বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নদিয়ার শান্তিপুরের বিখ্যাত বামা কালী নাচ (Shantipur Bama Kali Dance) এবার আর পুরনো জায়গায় হবে না। ৫৬ বছর ধরে বড়বাজার মোড়ে যে নাচ চলে আসছিল, সেটা এবার সরে যাচ্ছে বেজপাড়া মাঠে। মন্দির থেকে মাত্র কয়েকশো মিটার দূরে এই নতুন স্থান। নেতাজি সুভাষ সংঘ আয়োজিত শ্রী শ্রী চরজিজিরা বামা কালী মাতা পুজোর এই বিশেষ আকর্ষণ এবার নতুন পরিবেশে উপস্থাপিত হবে।
বদলাচ্ছে নদিয়ার ৫৬ বছর পুরোনো শান্তিপুরের বামা কালীর নাচের স্থান
ভাবছেন হটাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত? আসলে গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকেই এই সিদ্ধান্ত। ২০২৫ সালে বড়বাজার মোড়ে ভিড় এত বেড়েছিল যে প্রায় বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পুলিশ তখন কমতে সামাল দিতে পেরেছে। এদিকে এবছর চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘনার পর মানুষ আরও বেশি আতঙ্কে রয়েছে। যদিও চোরবাগানের ঘটনার সঙ্গে এর কোনো যোগ নেই বলে স্পষ্ট করেছেন আয়োজকরা। দুর্গাপুজোর আগেই পুলিশ ও পুজো কমিটির বৈঠকে স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। চতুর্থীর দিন সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। ক্লাব সম্পাদক নিশান সাহা জানিয়েছেন, খোলা মাঠে আয়োজন করলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। প্রবেশ-প্রস্থান আর নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর রাখা হবে।
বামা কালী নাচের বিশেষত্ব হলো বিসর্জনের ঠিক আগে প্রতিমাকে বাঁশের মাচায় বসিয়ে নাচানো। প্রায় ৫০ জন প্রশিক্ষিত যুবক আর সমান সংখ্যক ক্লাব সদস্য মিলে এই কাজ করেন। মাচা কাঁধে নিয়ে তারা ছন্দে ছন্দে এগোতে থাকেন। দেখে মনে হয় যেন স্বয়ং মা বামা কালীই নাচছেন। হাজার হাজার ভক্ত এই দৃশ্য দেখতে জড়ো হন। গত কয়েক বছরে সোশ্যাল মিডিয়ায় মা কালীর নাচের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় এবছর দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বেড়েছে। শতাধিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর গতবার এই অনুষ্ঠান কভার করেছেন। তাই এবারেও এর ব্যতিক্রম হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ‘ঋতব্রত শিবির অফিসিয়ালি BJP-র বি-টিম!’, সংবাদ মাধ্যমের কাছে ক্ষোভ ফেটে পড়লেন কুণাল ঘোষ
বামা কালী পুজোর ইতিহাস
এই পুজোর ইতিহাস বেশ পুরনো, ১৯৬৯ সালে ঘটপুজো দিয়ে শুরু। পরের বছর থেকে প্রতিমা পুজো হয়ে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দা যমুনা চৌধুরীর স্বপ্নাদেশে এই আরাধনার সূচনা। প্রথমে যমুনা কালী নামে পরিচিত থাকলেও পরে বামা কালী নামেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিভাবে এই নামকরণ? উত্তরে জানা যাচ্ছে, বামা মানে বাঁ, শিবের বুকে বাঁ পা রেখে দাঁড়ানোর কারণেই এই নাম। শান্তিপুরের এই ঐতিহ্য এখন শুধু স্থানীয় নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে পরিচিত।
নতুন জায়গায় নাচ হলেও বিসর্জনের মূল রীতি একই থাকবে বলে জানানো হয়েছে। আয়োজকরা আশা করছেন, খোলা মাঠের সুবিধায় নিরাপদে মায়ের নাচ উপভোগ করতে পারবেন ভক্তরা। তাছাড়া প্রশাসনও বাড়তি নজরদারি রাখবে।














