরে আমরা খুব খুশি। চারদিন পরিবার-পরিজনদের নিয়ে মেতে থাকার থেকে ভালো আর কী হতে পারে!“

পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা মিঠু ঘোষ জানান, এই পুজোর জন্য বাড়ির পুরুষ সদস্যদের থেকে তেমন টাকা নেওয়া হয়নি। মূলত অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দিয়েই এই পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গেই ১ লক্ষ টাকার অনুদান দিয়েছে রাজ্য সরকার। আগামী বছর আরও বড় করে পুজোর আয়োজন ও গ্রামেই প্রতিমা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের মাসে মাসে ৩ হাজার টাকা করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। সেই টাকা দিয়েই গ্রামের প্রথম দুর্গাপুজোর আয়োজন করলেন গোঁসাইডাঙা গ্রামের মহিলারা। সেই ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ।














