বাংলা হান্ট ডেস্ক : অবসরের পর সংসার চালানোর জন্য প্রতি মাসে বা নির্দিষ্ট সময় অন্তর কিছু টাকা হাতে পাওয়া অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য রয়েছে (Post Office Scheme) পোস্ট অফিসের সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম (SCSS)। নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা এই প্রকল্পে জমা রাখলে সুদের মাধ্যমে ভালো পরিমাণ আয় করা সম্ভব। তবে কত টাকা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে বিনিয়োগের অঙ্ক এবং প্রযোজ্য সুদের হারের উপর।
পোস্ট অফিসের এই স্কিমে (Post Office Scheme) কত সুদ?
অবসর জীবনে যাঁরা শেয়ার বাজারের ঝুঁকি এড়িয়ে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল আয়ের ব্যবস্থা করতে চান, তাঁদের জন্য এই সরকারি সঞ্চয় প্রকল্পটি বিবেচনা করার মতো। বর্তমানে এই প্রকল্পে বার্ষিক সুদের হার ৮.২ শতাংশ। পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় সরকারি নিয়মের অধীনে বিনিয়োগের সুরক্ষা পাওয়া যায়। তবে কোনও প্রকল্পেই বিনিয়োগ করার আগে তার শর্তাবলি ভালোভাবে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
এই প্রকল্পের মেয়াদ সাধারণত পাঁচ বছর। যোগ্য প্রবীণ নাগরিকরা এতে টাকা জমা রেখে নির্ধারিত সময় অন্তর সুদ পেতে পারেন। মেয়াদ শেষ হলে নিয়ম অনুযায়ী মূলধন ফেরত নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে মেয়াদ বাড়ানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। SCSS-এ ন্যূনতম ১,০০০ টাকা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। সর্বোচ্চ কত টাকা রাখা যাবে, তা নির্ভর করে অ্যাকাউন্টের ধরন এবং প্রযোজ্য নিয়মের উপর। বর্তমানে একক বা যৌথ অ্যাকাউন্টে মিলিয়ে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের সীমা ৩০ লক্ষ টাকা। তাই বড় অঙ্কের সঞ্চয় থেকে নিয়মিত সুদ পেতে চাইলে এই প্রকল্পের হিসাব বুঝে নেওয়া জরুরি।
বার্ষিক সুদের হার ৮.২ শতাংশ ধরে হিসাব করলে, ৩০ লক্ষ টাকার বিনিয়োগে এক বছরে সুদ দাঁড়ায় ২ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ, প্রতি তিন মাসে সুদের পরিমাণ হতে পারে ৬১,৫০০ টাকা। এই হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ বছরের মেয়াদে নির্ধারিত হারে সুদ পাওয়া গেলে মোট সুদের অঙ্কও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি হবে। মেয়াদ শেষে নিয়ম অনুযায়ী মূল বিনিয়োগের টাকা ফেরত পাওয়া যায়।
তবে এই হিসাবটি ৮.২ শতাংশ সুদের হার ধরে করা হয়েছে। সুদের হার পরিবর্তিত হলে পরবর্তী সময়ে প্রাপ্য অর্থের পরিমাণও বদলাতে পারে। নিয়মিত আয়ের পাশাপাশি মূল সঞ্চয়ের নিরাপত্তাকেও যাঁরা গুরুত্ব দেন, তাঁদের কাছে সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম একটি বিকল্প হতে পারে। তবে বিনিয়োগের আগে সব শর্ত বুঝে নিয়ে নিজের প্রয়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেই ভবিষ্যতের আর্থিক পরিকল্পনা সুদৃঢ় হবে ।