Durga Puja 2026 Live Updates

নোবেল না পেয়ে এবার পুলিৎজারের ‘বায়না’! লেখালেখির জন্য পুরস্কার পাওয়ার দাবি ট্রাম্পের

Published on:

Published on:

After Nobel, Trump now vents his frustration over not receiving the Pulitzer Prize.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: নোবেল শান্তি পুরস্কার (Nobel Peace Prize) না পাওয়ার আক্ষেপ আগেই প্রকাশ করেছিলেন। এবার তাঁর দাবি, লেখালিখির জন্যও পুলিৎজার পুরস্কার (Pulitzer Prize) পাওয়া উচিত ছিল তাঁর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) এমন মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। সম্প্রতি দক্ষিণ ক্যারোলিনায় একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুলিৎজার পুরস্কারপ্রাপকদের নিশানা করেন তিনি। রাশিয়া সংক্রান্ত তদন্তের খবর প্রকাশের জন্য পুরস্কার পাওয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য পরিবেশনের অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘‘আমি নোবেল পুরস্কার পাইনি। পুলিৎজারও পাইনি। লেখালিখির জন্য আমার পুলিৎজার পাওয়া উচিত ছিল।’’ তবে ঠিক কোন লেখা বা বইয়ের জন্য তিনি এই সম্মান পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করেন, তা স্পষ্ট করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

নোবেলের পর এবার পুলিৎজার পুরস্কার (Pulitzer Prize) না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন ট্রাম্প

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পিছনে রয়েছে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার পুরনো ক্ষোভও। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত থামাতে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে একাধিকবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নিজের যোগ্যতার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। কিন্তু মনোনীত হওয়ার পরেও সেই সম্মান তাঁর হাতে আসেনি। ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ভারতীয় বংশোদ্ভূত নবি পিল্লাই পাওয়ার পরও নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। নরওয়ের নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক’ এবং ‘বিব্রতকর’ বলে আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে দেশেরই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পুলিৎজার পুরস্কার (Pulitzer Prize) নিয়ে তাঁর মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুন: M.Tech করেও চাকরির প্রতি অনীহা! ড্রাগন ফল চাষ করেই বছরে ২ কোটির ব্যবসা মহেশের

দক্ষিণ ক্যারোলিনার সভায় ট্রাম্প শুধু নিজের পুরস্কার না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করেননি, বরং পুলিৎজার জয়ী সাংবাদিকদের কাজ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। রাশিয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে তদন্ত ও সংবাদ পরিবেশনা হয়েছিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন তিনি। এ বারও সেই প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্পের অভিযোগ, ওই বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সাংবাদিকেরা পুলিৎজার পুরস্কার পেলেও তাঁদের তথ্য সঠিক ছিল না। তিনি বলেন, যাঁরা রাশিয়া সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য এই সম্মান পেয়েছেন, তাঁদের আদৌ পুরস্কার পাওয়া উচিত হয়নি। ট্রাম্পের দাবি, ওই সাংবাদিকেরা ভুল করেছিলেন। তবে তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে সভায় নির্দিষ্ট কোনও প্রতিবেদন বা তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরেননি তিনি।

উল্লেখ্য, পুলিৎজার পুরস্কার আমেরিকার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বার্ষিক সম্মান। সাংবাদিকতা, সাহিত্য, নাটক এবং সঙ্গীতের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরেই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং জনস্বার্থে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিৎজার পুরস্কারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ফলে এই পুরস্কারপ্রাপকদের নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় এসেছে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট নয়—কোন লেখার জন্য তিনি নিজেকে পুলিৎজার পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করছেন। নিজের বক্তব্যে তিনি পুরস্কারপ্রাপকদের সমালোচনা করলেও নিজের লেখার কোনও নির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরেননি।

After Nobel, Trump now vents his frustration over not receiving the Pulitzer Prize.

আরও পড়ুন: নকশালদের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে বিস্ফোরণে হারিয়েছেন পা! এশিয়ান প্যারা গেমসে সোনা জিতে নজির তোমানের

লেখালিখির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ নিয়মিত নিজের মতামত প্রকাশ করেন তিনি। ব্যবসা, রাজনীতি ও কৌশল নিয়ে তাঁর নামে একাধিক বইও প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত ‘দ্য আর্ট অফ দ্য ডিল’ তাঁর বহুল পরিচিত বইগুলির মধ্যে অন্যতম। যদিও বইটি লেখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন গোস্টরাইটার টনি শোয়ার্টজ। ট্রাম্পের নামে প্রকাশিত বইগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটিতেই সহ-লেখক বা অন্য লেখকেরা কাজ করেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে লেখার জন্য পুলিৎজার (Pulitzer Prize) পাওয়ার দাবি নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে। নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে অসন্তোষের পর এবার পুলিৎজার প্রসঙ্গেও নিজের দাবি সামনে আনলেন ট্রাম্প। তবে তাঁর এই মন্তব্য পুরস্কার নিয়ে ব্যক্তিগত আক্ষেপের প্রকাশ, নাকি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্ষোভেরই নতুন অধ্যায়—তা নিয়ে আলোচনা চলছেই।