বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতে (India) SIR প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ‘ভোটচুরি’র অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সঙ্গে ফ্রান্সের (France) সাম্প্রতিক হিংসাত্মক বিক্ষোভের যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করেছে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ়। ওই সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে ঘিরে বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়েছে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র চাপানউতোর। বিজেপির অভিযোগ, বিদেশি শক্তির মদতে ভারতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের দাবি, এসআইআর নিয়ে ওঠা প্রশ্ন থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতেই এই ধরনের অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।
‘ভোটচুরি’-র অভিযোগে ভারতের আন্দোলনের সঙ্গে রয়েছে ফ্রান্সের (France) বিক্ষোভের যোগসূত্র?
ফক্স নিউজ়ের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারত, ফ্রান্স (France), ইটালি-সহ বিশ্বের ১৩টি দেশের মোট ১০১টি সংগঠনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের যোগ রয়েছে বলে অভিযোগ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংগঠনগুলি সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ সংগঠিত করতে ভূমিকা নিচ্ছে। এই প্রসঙ্গে ‘ইন্ডিয়ান অ্যালায়েন্স প্যারিস’ (IAP) নামে একটি সংগঠনের কথা উল্লেখ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি। তাদের দাবি, ফ্রান্সে সাম্প্রতিক হিংসাত্মক বিক্ষোভ এবং ভারতে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলা আন্দোলনের মধ্যে সমন্বয় সাধন করছে ওই সংগঠন। পাশাপাশি, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, ছাত্র-যুব সংগঠন, কমিউনিস্ট ও সমাজতান্ত্রিক গোষ্ঠী এবং ধর্মীয় মৌলবাদী সংগঠনগুলির কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তথাকথিত ‘রেড-গ্রিন নেটওয়ার্ক’-এর পাশাপাশি নিউ ইয়র্ক ও সাংহাই-ভিত্তিক ধনকুবের নেভিল রয় সিংহমের অর্থপুষ্ট বামপন্থী নেটওয়ার্ক এবং ‘প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনাল’-এর দিকেও অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:M.Tech করেও চাকরির প্রতি অনীহা! ড্রাগন ফল চাষ করেই বছরে ২ কোটির ব্যবসা মহেশের
ফক্স নিউজ়ের এই প্রতিবেদনকে হাতিয়ার করেই কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, বিদেশি শক্তির সাহায্যে ভারতে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র চলছে। বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া সরাসরি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেন। রাহুলকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ এবং ‘দেশদ্রোহী’ বলে আক্রমণ করে তাঁর বিরুদ্ধে ভারতে অস্থিরতা তৈরির মডেল অনুসরণের অভিযোগ তোলেন তিনি। বিজেপির তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, ‘ইন্ডিয়ান অ্যালায়েন্স প্যারিস’ এবং ‘প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনাল’-এর সঙ্গে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে সনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর যোগাযোগ রয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলিকে স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার মতো তথ্য প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। ফলে বিদেশি সংগঠনগুলির সঙ্গে ভারতের আন্দোলনের প্রকৃত যোগসূত্র নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বিজেপির অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সরকার মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে জনগণের নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ভোটচুরির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলেও দাবি করেন তিনি। রমেশের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার ফলে ১০ কোটিরও বেশি ভারতীয় নাগরিকের সংবিধানপ্রদত্ত ভোটাধিকার বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং এসআইআর-এর ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আনার বিষয়টিও সামনে এনেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য ঘিরেও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষেই ফর্ম ৬-এর সঙ্গে ভোটারদের ঘোষণাপত্র জমা দেওয়ার শর্ত যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু গত ৬ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানায়, ফর্ম ৬-এ ওই পরিবর্তনের জন্য সুপ্রিম কোর্ট কোনও অনুমোদন দেয়নি। এই দুই বক্তব্যের ফারাককে কেন্দ্র করেই SIR প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। একদিকে বিদেশি সংগঠনের সঙ্গে আন্দোলনের যোগসূত্র নিয়ে বিজেপির অভিযোগ, অন্যদিকে ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে কংগ্রেসের প্রশ্ন—দুইয়ের সংঘাতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে ফক্স নিউজ়ের প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা জরুরি; অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে তথ্যের ভিত্তিতেই এই বিতর্কের নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন (France)।














