বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পুজোর মরশুম শেষ হলেই কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোট (Kolkata Municipal Election) ঘোষণা হতে পারে। তাই এখন থেকেই ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি ও তৃণমূল। দুই দলই নিজেদের মতো করে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যেই প্রার্থী দেওয়া নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। অন্যদিকে, কলকাতা ও হাওড়া দুই পুরসভাতেই নিজেদের শক্তিতে বোর্ড গড়ার দাবি করেছে বিজেপি। সব মিলিয়ে পুরভোটের আগে দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে।
Kolkata Municipal Election : ২০৯ ওয়ার্ডে প্রার্থী নিয়ে প্রশ্ন, পাল্টা জবাব বিজেপির
কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটের (Kolkata Municipal Election) প্রস্তুতি নিয়ে দুই দলের নেতাদের মধ্যে চলছে কথার লড়াই। তৃণমূল বিধায়ক তথা দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের দাবি, কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডে প্রার্থী দেওয়ার মতো লোক বিজেপির কাছে নেই। তাঁর কথায়, বিজেপিকে একসঙ্গে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে সমস্যা হবে। একাধিক তালিকা প্রকাশ করতে হতে পারে। শেষের দিকে দলবদল করা নেতাদের জন্যও জায়গা রাখা হতে পারে বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, মানুষ দলবদল করার জন্য বিজেপিকে ভোট দেননি। তাঁর দাবি, বিজেপি নিজের শক্তিতেই দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছে। তাই কলকাতা ও হাওড়া পুরসভাতেও (Kolkata Municipal Election) নিজেদের প্রতীকে লড়ে বোর্ড গড়ার ক্ষমতা রয়েছে দলের।
পুরভোটে প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন জমা নেওয়ার কাজও চলছে। বিজেপির তরফে ড্রপ বক্সের মাধ্যমে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। কলকাতা পুরভোটে দলের দায়িত্বে থাকা সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন জমা দেওয়া যাবে। ইমেল, ড্রপ বক্স বা অন্য কোনও মাধ্যমে ওই দিনের পর আর আবেদন নেওয়া হবে না। এই ব্যবস্থা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, বিজেপি শেষ পর্যন্ত সব ওয়ার্ডে প্রার্থী খুঁজে পাবে না।
সুকান্ত মজুমদার ও কুণাল ঘোষের মধ্যেও শুরু হয়েছে বাগ্যুদ্ধ। সুকান্ত বলেছেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আগে নিজের ওয়ার্ডে জিতে দেখানো উচিত। এর জবাবে কুণাল বলেন, সুকান্ত মজুমদারও একসময় নিজের ওয়ার্ডে হেরেছিলেন। তাই তাঁর এই ধরনের মন্তব্যের গুরুত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল বিধায়ক।
এদিকে, শনিবার শেষ হয়েছে পুরভোটের (Kolkata Municipal Election) প্রস্তুতি নিয়ে বিজেপির দু’দিনের বৈঠক। অন্যদিকে, তৃণমূলও প্রার্থী হওয়ার আবেদন জমা নেওয়ার জন্য ড্রপ বক্স চালু করেছে। সোমবার সেই আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন।
পুরভোট নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর দাবি, নতুন সরকারের উপর মানুষের ভরসা রয়েছে। ফলতা, রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের ফল তার প্রমাণ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। আগামী দিনে কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটেও মানুষ কার পাশে রয়েছেন, তা বোঝা যাবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। অন্যদিকে, কুণাল ঘোষের দাবি, গোপন ব্যালটে আস্থা ভোট হলে বিজেপি সরকারের আসনসংখ্যা ৮০ পার করবে না।
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এবার কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতা হারিয়েছে। প্রথমবারের জন্য সরকার গঠন করেছে বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে পুরভোটে (Kolkata Municipal Election) বিজেপির প্রার্থী তালিকায় কারা থাকবেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। তৃণমূলের টিকিটে জয়ী কোনও নেতা এবার বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়াবেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

আরও পড়ুনঃ বেসিক স্যালারির সঙ্গে জুড়বে DA? TOR-এ কী বলা আছে, বড় বার্তা কেন্দ্রের!
দীর্ঘদিন ধরে হাওড়া পুরসভায় ভোট হয়নি। এবার কলকাতা ও হাওড়ার পুরসভায় (Kolkata Municipal Election) ক্ষমতার পরিবর্তন হবে কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের ফল প্রকাশ পর্যন্ত।














